• ২১শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ৭ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

টুঙ্গিপাড়ায় পালন করা হবে বঙ্গবন্ধর শাহাদাৎ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত আগস্ট ১৪, ২০২৪, ১২:৫৭ অপরাহ্ণ
টুঙ্গিপাড়ায় পালন করা হবে বঙ্গবন্ধর শাহাদাৎ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস

ষ্টাফ রিপোর্টার, গোপালগঞ্জ : এবার এক ভিন্ন প্রেক্ষাপটে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় পালন করা হবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৯ শাহাদাৎ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ও বোন শেখ রেহানা দেশের বাইরে থাকলেও অন্যান্যবারের তুলনায় এবার জাতির পিতার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদনসহ ব্যাপকভাবে পালন করবে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এর মাধ্যমে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার পথ সুগম হবে বলে মনে করছেন নেতাকর্মীরা।

বিগত বছরগুলোতে সরকারীভাবেই গোপালগঞ্জ টুঙ্গিপাড়ায় পালন করা হতো জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাৎ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস। এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ও বোন শেখ রেহানা। তবে ৫ আগষ্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশত্যাগ করেন শেখ হাসিনা ও বোন শেখ রেহানা। যে কারনে এবার পিতা ও পরিবারের সদস্যদের মৃত্যু দিবসে উপস্থিত থাকতে পারছেন না। এমনিকি এবার প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে শোক দিবসের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

জেলা আওয়ামী লীগ সূত্রে জানাগেছে, সরকারীভাবে শাহাদাৎ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালনের উদ্যোগ না নেয়ায় স্থানীয়রা স্ব-উদ্যোগে সমাধি সৌধের মূল স্তম্ভ, বঙ্গবন্ধু ভবনে করছেন পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন ও শোভাবর্ধনের কাজ। শাহাদাৎ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবসে সকাল ৬টায় জেলা আওয়ামী লীগ কায্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের পর বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্যে দিয়ে দিবসটির সূচনা করা হবে। এরপর সকাল সাড়ে ১০টায় টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধি সৌধ বেদিতে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে পুস্পস্তবর্ক অর্পণ করে গভীর শ্রদ্ধা জানানো হবে। কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের পর জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগসহ সহযোগী সংগঠন, সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ বিভিন্ন সংগঠন এবং মুজিব প্রেমীরা শ্রদ্ধা জানাবেন।

এরপর বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের শহীদ সদস্যদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাত করবে আওয়ামী লীগ ও সহযোগ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। বঙ্গবন্ধু সমাধি সৌধ কমপ্লেক্স মসজিদে আয়োজন করা হয়েছে মিলাদ মাহফিল। জেলা ও উপজেলা জুড়ে আয়োজন করা হয়ে আলোচনা সভা ও কাঙ্গালী ভোজের। জাতীয় শোক দিবসে বন্ধ থাকবে জেলার সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।

গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নিউটন মোল্যা জানান, বিগত বছরের মত এবারও জাতীয় শোক দিবস পালনের জন্য নানা উদ্যোগ নিয়েছে জেলা ছাত্রলীগ। সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদনসহ খাবার বিতরনের আয়োজন করা হয়েছে।

টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক মো: বাবুল শেখ বলেন, আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা এ দিনটিতে ছোট বোন শেখ রেহানাকে সাথে নিয়ে পিতার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানায়। কিন্তু তিনি দেশের বাইরে থাকায় এবার টুঙ্গিপাড়ায় থাকতে পারছেন না। সরকারী ভাবে পালন না হলেও আমরা নানা কর্মসূচী নিয়েছি। ইতিমধ্যে সমাধি সৌধ কমপ্লেক্স পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করে প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। উপজেলার পৌরসভা, ইউনিয়ন, প্রতিটি ওয়ার্ডে বঙ্গবন্ধুর ভাষন প্রচার করা হবে। সমাধিতে শ্রদ্ধা জানানোসহ দোয়া ও মোনাজা করা হবে। আয়োজন করা হয়েছে কাঙ্গালী ভোজের।

গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহাবুব আলী খান বলেন, শাহাদাৎ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবসে সকাল ৬টায় জেলা আওয়ামী লীগ কায্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের পর বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্যে দিয়ে দিবসটির সূচনা করা হবে। এরপর সকাল সাড়ে ১০টায় টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধি সৌধ বেদিতে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে পুস্পস্তবর্ক অর্পণ করে গভীর শ্রদ্ধা জানানো হবে। কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের পর জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগসহ সহযোগী সংগঠন, সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ বিভিন্ন সংগঠন এবং মুজিব প্রেমীরা শ্রদ্ধা জানাবেন। জাতীয় শোক দিবসে শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে আন্দোলনে মাধ্যেমে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানাকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে বলেও কিনি মনে করেন। #