বরগুনা জেলা প্রতিনিধি:
বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলায় পূর্ব শত্রুতার জেরে শহিদুল ইসলাম হাওলাদার (৫৫) ওরফে পিলার শহিদ নামে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষরা।
শনিবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শহিদুল ইসলামের মৃত্যু হয়। এর আগে রাত সাড়ে দশটার দিকে পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানি ইউনিয়নের জ্ঞানপাড়া এলাকার একচল্লিশ ঘর নামক স্থানে শহিদুল ইসলামের উপর হামলার ঘটনা ঘটে। নিহত শহিদুল ইসলাম হাওলাদার জ্ঞানপাড়া এলাকার মৃত বাহার আলী হাওলাদারের ছেলে। তিনি পেশায় জেলে ছিলেন ।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পাথরঘাটা থানার ওসি আল মামুন।
নিহত শহিদুল ইসলাম হাওলাদার একই এলাকার মৃত বাহার আলী হাওলাদারের ছেলে। পেশায় জেলে।
নিহত শহিদের স্ত্রী ও স্বজনরা আমেনা জানান, রাত দশটার দিকে জ্ঞানপাড়ার বান্দাঘাটা এলাকায় প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করে বাড়িতে আসার পথে জাকির বিশ্বাসের ছেলে রুবেল বিশ্বাস(২৫),মন্নান বিশ্বাসের ছেলে নাসির বিশ্বাস(৩৫), নুরু মল্লিকের ছেলে আব্বাস মল্লিক(৪০) সহ ৫/৬ জন পথিমধ্যে পেয়ে কুপিয়ে রাস্তায় ফেলে যায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় রাত দেড়টার দিকে পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসি।
পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. রাশিদা তানজুম হেনা জানান, রাত দেড়টার দিকে শহিদুল ইসলামকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। তার শরীরে অসংখ্য ধাড়ালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। এছাড়াও পায়ের রগ কাটা ছিল। প্রচুর রক্তক্ষরণের ফরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত দুইটার দিকে তার মৃত্যু হয়।
নিহত শহিদুল ইসলামের ছোট ভাই নাসির হাওলাদার ও ইসমাইল হাওলাদার জানান, পাথরঘাটা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই তাকে খুন করা হয়েছে। এর আগেও নির্বাচনী জের ধরে জাকির বিশ্বাস, নাসির বিশ্বাস, রুবেল বিশ্বাস, সোবহান বিশ্বাস, মুসা, ইসা, সোহেল বিশ্বাস, সোহেল, বাবু, আবুল, আলাউদ্দিন, আরাফাত সহ বেশ কয়েকজন মিলে কয়েকদিন আগে নিহত শহিদের মেয়ে তানিয়ার ঘর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মৃত শহীদ কর্তৃক পূর্বেই থানায় মামলা রয়েছে। বর্তমানে মামলা চলমান আছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সদ্য শেষ হওয়া উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চরদুয়ানি ইউনিয়নের দক্ষিণ চরদুয়ানি, এক চল্লিশ ঘর, বান্দাঘাটা, জ্ঞানপাড়া এলাকায় বেশ কয়েকদিন ধরে উত্তেজনা বিরাজ করছে। শহিদকে হত্যার ঘটনায় এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পড়েছে এবং থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ।
এ বিষয়ে পাথরঘাটা থানার ওসি আল মামুন জানান, কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। তাৎক্ষণিক পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে সুরতহাল রিপোর্ট লেখা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।