• ২১শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ৭ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বক ও পানকৌড়ির বিষ্ঠার দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ রাবির মেয়েদের হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত জুন ৬, ২০২৪, ০৬:২৬ পূর্বাহ্ণ
বক ও পানকৌড়ির বিষ্ঠার দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ রাবির মেয়েদের হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা

রাবি সংবাদদাতা:
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মন্নুজান হল, তাপসী রাবেয়া হল, শেখ ফজিলাতুন্নেছা হল ও বেগম রোকেয়া হলের সামনের গাছগুলোতে কয়েকশ বক ও পানকৌড়ির বাস। এদের বিষ্ঠার গন্ধে অতিষ্ঠ হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা। অসুস্থ হচ্ছেন কেউ কেউ। হল প্রভোস্ট বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েও মেলেনি কোনো সমাধান। অনতিবিলম্বে কোনো ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

হলের শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, কয়েক মাস আগেও ওই অঞ্চলে সামান্য কিছু বক থাকলেও; হলের পাশের পুকুর ও বিলে পর্যাপ্ত খাবার থাকায় এদের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। হলের সামনে ও পিছনের রাস্তার চারদিকে এদের বিষ্ঠাতে ভরে উঠেছে। যার তীব্র দুর্গন্ধে রাস্তায় চলাচল করা কষ্টকর হয়ে পড়েছে। এমনকি হলের ভেতরে অবস্থান করাও দুরূহ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এ বিষয়ে নাট্যকলা বিভাগের রোকেয়া হলের আবাসিক শিক্ষার্থী সাদিকা হোসাইন বলেন, মানে কি বলবো আর। আমার বাড়ি থেকে এই মাত্র ফোন দিলো। রুমমেট ঘুমোচ্ছে। আমি বের হয়েছি কথা বলতে গন্ধে রুমে ফিরে এলাম। কথা বলতে পেলাম না। খুব জঘন্য এবং অসহনীয় গন্ধ। আজ অনেক দিন ধরে এই গন্ধের মধ্যে আমরা বাস করছি।

তিনি আরো বলেন, যারা গণরুমে থাকে তারা খুবই কষ্টে আছে। ওরা জ্বানালা খুলতেই পারে না। ওরা তো এমনিতেই কষ্ট করে থাকে, তার উপর আবার এসব বিষ্ঠার গন্ধে তারা আরো কষ্ট পাচ্ছে। গণরুমগুলোর পাশের গাছগুলোতে ওই পাখিদের আনাগোনা বেশি। ফলে সবসময় গন্ধ ছড়ায় গণরুমে। অনতিবিলম্বে এই বিষয়ে একটা ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। নতুবা আমরা অসুস্থ হয়ে যাব। এভাবে দুর্গন্ধময় পরিবেশে আমরা কীভাবে থাকব?

কথার এক পর্যায়ে হল প্রভোস্টের কাছে এই বিষয় নিয়ে লিখিত কোনো অভিযোগ জানানো হয়েছে কিনা জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, না আমরা হলের দৌরাত্মে তার পর্যন্ত যেতে পারিনি। হলের দায়িত্বে যারা আছেন বিষয়টা তাদের জানিয়েছি যেন প্রভোস্টকে জানানো হয়। তারা ঠিকঠাক কিছুই করেনি। আর তাদের আমরা ৪/৫ দিন ধরে বলেই যাচ্ছি।

জেসমিন নাহার নামের আরেক আবাসিক শিক্ষার্থী বলেন, এসব পাখিদের বিষ্ঠার গন্ধে প্রায় প্রায় মেয়েরা বমি করে। প্রভোস্ট ম্যামের কাছে অভিযোগ দিতে গিয়ে একজন বমি করে ফেলেছে। অনেকে বলল, বৃষ্টি হলে ঠিক হবে কিন্তু গতকাল বৃষ্টির পর আরো তীব্র গন্ধ ছড়িয়েছে। এই বিষয়ে দ্রুত সমাধান করা দরকার। এই তীব্র গন্ধের মাঝে আমরা শ্বাস নিতে পারছি না।

তাপসী রাবেয়া হলের আবাসিক শিক্ষার্থী আদিবা সুলতানা বলেন, আমি হলে উঠেছি অল্পকয়দিন হলো। হলের উঠার দিন থেকেই নাকে কেমন যেন তীব্র গন্ধ আসছিল। তখন বুঝতে পারিনি; পরে জানতে পারলাম এটা বকের বিষ্ঠার গন্ধ। এর কারণে রাস্তা দিয়ে চলাচল এবং রুমে বসে পড়াশোনা কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে।

এই বিষয় নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম সাউদের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব না। পাখিরা কিন্তু একটা সৌন্দর্য। ওদের হয়তো জায়গাটা ভালো লেগেছে যার কারণে ওরা ওখানে থাকছে। যদি কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয় তাহলে তারা ওখান থেকে চলে যাবে; আর আসবে না। এতে করে বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববৈচিত্র্য নষ্ট হবে। আমাদের উচিত এই বকদের যাতে কোনো ক্ষতি না হয় সে দিকে নজর দেওয়া।