স্টাফ রিপোর্টার, গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জে মাথায় পচা ডিম ভেঙ্গে শেখ ফজিলাতুন্নেছা সরকারি মহিলা কলেজের বাংলা বিভাগের সহকারি অধ্যাপক মৃনাল বিশ্বাসকে লঞ্ছিত করা হয়েছে। জেলা শহরের সরকারি বঙ্গবন্ধু কলেজ ক্যাম্পাসে সোমবার সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটেছে।
এ ঘটনায় কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর সেখ বেনজীর আহমেদের নেতৃত্বে শিক্ষকরা রাতেই এক জরুরী সভা করেছেন। এ সভা থেকে তারা দোষীদের অনতিবিলম্বে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন।
শেখ ফজিলাতুন্নেছা সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ সেখ বেনজীর আহমেদ বলেন, সরকারি বঙ্গবন্ধু কলেজের বিএ অনার্স পরীক্ষা শেখ ফজিলাতুন্নেছা সরকারি মহিলা কলেজে কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গত ১২ জুন ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ‘আধুনিক মুসলিম রাষ্ট্রের ইতিহাস’ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষা চলাকালে ৩/৪ জন শিক্ষার্থী দেখাদেখি ও কথা বলাবলি করে পরীক্ষা দিচ্ছিল। তখন ৪০৮ নং কক্ষের দ্বায়িত্বে ছিলেন শিক্ষক মৃনাল বিশ্বাস। তিনি তাদের বার বার সতর্ক করার পরেও ওই শিক্ষার্থীরা শিক্ষকের সাথে তর্কে জড়িয়ে পরে। পরে শিক্ষক তাদের খাতা নিয়ে যাবেন বলে জানায়। এ ঘটনার পর থেকে তারা ক্ষিপ্ত ছিল।
সেমবার চতুর্থ বর্ষের অনার্স পরীক্ষা শেষ হয়েছ। কলেজের কাজ শেষ করে শহরের উদয়ন রোডের বাসায় যাচ্ছিলেন শিক্ষক মৃনাল বিশ্বাস। তিনি বঙ্গবন্ধু কলেজে ক্যাম্পাসের অডিটোরিয়াম সড়কে পৌঁছামাত্র তাকে পেছন থেকে আঘাত করে তার মাথায় পচাডিম ভাঙ্গা হয়। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। সেই সাথে এ ঘটনার সাথে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। ১২ জুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটানো হতে পারে বলে আমরা সন্দেহ করছি।
লাঞ্ছিত কলেজ শিক্ষক মৃনাল বিশ্বাস বলেন, আমি বঙ্গবন্ধু কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশের পর অডিটোরিয়াম রোডে ওৎপেতে থাকা কয়েকজন আমাকে পেছন থেকে আঘাত করে। তারপর ২ জন আমাকে চেপে ধরে। অন্যরা মাথায় পচা ডিম ভেঙ্গে দিয়ে তারা পালিয়ে যায়। ধারনা করছি গত ১২ জুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটানো হতে পারে। এ ঘটনায় ওই শিক্ষার্থীরা জড়িত বলে আমি ধারণা করছি। আমি এ ব্যাপারে থানায় রাত সাড়ে ১১ টার দিকে একটি অভিযোগ দায়ের করেছি।
গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসি মোহাম্মদ আনিচুর রহমান বলেন, শিক্ষকরা থানায় এসেছেন। তারা অভিযোগ দিয়েছেন। তার মুখ থেকে ঘটনার বর্ণনা শুনেছি। এ ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। #