• ২৬শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ১২ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গোপালগঞ্জে শিক্ষকের অপসারনের দাবীতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত জুন ২৭, ২০২৪, ১০:৪৬ পূর্বাহ্ণ
গোপালগঞ্জে শিক্ষকের অপসারনের দাবীতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

স্টাফ রিপোর্টার, গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় ছাত্রীর সাথে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন ও পালিয়ে বিয়ে করার অভিযোগ এনে গোপালপুর পঞ্চপল্লী উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে শিক্ষার্থীরা।

আজ বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) দুপুরে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলা গোপালপুর পঞ্চপল্লী উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে এ বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুরে বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় সাগর বাড়ৈকে পাঠদান থেকে বিরত রাখা ও বিদ্যালয়ের বেতন ভাতা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

জানগেছে, টুঙ্গিপাড়া উপজেলার গোপালপুর পঞ্চপল্লী উচ্চ বিদ্যালয়ের বাংলার সহকারী শিক্ষক সাগর বাড়ৈ তার এক ছাত্রীর সাথে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। ইদুল আজহার পরের দিন ওই ছাত্রীকে নিয়ে পালিয়ে যায়। ২৩ জুন সে গোপনে ওই ছাত্রীকে বিয়ে করে। এ নিয়ে এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়। ২৬ জুন বিদ্যালয় খোলার পর ওই শিক্ষক বিদ্যালয়ে আসলে তার অপসারনের দাবিতে শিক্ষার্থীরা প্রধান শিক্ষক বরাবর একাধিক লিখিত অভিযোগ করে। তারা এসময় ক্লাস বর্জনের হুমকি দেয়।

পরে আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের সমানে অবস্থান নিয়ে ওই শিক্ষকের অপসারনের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করে। পরে অন্যান্য শিক্ষকরা আশ্বাস দিলে বিক্ষোভ কর্মসূচী প্রত্যাহার করে শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলনকারী ওই বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী দীপ্ত সেন বলে, বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সাগর বাড়ৈ এই বিদ্যালয়ের একজন ছাত্রীর সাথে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন। ১০ দিন আগে ওই ছাত্রীকে নিয়ে পালিয়ে যায়। এর আগেও প্রাইভেট পাড়ানোর কথা বলে তার বিরুদ্ধে একাধিকবার ছাত্রীদের অনৈতিক প্রস্তাব ও যৌন হয়রানীর অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে এলাকায় আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

একই বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী সোহাগ বালা বলেন, আমরা যাদের পিতার আসনে বসিয়েছি তারা কিভাবে এ ধরনের কাজ করতে পারে? আমরা যার কাছে শিক্ষা নিবো তিনি যদি দু:চরিত্রবান হয় তাহলে আমাদের বোনদের নিরাপদ কোথায়? আমরা ওই শিক্ষকের অপসারন চাই।

অভিভাবক মহাদেব সেন বলেন, আমার সন্তানকে বিদ্যালয়ে দিয়ে নিশ্চিন্তে থাকি। কিন্তু শিক্ষকদের এ ধরনের কার্যকলাপে আমরা উদ্বিগ্ন। ওই শিক্ষকের কারনে বিদ্যালয় ও এলাকার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। ওই শিক্ষক বিদ্যালয়ে থাকলে আমরা আমাদের ছেলে-মেয়েদের বিদ্যালয় পাঠাবো না।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাপস কুমার বাড়ৈ বলেন, এই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সাগর বাড়ৈ এনটিআরসির মাধ্যমে ১২ ফেব্রুয়ারী ২০১৯ সালে যোগদান করেন। তিনি বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে থাকতেন এবং সেখানে শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়াতেন। এক বছর আগে তার বিরুদ্ধে এ ধরনের একটি অভিযোগ ওঠে। এবার তিনি ছাত্রীকে নিয়ে পালিয়ে বিয়ে করেছেন বলে শুনেছি। এরপর থেকে আমার সাথে আর কোন যোগাযোগ রাখেনি। গতাকল পাঁচটি শ্রেণী থেকে শিক্ষার্থীরা তার অপসারের দাবিতে পৃথকভাবে আবেদন করেছে।

তিনি আরো বলেন, ওই শিক্ষক বিদ্যালয়ে আসলে তাকে ক্লাস করতে দেয়া হয়নি। তিনি একটা ছুটির আবেদন দিয়ে অনুপস্থিত রয়েছেন। বৃহস্পতিবার আমরা বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের নিয়ে সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সিদ্ধান্ত হয় সাগর বাড়ৈকে পাঠদান ও বিদ্যালয়ের বেতন ভাতা স্থগিত করা হয়েছে।

বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি সুশেন সেন বলেন, শিক্ষক সাগর বাড়ৈ একই সাথে দু’টি অপরাধ করেছে। একটি হলো ছাত্রীর সাথে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন অপরটি হলো বাল্য বিবাহ। আমরা নৈতিকভাবে এ দায় এড়াতে পারি না। আমি ব্যক্তিগতভাবে ওই শিক্ষকের শাস্তি দাবি করছি।

এ বিষয়ে শিক্ষক সাগর বাড়ৈকে তার মুঠোফোন বার বার কল দিলে তিনি তা রিসিভ করনি।

টুঙ্গিপাড়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মঈনুল হক বলেন, ওই বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও মধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সাথে এ বিষয়ে কথা বলবো। একই সাথে কোন শিক্ষকের বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলনজনিত কারনে অভিযোগ উঠলে আমরা তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে অবহিত করবো। #