স্টাফ রিপোর্টার, গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় বিশিষ্ট সাংবাদিক, কলামিস্ট, বাম রাজনীতির পুরোধা, মুক্তিযোদ্ধা ও লেখক নির্মল সেনের ৯৪তম জন্মদিন পালিত হয়েছে। নির্মল সেন স্কুল এন্ড মহিলা কলেজ ও নির্মল সেন স্মৃতি সংসদ যৌথভাবে এ আয়োজন করে।
আজ শনিবার জেলা পরিষদ হলরুমে নির্মল সেন স্কুল এন্ড মহিলা কলেজের সভাপতি সাংবাদিক রতন সেন কংকনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় শেখ হাসিনা সরকারি আদর্শ মহাবিদ্যালয়ে সহকারী অধ্যাপক কবি মিন্টু রায়, সাংবাদিক মিজানুর রহমান বুলু, এইচ এম মেহেদী হাসানাত, জাহিদুল ইসলাম, মনিরুজ্জামান শেখ জুয়েল, সমীর রায়, সুশান্ত বর্নিক, সুজিৎ মৃধা, সংগীত শিল্পী নির্ঝর চক্রবর্তী, সজল বালা বক্তব্য রাখেন।
সাংবাদিক মিজানুর রহমান বুলু বলেন, নির্মল সেন একজন নির্লোভ, সৎ ও সাহসী সাংবাদিক ছিলেন। তিনি কোন দিন অন্যায়ের সাথে আপোষ করেননি। তার লেখায় কোটালীপাড়ায় অনেক উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে। নির্মল সেন কোটালীপাড়ার অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার সাথে জড়িত ছিলেন। আমাদের সকলের উচিত নির্মল সেনের নামে প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির উন্নয়নে সকলের এগিয়ে আসা।
১৯৩০ সালের ৩ আগষ্ট তিনি গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার দিঘীরপাড় গ্রামে এক সম্ভ্রন্ত পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তার পিতার নাম সুরেন্দ্রনাথ সেন গুপ্ত। মাতার নাম লাবন্য প্রভা সেন গুপ্ত। পাঁচ ভাই ও তিন বোনের মধ্যে নির্মল সেন ছিলেন পঞ্চম।
নির্মল সেনের স্কুল জীবনে ’ভারত ছাড়ো’ আন্দোলনের মাধ্যমে রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়। ১৯৬১ সালে দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার মধ্যে দিয়ে নির্মল সেন তার সাংবাদিক জীবন শুরু করেন। তিনি বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ছিলেন। লেখক হিসেবেও নির্মল সেনের যথেষ্ট সুনাম রযেছে। তার লেখা “পূর্ব পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ,” “মানুষ সমাজ রাস্ট্র”, “বার্লিন থেকে মষ্কো”, “মা জন্মভূমি”, “স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি চাই”, “আমার জীবনে ৭১এর যুদ্ধ”, “আমার জবান বন্ধি” উল্লেখ যোগ্য।
নির্মল সেন ২০০৩ সালে ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। এর পর দেশে বিদেশে অনেক চিকিতসার পরে ২০১৩ সালে ৮ জানুয়ারি পরলোকগমন করেন। নির্মল সেনের শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী তার মরদেহ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে দান করা হয়েছে। #