• ২৬শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ১২ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ডিরেক্ট অফিসার্স এসোসিয়েশন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষফোড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত জুন ৬, ২০২৪, ০১:৪৩ পূর্বাহ্ণ
ডিরেক্ট অফিসার্স এসোসিয়েশন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষফোড়া

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ব্যতীত গুটিকয়েক কর্মকর্তা কতৃক “ডিরেক্ট অফিসার্স এসোসিয়েশন” নামে সংগঠন তৈরির হীন প্রচেষ্টার মাধ্যমে সৃষ্ট বিভ্রান্তি তৈরি করছে একটি মহল। আর এই বিভ্রান্তি দূর করতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় অফিসার্স এসোসিয়েশন আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেসক্লাব অনুষ্ঠিত হয়।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বাহাউদ্দিন গোলাপ লিখিত বক্তব্যে জানান, যেকোনো প্রতিষ্ঠানে কোনো পেশাজীবি সংগঠন গঠন করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। সেই নিয়ম মেনে গত ৪ জানুয়ারি ২০১২ তারিখে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য মহোদয়ের স্বাক্ষরিত কর্তৃপক্ষীয় অনুমোদনের মাধ্যমে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাদের সংগঠন “বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় অফিসার্স এসোসিয়েশন” এর যাত্রা শুরু হয়। একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করে কতৃপক্ষীয় অনুমোদনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে শিক্ষক সমিতি, অফিসার্স এসোসিয়েশন, কল্যাণ পরিষদ গ্রেড ১১-১৬ এবং কল্যাণ পরিষদ গ্রেড ১৭-২০ নামক মোট ৪ টি অনুমোদিত পেশাজীবি সংগঠন বিদ্যমান রয়েছে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট কর্মকর্তা সংখ্যা ১২৪। এই ১২৪ জন কর্মকর্তাই গঠনতন্ত্র অনুযায়ী অফিসার্স এসোসিয়েশন এর সদস্য। কিন্তু গুটিকয়েক কর্মকর্তা (যারা অফিসার্স এসোসিয়েশন এর বিগত নির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছে) গত ২ জুন “ডিরেক্ট অফিসার্স এসোসিয়েশন” নামক একটি সংগঠনের আত্মপ্রকাশ করেছে মর্মে বিভিন্ন গণমাধ্যমের মাধ্যমে জানতে পারি। তাদের ভাষ্যমতে যেসকল কর্মকর্তা সরাসরি কর্মকর্তা পদে অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করেছেন,তাদের নিয়ে এই সংগঠন। এক্ষেত্রে উল্লেখ করতে চাই যে, বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে ৭৬ জন কর্মকর্তা সরাসরি কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেছেন। অথচ তারা এই ৭৬ জন কর্মকর্তার অধিকাংশকেই না জানিয়ে সামান্য সংখ্যক কর্মকর্তা মিলে এই সংগঠন গঠন করেছেন যেখানে অধিকাংশ কর্মকর্তারই সম্মতি নেয়া হয়নি।আমরা মনে করি এজাতীয় হীন প্রচেষ্টা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কর্মকান্ড ব্যহত করবে।

এবিষয়ে উপাচার্যের সাথে আলোচনা করে আমরা জানতে পেরেছি যে, এই নামে কোনো সংগঠনের কর্তৃপক্ষীয় কোনো অনুমোদন তিনি প্রদান করেন নি। তিনি আমাদের আরও আশ্বস্ত করেছেন যে, খুব শীঘ্রই তিনি সবাইকে নিয়ে বসে এই সংকটের সমাধান করে দিবেন। কিন্তু খুবই বেদনা এবং উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি যে, তথাকথিত এই
“ডিরেক্ট অফিসার্স এসোসিয়েশন” এর নাম ব্যবহার করে গণমাধ্যমগুলোতে তারা সংবাদ পাঠাচ্ছেন এবং প্রকাশিত সংবাদ সোস্যাল মিডিয়ায় প্রচার করে যাচ্ছেন। এর ফলে সর্বত্র একটা বিভ্রান্তি তৈরি করা হচ্ছে।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটি যে মুহূর্তে দারুনভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, ঠিক সেই মুহূর্তেই এজাতীয় হীন উদ্যোগ এবং কর্মকাণ্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশকে অস্থির করে তুলছে। এমন বাস্তবতায় বাধ্য হয়েই সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে বলে জানান তারা।