• ২৬শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ১২ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ঈদকে সামনে রেখে ব্যস্ততায় ঘুম নেই আগৈলঝাড়ার কামারপাড়ায়।

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত জুন ১৩, ২০২৪, ০৭:০৭ পূর্বাহ্ণ
ঈদকে সামনে রেখে ব্যস্ততায় ঘুম নেই আগৈলঝাড়ার কামারপাড়ায়।

আহাদ তালুকদার (আগৈলঝাড়া)

ঈদকে সামনে রেখে দিন যতই যাচ্ছে, ততই বাড়ছে কামার শিল্পীদের ব্যস্ততা। কোরবানি ঈদে গরু, ছাগল, মহিষ, উট কোরবানির পশু হিসেবে জবাই করা হয়। ঈদের দিন সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত কোরবানির পশু জবাই চলে। এসব পশুর গোশত কাটতে দা-বঁটি, ছুরি, ধামা, চাপাতি ইত্যাদি ধাতব হাতিয়ার অপরিহার্য। যেহেতু কোরবানির পশু কাটা-কাটিতে চাই এসব ধারালো অস্ত্র। তাই তো কামাররা এখন এসব তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
কারো চোখে ঘুম নেই। দিন-রাত সমান ভাবে কাজ করছে তারা। কামারীদের হাতুরি আর লোহার টুংটাং শব্দে মুখরিত এখন আগৈলঝাড়ার কামারের দোকান গুলো।

কোরবানীর ঈদের আর মাত্র কিছুদিন বাকি ইতিমধ্যেই কোরবানির গরু জবাইয়ের জন্য বিভিন্ন চাপাতি, কুড়াল, দা ,বটি , ছোট চাকু সহ নানা জিনিষ তৈরিতে ভিড় জমাচ্ছে। কুরবানীর আগে এসব উপকরন হাতের কাছে না থাকলেই নয়। সেগুলো প্রস্তুত ও সংগ্রহ রাখতে এখন সবাই ব্যস্ত। আর অনেকের পুরোনো জিনিষগুলো শান দিতে কামারের দোকানে ভির জমাচ্ছে নগরীর লোকজন।

সরেজমিনে ঘুওে দেখা গেছে, পয়সারহাট,আগৈলঝাড়া,রাজিহার,গৈলা,সাতলা বাজার সহ বিভিন্ন এলাকার অলিগলিতে অবস্থিত কামারের দোকান গুলো তারা ব্যস্ত সময় পাড় করছেন। একের পর এক ক্রেতা দোকানে এসে ভির করছে। ফলে সকাল দুপুর ও রাতের বেলায়ও হরদমে কাজ চলে। দা ও বটিতে শান দিতে আসা রাজিহারের বাসিন্দা মামুন, দুটি দা ও একটি বটি শান দিতে দুইশত টাকা লেগেছে। যা অন্যসময় এর মূল্য ছিল ১শ টাকা। তবুও যেহেতু কোরবান দিবো তাই যা চাইছে তাই দিয়ে শান দিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। ক্রেতাদের অভিযোগ, এ বছর এসব সরঞ্জামের দাম অনেক বেশি রাখা হচ্ছে।

কামারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ শিল্পের প্রধান উপকরণ লোহা, ইস্পাত ও কয়লার দাম বেড়ে যাওয়ায় কামাররা এখন বিড়ম্বনায় পড়েছেন। সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, দূর থেকেই পাওয়া যাচ্ছে হাপরের হাঁসফাঁস আর হাতুড়ি পেটায় শব্দ। লোহায় হাতুড়ি পেটায় ছড়াচ্ছে স্ফুলিঙ্গ। সেখানে যেন নেই কোনো দিন-রাত; অবিরাম চলছে কাজ আর কাজ।

কামাররা জানান, বছরের ১১ মাসে তাদের ব্যবসা হয় একরকম আর কোরবানির ঈদের আগের এক মাসে ব্যবসা হয় আরেক রকম। কয়েকজন কামারের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, স্প্রিং লোহা (পাকা লোহা) ও কাঁচা লোহা সাধারণত এ দুই ধরনের লোহা ব্যবহার করে এসব উপকরণ তৈরি করা হয়। স্প্রিং লোহা দিয়ে তৈরি উপকরণের মান ভালো, দামও বেশি। আর কাঁচা লোহার তৈরি উপকরণগুলোর দাম তুলনামূলকভাবে কম। ব্যবহার করা হয় এঙ্গেল, রড, স্টিং, রেললাইনের লোহা, গাড়ির পাত ইত্যাদি। অনেকে লোহা কামারদের কাছে এনে বিভিন্ন জিনিস তৈরি করে। এর মজুরিও লোহাভেদে নির্ধারণ করা হয়।

বেশিরভাগ কামারদের কাছ থেকেই লোহা কিনে বিভিন্ন জিনিস তৈরি করে বা রেডিমেট বানানো জিনিস নিয়ে যায়। ব্যবসায়ীরা জানান, লোহার মানভেদে একটি দা ৪০০ থেকে ৭০০ টাকা (পাকা লোহা), আর কাঁচা লোহার দা ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। পশুর চামড়া ছাড়ানোর ছুরি ১০০ থেকে ৩৫০, পশু জবাইয়ের বিশেষ ছুরি ৫০০ থেকে ৩ হাজার, কুড়াল ৬০০ থেকে ১১শ, বঁটি ৩০০ থেকে ৮০০, চাপাতি ৫০০ থেকে দেড় হাজার টাকায় বিক্রি হয়। তবে দেশীয় এসব দা-বঁটির পাশাপাশি অনেকে আবার চীন থেকে আমদানি করা বিভিন্ন আকারের ছুরি-চাপাতিও ক্রয় করছে।