• ২৫শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ১১ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

টানা বৃষ্টিতে বীজতলা পচে যাওয়ায় বরগুনায়  আমন চাষে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত আগস্ট ২১, ২০২৪, ০৩:৫৬ পূর্বাহ্ণ
টানা বৃষ্টিতে বীজতলা পচে যাওয়ায় বরগুনায়  আমন চাষে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা

বরগুনা জেলা প্রতিনিধি:
টানা বৃষ্টিতে বীজতলা পচে যাওয়ায় আমন চাষাবাদে বড় রকমের লোকসানের আশঙ্কায় বরগুনার কৃষক। পুরো শ্রাবণ মাস জুড়ে টানা বৃষ্টিতে ধানক্ষেতে জলবদ্ধতার কারণে পচে যায় কৃষকের বীজতলা। বার বার ধানের বীজ বপন করেও ধানের চারা তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছে কৃষক। তাই এবছর ব্যাহত হবে আমন ধান উৎপাদন। বরগুনার কৃষি বিভাগের উপপরিচালক ড. আবু সৈয়দ মো. জোবায়দুল আলম জানিয়েছেন, এবছর ৯৯ হাজার পাঁচশত হেক্টর জমিতে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। তবে অতি বৃষ্টির ফলে প্রায় ৩ শত হেক্টর জমির বীজতলা সম্পূর্ণরূপে নষ্ট হয়ে গেছে।

বরগুনার ছোট লবনগোলা গ্রামের কৃষক ইলিয়াস বলেন, প্রতিবছর ধানে বাম্পার ফলন উপহার দেয়া বরগুনায় এবার ধান উৎপাদন ব্যর্থ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

টানা বৃষ্টিতে এবার আমন চাষাবাদে ব্যাপক লোকসানের আশঙ্কা করছে কৃষক। তিন থেকে চার বার বীজতলা করেও অতিবৃষ্টির কারণে পচে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করতে পারেনি। এখনো অধিকাংশ জমিতে বীজতলা পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। শুধু তাই নয়, বর্তমানে উৎপাদিত যে ফসলটি ঘরে তুলবে তাও অতিবৃষ্টির কারণে চিটা হয়ে গেছে।

শুধু বীজতলাই নয়, এবার গ্রীষ্মকালীন সবজি, যেমন লাউ, ঝিঙে, রেখা, কাচা মরিচসহ বিভিন্ন সবজি ক্ষেত বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় সবজি চাষেও এবার লোকসান গুণছেন কৃষকরা। বরগুনার পূর্ব হাজার বিঘা গ্রামের সবজি চাষী মন্টু আকন বলেন, উচ্চমূল্যের বীজ ও চারা বার বার রোপণ করেও পচনের হাত থেকে শেষ রক্ষা করতে পারেনি তারা। পুনরায় কিনে যে বীজ ও চারা লাগাবো সে সামর্থও আমাদের নেই। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ফারুক হোসেন বলেন, স্মরণকালের সবথেকে বেশি বৃষ্টি হচ্ছে এবছর। এমন বৃষ্টি কখনো দেখিনি।তবে সরকার যদি আমাদের কিছু সাহায্য করতো তাহলে আমরা ক্ষতি কিছুটা হলেও পুষিয়ে নিতে পারতাম।

কৃষি কর্মকর্তা বলেন, বীজতলার সাথে সাথে শাক-সবজিরও বেশ ক্ষতি হয়েছে। বরাবরই ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পরবর্তী বছরে সার ও বীজ দিয়ে কৃষি প্রণোদনার মাধ্যমে আমরা সহযোগিতা করে থাকি।