• ২৬শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ১২ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শিশুরাই হবে আসল স্মার্ট, তারাই দেশ চালাবে-গোপালগঞ্জে প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত জুলাই ৬, ২০২৪, ১১:১৮ পূর্বাহ্ণ
শিশুরাই হবে আসল স্মার্ট, তারাই দেশ চালাবে-গোপালগঞ্জে প্রধানমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার, গোপালগঞ্জ : এখন থেকে সবাইকে সেভাবেই প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, আমরা স্মার্ট বাংলাদেশ গড়বো। ভবিষ্যতে শিশুরাই স্মার্ট বাংলাদেশ গড়বে। শিশুরাই হবে আসল স্মার্ট, তারাই দেশ চালাবে। আমরা একসময় চাঁদেও যাবো, সবাইকে এখন থেকে সেভাবেই প্রস্তুতি নিতে হবে, পড়াশোনা করতে হবে।

আজ শনিবার (৬ জুলাই) গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় গিমডাঙ্গা টুঙ্গিপাড়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘বঙ্গবন্ধু কর্নার’ উদ্বোধন ও ‘এসো বঙ্গবন্ধুকে জানি’ অ্যালবামের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।

সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানিয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা আরো বলেন, এই উদ্যোগের ফলে ছোট শিশুরা স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং মুক্তিযুদ্ধের অর্জন সম্পর্কে জানতে পারবে। আমাদের দুর্ভাগ্য ’৭৫ এর পর ইতিহাস মুছে ফেলার চেষ্টা হয়েছে। মানুষের জানা উচিত কীভাবে স্বাধীনতা পেলাম। স্বাধীনতার পর যে কাজগুলো সেগুলোও জানতে হবে। জাতির পিতা ছোটবেলা থেকেই সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করেছেন। মানুষের জন্য তার আলাদা দরদ ছিল।

সরকার প্রধান বলেন, বঙ্গবন্ধু নিজের সুখ-শান্তি দেখেননি, মানুষের জন্যই কাজ করেছেন। লক্ষ্য ছিল কীভাবে মানুষকে উন্নত জীবন দেবেন, কীভাবে ছোট্ট শিশুরা সুন্দর জীবন পাবে। ছোট সোনামণিদের জন্য দোয়া রইলো।

দুই দিনের সফরের দ্বিতীয় দিনে আজ শনিবার (৬ জুলাই) সকাল ১০ টা ৫০ মিনিটে টুঙ্গিপাড়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসময় স্কুলের শিক্ষার্থীরা জাতীয় পতাকা দিয়ে স্বাগত জানায় এবং শিক্ষার্থী লাবণ্য ও মোহাইমিন ফুল দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করে নেয়। বেলা ১১টার দিকে ‘বঙ্গবন্ধু কর্নার উদ্বোধন ও এসো বঙ্গবন্ধুকে জানি’ শীর্ষক অ্যালবামের মোড়ক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসময় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করেন। অনুষ্ঠানে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন টুঙ্গিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মঈনুল হক। এরপর শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বঙ্গবন্ধু কর্নার উদ্বোধন করে গিমাডাঙ্গা টুঙ্গিপাড়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের নিয়ে বঙ্গবন্ধু কর্নারে জাতির পিতার স্মৃতিবিজরিত ছবি দিয়ে সাজানো গ্যালারী পরিদর্শন করেন। শেখ হাসিনা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং তাদের খোঁজ খবর নেন ও কিছুক্ষণ সময় কাটান।

সেখান থেকে বেলা সাড়ে ১১টায় টুঙ্গিপাড়া শেখ রাসেল পৌর শিশু পার্ক পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। এসময় তিনি পার্কটি ঘুরে দেখেন। এরপর বেলা ১২টার দিকে টুঙ্গিপাড়া মাল্টিপারপাস পৌর সুপার মার্কেট পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। এসময় তিনি পৌর মার্কেটটি ঘুরে দেখেন এবং মার্কেটির সৌন্দেয্যের প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এসময় প্রধানমন্ত্রীর চাচা শেখ কবির হোসেন, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলির সদস্য কাজী আকরাম উদ্দিন আহমদ, বাগেরহাট-০১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ হেলাল উদ্দিন, খুলনা-০২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ সালাহ উদ্দিন জুয়েল, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নাজমা আক্তার, প্রধানমন্ত্রীর আসনের উন্নয়ন প্রতিনিধি মো. শহীদ-উল্লা-খন্দকার, ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার মো. সাবিরুল ইসলাম, ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি সৈয়দ নূরুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক কাজী মাহবুবুল আলম, পুলিশ সুপার আল-বেলী আফিফা, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহাবুব আলী খান ও সাধারন সম্পাদক জি এম সাহাব উদ্দিন আজম, টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান মো. বাবুল শেখ, পৌর মেয়র শেখ তোজাম্মেল হক টুটুল, গিমাডাঙ্গা-টুঙ্গিপাড়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মেহেদী হাসানসহ দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

পরে কর্মসূচী শেষ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজ বাড়ীতে অবস্থান করেন। সেখান থেকে পূর্ব নির্ধারিত সফরসূচি সংক্ষিপ্ত করে দুপুর ১ টা ৪৪ মিনিটে সড়ক পথে ঢাকার উদ্দেশ্যে সড়ক পথে টুঙ্গিপাড়া ত্যাগ করেন।

এরআগে সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গোপালগঞ্জের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান। পরে তিনি ফাতেহা পাঠ করেন ও জাতির পিতা এবং ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট গণহত্যার অন্যান্য শহীদদের বিদেহী আত্মার চির শান্তি কামনা করে সেখানে মোনাজাতে যোগ দেন। শেখ হাসিনা ও তার ছোট বোন শেখ রেহানা এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু এবং দেশের অব্যাহত শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করে দোয়া করা হয়। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী টুঙ্গিপাড়ায় তাঁর দাদা শেখ লুৎফর রহমান ও দাদি শেখ সাহেরা খাতুনের কবরেও দোয়া করেন।

এর আগে, এর আগে নিজস্ব অর্থায়নে দেশের সবচেয়ে বড় পদ্মা সেতু প্রকল্পের সমাপনী অনুষ্ঠানের পর শুক্রবার (৫ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টায় সেতু পার হয়ে গোপালগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী। সন্ধ্যায় ৭টা ৪৫ মিনিটে টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধি সৌধ কমপ্লেক্সে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। পরে ৭টা ৫১ মিনিটে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধি সৌধ বেদিতে পুস্পমাল্য অপর্ণ করে গভীর শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসময় কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন তিনি। পরে বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের শহীদ সদস্যদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করেন। পরে রাতে তিনি নিজ বাস ভবনে অবস্থান করেন। #