• ২১শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ৭ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বরগুনার আমতলীতে বৌভাত অনুষ্ঠানের আনন্দ পরিণত হলো বিষাদে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত জুন ২৩, ২০২৪, ০৩:০৪ পূর্বাহ্ণ
বরগুনার আমতলীতে বৌভাত অনুষ্ঠানের আনন্দ পরিণত হলো বিষাদে

মোঃ সোহাগ হাওলাদার, বরগুনা
বরগুনার আমতলী উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়ন ও চাওড়া ইউনিয়নের সঙ্গে একটি ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজ ভেঙে কনেযাত্রীবাহী ১টি মাইক্রোবাস, ১টি অটোরিকশা ও ১টি মোটরবাইক  খালে পড়ে যায়। এঘটনায়  ঘটনা স্থলেই ৯ জনের মৃত্যু হয়। মরদেহ উদ্ধার করে আমতলী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হলে স্বজনদের আহজারিতে বাতাস ভারি হয়ে ওঠে। মাইক্রোবাসে থাকা ১৪ জনের ৯ জনই মারা যান। এদের মধ্য ৭ জন নারী ২টি মেয়ে শিশু ছিলো। মৃতরা হলেন, রুবিয়া (৪৫), স্বামী রফিকুল হােওলাদার,  রাইতি খান(২২), ফাতেমা (৩৫),
তাহিরাত মেজবিন (৭), ফরিদা বেগম(৪৮),স্বামী মৃত ফজলুর রহমান, তাসফিয়া মুবাচ্ছেরা (১২), শাহনাজ আক্তার(৩৫), স্বামী আবুল কালাম আজাদ, এরা হলেন মাদারী পুরের শিবচরের বাসিন্দা। আর জাকিয়া(৩৫), স্বামী জহিরুল ইসলাম, গ্রাম হলদিয়া এবং রুকাইদ ইসলাম(৪১) , পিতা জহিরুল ইসলাম তক্তাবুনিয়া, আমতলী।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, হলদিয়ানিবাসী মাসুম বিল্লাহর মেয়ে মোসাম্মত হুমায়রাকে বিবাহ দেন আমতলী পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের সেলিম হায়দারের ছেলে সাইফুল ইসলাম সোহাগের নিকট। শুক্রবার ২১ জুন ২০২৪ কনে পক্ষ অনুষ্ঠান করে মেয়েকে তুলে দেন। শনিবার ছেলের বাড়িতে বৌভাত অনুষ্ঠানে দাওয়াত পেয়ে কনে পক্ষ যাচ্ছিলো বর সাইফুলের বাড়িতে। পথিমধ্যে হলদিয়া ও চাওড়া ইউনিয়নের মধ্যদিয়ে প্রবাহিত খালের উপর একটি পুরাতন  আয়রন ফুট ব্রিজের উপর দিয়ে কনের বাড়ির মেহমানদের নিয়ে মাইক্রোবাসটি যাওয়ার সময় ব্রিজটি ভেঙে খালে পড়ে যায়। এতে ৭ জন নারী ২ জন মেয়ে শিশু ঘটনাস্থলেই মারা যান। স্থানীয়দের ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে উদ্ধার করে ৯ জনের মরদেহ আমতলী স্বাস্ব্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

প্রত্যক্ষদর্শী দেলোয়ার গাজী জানান, বেলা দুটোর দিকে হঠাৎ করে একটা শব্দ পেয়ে আমি ঘটনা স্থলে ছুটে যাই। সেখানে দেখা যায় একটা মাইক্রোবাস, একটা মোটরবাইক ও একটা অটোরিকশা ব্রিজ ভেঙে খালে পড়ে আছে। অটোরিকশার যাত্রী ও মাইক্রোবাসের পুরুষ যাত্রীরা বের হতে পারলেও বের হতে পারেনি নারী ও শিশু যাত্রীরা। এলাকার লোকজন ছুটে এসে উদ্ধার কাজে নেমে মরদেহকটি উদ্ধার করেন।

আমতলী ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যার ইনসপেক্টর আব্দুল হানিফ জানান, বেলা ১. ৫৮ মিনিটের সময় স্থানীয়দের ফোন পেয়ে আমরা ঘটনা স্থলে ছুটে গিয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় ৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করে আমতলী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসি। এবং আমাদের উদ্ধার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

এ বিষযে আমতলী পৌরসভার মেয়র মতিয়ার রহমান জানান, আমতলীর ইতিহাসে সবথেকে দুঃখজনক ঘটনা এটি। মৃতদের মধ্যে ৭ জনই ছিলেন কনে বাড়িতে বেড়াতে আসা মাদারিপুরের শিবচরের বাসিন্দা। বাকি দুজন ছিলেন আমতলীর। মরদেহ নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।