মেহেন্দিগঞ্জ প্রতিনিধি।।
কলেজে আদায় করা অতিরিক্ত ফি থেকে ডিসি, এডিসি, ইউএনও এবং ট্যাগ অফিসারদের সম্মানি পাঠাতে হবে,
এভাবেই প্রশাসনকে নিয়ে ঔদ্ধত্যপূর্ণ কথা বলেছেন বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জের সরকারি রসিক চন্দ্র (আর সি) কলেজ এর ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শহীদুল ইসলাম। এ নিয়ে একাধিকবার ভাইরাল হলেন তিনি। গতকাল সোমবার দুপুর আনুমানিক ১টার সময় ডিগ্রি ২য় বর্ষের এক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে পরীক্ষায় প্রবেশপত্র বাবদ অধ্যক্ষ ৫০০ টাকা চাইলে, জবাবে শিক্ষার্থী বলেন, আমি যদি ৫০০ টাকা দিয়ে এডমিট কার্ড না নিতে পারি, এমন প্রশ্নের জবাবে ওই শিক্ষার্থীর উদ্দ্যশে অধ্যক্ষ শহীদুল ইসলামকে বলতে শুনা যায়, সেটা তোমার বিষয়, শিক্ষার্থী, যাদের অ্যাভিলিটি নেই? জবাবে অধ্যক্ষ বলেন, যারা গরীব তারা দিয়ে গেছে, রিক্সাওয়ালার পোলা দিয়ে গেছে, যারা ধনী, সামর্থ্যবান তারা যুদ্ধ করে প্রিন্সিপালকে কিভাবে হেনস্তা করা যায়, তুমি যে এন্ড্রয়েড ফোন ব্যবহার করো, আমি ছাত্র থাকা অবস্থায় কল্পনাও করতে পারিনাই, তুমি গরীব হলে কোথা থেকে, আমার উপর দায় চাপায়, আমার বেতনের টাকা দিয়ে তোমাদের দেনাপাওনা শোধ করতে পারবোনা, আমারতো সংসার আছে, আমারে ২১ দিনের ট্রেনিংয়ে নিয়ে আমারে ৫৩ হাজার টাকা দিয়েছে, আমার খরচ হয়েছে ১ লাখ টাকা। এখান থেকে ডিসি, ইউএনও এবং ট্যাগ অফিসারদের সম্মানি পাঠাতে হবে। তার এমন কথায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দেয়। মঙ্গলবার (২৫জুন) সকালে বিক্ষুব্দ শিক্ষার্থীরা বিতর্কিত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শহীদুল ইসলাম এর পদত্যাগের দাবীতে কলেজের সামনে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকেন, পরে মেহেন্দিগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে ছাত্রদের শান্ত করেন, মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ রাজিব হোসেন পরিস্ত্রিতি পর্যবেক্ষন করতে কলেজে আসেন। শিক্ষার্থী এবং কলেজের শিক্ষকদের সাথে কথা বলেন তারা। অনার্স ৪র্থ বর্ষের ছাত্র আসাদ বলেন, আমাদের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অযোগ্য এবং অদক্ষ, তিনি বিভিন্ন সময় বিতর্কিত বক্তব্য দিয়েছেন, আমাদের থেকে অতিরিক্ত ফি নিয়ে তিনি ডিসি, এডিসি, ইউএনওদের সম্মাননা পাঠান, তিনি কলেজের গাছ ও পুকুর মাছ ভোগ করেছেন। কলেজ এর প্রভাষক এস এ শাহীন বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবীর প্রেক্ষিতে প্রিন্সিপাল পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র ফ্রী করে দেন। সকল শিক্ষার্থী প্রবেশপত্র ফ্রী গ্রহণ করতে পারবেন।কলেজে গিয়ে উপ অধ্যক্ষকে পাওয়া যায়নি।