মোবারক হোসেন রুবেল,
ধর্মপাশা (সুনামগঞ্জ)প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার সেলবরষ ও পাইকুরাটি ইউনিয়নের মধ্যবর্তী শৈলচাপড়া হাওরে ট্রলারডুবিতে নিহত শিক্ষার্থীদের স্মরণে গতকাল শনিবার (৮জুন) পৃথক শোক সভা ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
জানা গেছে, ২০১০সালের ৮জুন সকালে উপজেলার শৈলচাপড়া হাওরে ঝোড়ো বাতাসের কবলে পড়ে ট্রলারডুবিতে উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের বালিজুড়ী গ্রামের শিশু, নারী ও শিক্ষার্থীসহ ১৬জনের প্রাণহানি ঘটে। এদের মধ্যে বাদশাগঞ্জ পাবলিক হাইস্কুলের (বর্তমানে বাদশাগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ) তিনজন ও বাদশাগঞ্জ পাবলিক বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পাঁচজন শিক্ষার্থী ছিল।
বাদশাগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও বাদশাগঞ্জ পাবলিক বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত শিক্ষার্থীদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় শনিবার বাদজোহর স্থানীয় বাদশাগঞ্জ বাজারের তিনটি জামে মসজিদে ওই দুটি বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। একইদিন বাদ আসর বালিজুড়ী গ্রামবাসীর উদ্যোগে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বালিজুড়ী গ্রাম জামে মসজিদে মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া ওইদিন বেলা আড়াইটার দিকে ওই দুটি বিদ্যালয়ের মিলনায়তনে পৃথক শোক সভা অনুষ্ঠিত হয়। বাদশাগঞ্জ পাবলিক বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো.নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত শোক সভায় বক্তব্য দেন সহকারী প্রধান শিক্ষক মো.নূরুল ইসলাম, সহকারী শিক্ষক আবদুর রাজ্জাক, বিজন কুমার বর্মন, বিশ্বজিৎ রায় প্রমুখ। অপরদিকে বাদশাগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত শোক সভায় বক্তব্য দেন সহকারী শিক্ষক হাবিবুর রহমান লিটন, সাহেরা আনার, মো.তরিকুল হক, নিখিল চন্দ্র সূত্রধর প্রমুখ।
ট্রলার ডুবিতে নিহত শিক্ষার্থীর স্বজনেরা জানান, ৮জুন এলেই সারা গ্রাম জুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। আমরা এইদিনটির কথা কোনোদিন ভুলতে পারব না। ট্রলার ডুবি ঘটনার ১৪বছর হলেও এখনো এই দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিহত শিক্ষার্থীদের স্মরণে কোনো স্মৃতিফলক নির্মাণ করা হয়নি। দ্রুত ওই দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিহত শিক্ষার্থীদের স্মরণে স্মৃতি ফলক নির্মাণের জোর দাবি জানাচ্ছি।
বাদশাগঞ্জ পাবলিক বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো.নজরুল ইসলাম ও বাদশাগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ খলিলুর রহমান বলেন, ট্রলারডুবিতে নিহত শিক্ষার্থীদের স্মরণে বিদ্যালয় দুটিতে পৃথক স্মৃতি ফলক নির্মাণের জন্য বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় বিষয়টি আমরা উত্থাপন করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দীন বলেন, ওই দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিহত শিক্ষার্থীদের স্মরণে স্মৃতি ফলক নির্মাণ কাজে অর্থ বরাদ্দের জন্য লিখিত আবেদন পেলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। #
০৮.০৬.২০২৪