• ২৬শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ১২ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

অনিয়মের কারণে ব্রিজটির এই অবস্থা- দাবী এলাকাবাসীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত জুন ২৬, ২০২৪, ০৮:০৫ পূর্বাহ্ণ
অনিয়মের কারণে ব্রিজটির এই অবস্থা- দাবী এলাকাবাসীর

আসাদুল ইসলাম, গাইবান্ধা

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে বেলকা ঘাট এলাকায় তিস্তার শাখা নদীর ওপর নির্মাণাধীন কাঠের সেতুর একটি অংশ দেবে গেছে।জনপ্রতিনিধিদের গাফিলতি ও অনিয়মের কারণে ব্রিজটির এই অবস্থা বলে দাবি করেন এলাকাবাসী।

সোমবার (২৪ জুন) রাতে সেতুর মাঝখানে চারটি সিসি পিলার দেবে যায়।উপজেলার বেলকা ও হরিপুর ইউনিয়নের চরবাসির স্বপ্ন যেন স্বপ্নই থেকে গেল।

ঝুঁকিপূর্ণ কাঠের সেতুর ওপর দিয়ে লোকজন চলাচল করছেন। তাঁরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপার হচ্ছেন। শিশুরা সেতু থেকে লাফিয়ে নদীতে পড়ে গোসল করছে। নদীতে স্রোত বাড়লেই সেতুটি আরও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঠিকাদার ও দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীর গাফিলতিতে সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই মাঝখানের অংশ দেবে গেছে।অনিয়মের মধ্যে দিয়ে শুরু হয় ব্রিজটির নির্মাণ কাজ।

এলাকাবাসী জানায়, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় লোকজন সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বেলকা ইউনিয়নের বেলকা ঘাট থেকে নৌকাযোগে নদী পারাপার হতেন। দুই পাশের ইউনিয়নের মানুষের যোগাযোগের মাধ্যম ছিল একমাত্র নৌকা। স্থানীয় জনগণের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বেলকা ঘাট এলাকায় একটি কাঠের সেতু নির্মাণ করে এলজিইডি। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) অর্থায়নে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় এটি বাস্তবায়ন করে।

কাগজপত্র এবং তথ্যের ভিত্ত্বিতে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ৩০ জুন ব্রিজটির নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। ২০০ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ৬ মিটার প্রস্থের সেতুটি নির্মাণে ৩০ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়।অথচ রহস্যজনক কারণে চলতি বছরের জানুয়ারী মাসে ব্রিজটি নির্মাণ কাজ শুরু করেন ঠিকাদার সাগীর খান। কংক্রিটের খূুঁটির উপর কাঁঠের পাটাতন বসানো হলেও এখন পর্যন্ত দেয়া হয়নি রেলিং।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্র জানায়, ২০২২ সালের আগস্ট মাসে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০২৩ সালের মে মাসে শেষ হওয়ার কথা। । ২০২২-২৩ অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) থেকে এই টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কাজের দায়িত্ব পায় গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ছানা এন্টারপ্রাইজ।

এ পর্যন্ত সেতুর নির্মাণকাজ প্রায় ৯০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। সিসি পিলারের ওপর দুই পাশে ঢালাই দেওয়া হয়। সেতুর পাটাতনে সিমেন্টের স্ল্যাবের পরিবর্তে কাঠ দেওয়া হয়েছে। সেতুর দুই পাশে নিরাপত্তামূলক প্রাচীর দেওয়া হয়নি। প্রায় চার ফুট উচ্চতার পিলার দেওয়া আছে। এ অবস্থায় সেতুর ওপর দিয়ে স্থানীয় লোকজন যাতায়াত শুরু করেন। সাইকেল ও রিকশা পারাপার হতে থাকে।

হরিপুর চরের স্কুল শিক্ষক আব্দুল জলিল মিয়ার জানান, ব্রিজটির নির্মাণ কাজ দেখে অনেক আশাবাদী ছিলাম চলতি বছরে আর নৌকা দিয়ে পার হতে হবে না। সেটি হল না, নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ও স্টিমিট প্লান মোতাবেক কাজটি না করায় বন্যার পানিতে খুঁটি দেবে গিয়ে তা ভেঙে গেল। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের গাফিলতি ও অনিয়মের কারণে ব্রিজটির এই অবস্থা দাবী চরবাসির।

বেলকা ইউপি চেয়ারম্যান ইব্রাহিম খলিলুল্যাহ বলেন, দুর্ভোগ লাঘবে কাজটি শেষ করার জন্য বারবার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ইঞ্জিনিয়ার ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন কোনো কথাই শোনেন না। এই মুহূর্তে ব্রিজটি দেবে যাওয়ায় স্থানীয়সহ আশপাশের এলাকার প্রায় কয়েক হাজার মানুষের দুর্ভোগ আবার বেড়ে গেল। তিনি আরও জানান, এটা দুঃখজনক। সরকারি অর্থের অপচয় করার জন্য বাস্তবায়নকারীদের শাস্তি দাবি ও করেন তিনি।

ঠিকাদার সাগীর খান বলেন, এই প্রকল্পটির মুল ঠিকাদার গাইবান্ধার ছানা মিয়া। সাব-ঠিকাদার হিসেবে সে এই কাজটি শুরু করে। কাজ শেষ না হতেই বন্যা শুরু হয়। তিস্তার নদীতে খরস্রোতের কারণে খুঁটির নিচ হতে মাটি সরে গিয়ে খুঁটি দেবে গেছে।

উপজেলা প্রকৌশলী মো. আব্দুল মান্নাফ শুরুতেই দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, এটি তার আমলের নয়। তিনি সবেমাত্র যোগদান করেছেন। তার দাবি স্টিমিট প্লানটি ভুল ছিল। তিস্তার শাখানদীর ওপর কাঁঠের ব্রিজ নির্মাণের জন্য যেভাবে ডিজাইন করার দরকার ছিল সেটি করা হয়নি। এই মহুত্বে কিছু করার নাই।ব্রিজটি পথচারীদের চলাচল জন্য এখন সম্পূর্ণরুপে ঝুঁকিপূর্ণ বলেও দাবি করেন উপজেলা প্রকৌশলী মো. আ্ব্দুল মান্নাফ।

উপজেলা নিবার্হী অফিসার মো. তরিকুল ইসলামের জানান, এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। ব্রিজটি এমন দশার জন্য কে দায়ী, তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।