মোবারক হোসেন রুবেল,
ধর্মপাশা প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের বাদশাগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ও উপজেলার ধর্মপাশা সদর ইউনিয়নের ধর্মপাশা হেলিপ্যাড মাঠে চলমান কোটা সংস্কারের দাবি ও দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আয়োজনে পৃথক দুটি কর্মসূচিতে পুলিশের পক্ষ থেকে বাধা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আজ বুধবার (১৭জুলাই) সকাল ১০টা থেকে সকাল পৌনে ১১টার মধ্যে এই ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ছবি ও ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করতে গেলে দৈনিক খোলা কাগজ পত্রিকার ধর্মপাশা উপজেলা প্রতিনিধি মহিউদ্দিন আরিফের মোবাইল ফোনটি কেড়ে নেয় ধর্মপাশা থানার একজন পুলিশ ছিনিয়ে নেয় পুলিশ। আধঘণ্টা মোবাইল ফোনটি রাখার স্থানীয় কয়েকজন গণমাধ্যম কর্মীরা বিষয়টি নিয়ে ওসির কাছে জানতে চাইলে ধর্মপাশা থানার ওসির হস্তক্ষেপে মোবাইলটি ফেরত পান ওই সাংবাদিক।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার ধর্মপাশা সরকারি ডিগ্রি কলেজ মাঠে কোটা যৌক্তিক সংস্কার ও শিক্ষার্থীদের ওপর অতর্কিত হামলার প্রতিবাদে সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ ধর্মপাশার ব্যানারে আজ বুধবার সকাল নয়টার দিকে বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করা হয়। সকাল পৌনে নয়টা থেকেই মিছিলের অংশগ্রহণের জন্য সাধারণ শিক্ষার্থীরা ধর্মপাশা সরকারি ডিগ্রি কলেজ মাঠে এসে জড়ো হলে পুলিশ সেখানে উপস্থিত থাকায় স্থান পরিবর্তন করেন শিক্ষার্থীরা। সকাল পৌনে ১০টার দিকে ধর্মপাশা উপজেলা সদরের হেলিপ্যাড মাঠে শতাধিক শিক্ষার্থী জড়ো হন। সকাল ১০টার দিকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করলে ধর্মপাশা থানার একদল পুলিশ এতে বাধা দেয়। পুলিশের পক্ষ থেকে বাধা দেওয়া হয়। পরে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল না করেই সেখান থেকে চলে যান। অপরদিকে উপজেলার বাদশাগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে চলমান কোটা সংস্কারের এক দফা দাবি ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর ন্যাক্কারজনক হামলার প্রতিবাদে সাধারণ ছাত্র সমাজ বাদশাগঞ্জের ব্যানারে আজ বুধবার সকাল ১০টার দিকে মানবন্ধন ও ছাত্র সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সকাল সাড়ে নয়টা থেকে শুরু করে সকাল ১০টা বেজে ২৫মিনিট পর্যন্ত বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ুয়া দুই শতাধিক শিক্ষার্থী বাদশাগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জড়ো হন। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তাঁরা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। আমার সোনার বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নাই, কোটা না মেধা, মেধা মেধা, আমার ভাই মরলো কেন জবাব চাই,জবাব চাই বলে স্লোগান দেন। মিছিলটি বেলা পৌনে ১১টার দিকে উপজেলার বাদশাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের সামনের সড়কে যাওয়া মাত্রই ধর্মপাশা থানার একদল পুলিশ এতে বাধা দেন। পরে আন্দেলনরত শিক্ষার্থীরা বাদশাগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন। এতে বক্তব্য দেন শিক্ষার্থী জহিরুল ইসলাম,রিফাত হাসান ওরফে জনি, আজহারুল ইসলাম ওরফে শান্ত প্রমুখ।
ধর্মপাশা থানা পুলিশ জানায়, কোটা সংস্কারের দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে পুঁজি করে একটি পক্ষ অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করার পায়তারা করছে। তাই যে কোনো ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা করার ভেবে পুলিশের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থী আজহারুল ইসলাম শান্ত বলেন, এই আন্দোলন রাষ্ট্র বা সরকারের বিপক্ষে নয়। এটি অধিকার আদায়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন। আমরা চাই কোটা সংস্কার হোক, মেধাবীদের মূল্যায়ন হোক। পুলিশের বাধার কারণে আমরা আমাদের কর্মসূচি সংক্ষিপ্ত করেছি। তবে তাঁরা আশ্বাস দিয়েছেন আমাদের যৌক্তিক দাবিটি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তাঁরা পৌঁছে দেবেন।
হানিফ আহমেদ নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, ধর্মপাশা হ্যালিপেড মাঠ থেকে আমরা সকাল ১০টার দিকে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ মিছিল বের করতে গেলে পুলিশের বাধায় তা করা করতে পারিনি। আমরা আমাদের দাবিতে অনঢ় আছি এবং থাকব।
দৈনিক খোলা কাগজ পত্রিকার ধর্মপাশা উপজেলা প্রতিনিধি মহিউদ্দিন আরিফ বলেন, আমি গলায় সাংবাদিকতার পরিচয়পত্র ঝুলিয়ে ধর্মপাশার হ্যালিপেড মাঠে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ছবি ও ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করতে গেলে ওসির নির্দেশে আমার মোবাইল ফোনটি একজন পুলিশ কেড়ে নেয়। সাধারণ শিক্ষার্থীরা চলে যাওযার পর স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিক ঘটনাস্থলে এসে ঘটনাটি জানতে চাইলে ওসির উপস্থিতিতে মোবাইল আমার কাছে ফেরত দেওয়া হয়।
ধর্মপাশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.শামসুদ্দোহা বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের কোটা সংস্কার আন্দোলনের নামে যাতে অন্য কোনোপক্ষ কোনো ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটাতে পারে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যাতে স্বাভাবিক থাকে, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবিটি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হবে এই বিষয়গুলো শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে বলার পর শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করে আন্দোলত শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ বাড়ি চলে গেছেন। তিনি আরও বলেন, একটি পক্ষ ছবি তুলে ও ভিডিও করে মিথ্যা অপপ্রচার চালায়। তাই এটি রোধ করতে এক ব্যক্তির মোবাইল ফোন নিয়েছিল পুলিশ। তিনি যে সাংবাদিক তা তিনি পরিচয় দেননি। সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর মোবাইল ফোনটি ফেরত দেওয়া হয়েছে।#
১৭.০৭.২০২৪