গত রবিবার ২৫/০৮/২৪ ইং তারিখে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সমাজবিজ্ঞান বিভাগের উদ্যোগে বন্যার্ত মানুষের সেবায় ‘ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচি’ সম্পন্ন হলো । দিনব্যাপী এই কর্মসূচিতে ৮ জনের একটি টিম সরাসরি মাঠ পর্যায়ে উপস্থিত ছিলো। তাদের মধ্যে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের দু’জন শিক্ষক (অত্র বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান জমশেদুর রহমান এবং একই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. শামীম হামিদী) এবং একই বিভাগের বিভিন্ন বর্ষের ছয়জন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন । ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচীকে সুন্দরভাবে বাস্তবায়য়ের জন্য বিভাগের শিক্ষার্থীবৃন্দ ফান্ড গঠনের জন্য নিরলস পরিশ্রম করেছেন ।
সমাজবিজ্ঞান বিভাগ মূলত দুর্গম এলাকায় বন্যার্ত পরিবারের মধ্যে সহযোগিতা পৌছে দেয়ার চেষ্টা করেছেন ।গত শনিবার রাতে শিক্ষার্থীদের সহায়তায় প্যাকেজিং কাজ শেষ করে।অতপর তারা রাত ১ ঘটিকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন যোগে ফেনীর উদ্দেশ্যে রওনা দেন । এই ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচি সম্পর্কে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান জমশেদুর রহমান বলেন, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের স্বত:স্ফুর্ত অংশগ্রহনের মাধ্যমে বন্যার্ত মানুষের পাশে আমরা সামর্থ্য অনুযায়ী দাঁড়াতে পেরেছি । আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করেছি অল্প করে হলেও দুর্গম এলাকায় মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছিয়ে দিতে এবং কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে। তিনি আরও বলেন, বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে। ফলে একদিকে যেমন বড় নৌকা নিয়ে দুর্গম এলাকাগুলোতে যাওয়া যাচ্ছে না, অন্যদিকে রয়েছে ছোট নৌকার অপ্রতুলতা। এজন্য দুর্গম এলাকার মানুষের কাছে পৌঁছানো কষ্টসাধ্য ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে । তদুপরি, পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাবও দিন দিন বাড়ছে ।
[contact-form][contact-field label=”Name” type=”name” required=”true” /][contact-field label=”Email” type=”email” required=”true” /][contact-field label=”Website” type=”url” /][contact-field label=”Message” type=”textarea” /][/contact-form]
বিশেষ করে চলমান এই সংকটময় মুহূর্তে বন্যার্ত মানুষের পাশে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের প্রতি সমাজবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন ।
টিমের অন্য শিক্ষক, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক, ড. শামীম হামিদী জানান, দেশ ও জাতির সংকটকালীন মুহূর্তে সবসময় চেষ্টা করি মানুষের পাশে দাঁড়াতে। এরই ধারাবাহিকতায় সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের প্রচেষ্টায় বন্যার্ত মানুষের কাছে ছুটে গিয়েছিলাম । তিনি আরও বলেন, পানিবন্দী মানুষের জন্য এখন যেমন আমরা সকালে কাঁধে কাধ মিলিয়ে কাজ করছি। একইভাবে তাদের পুনর্বাসনের জন্যও আমাদের কাজ করতে হবে ।
সকলের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে ড. শামীম হামিদী বলেন, যারা অনভিজ্ঞ তারা হুট করে ত্রান নিয়ে বন্যার্ত এলাকায় যাবেন না বরং বিশ্বস্ত কোন সংগঠনের মাধ্যমে আপনার সহযোগিতা পাঠিয়ে দিতে পারেন ।
ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচির অভিজ্ঞতা সম্পর্কে ৩য় বর্ষের রাকিব চৌধুরী নামে একজন শিক্ষার্থী জানিয়েছেন যে, এতকাল পাঠ্যবইয়ে বন্যার্ত মানুষের দুঃখ দুর্দশা সম্পর্কে পড়েছি । এবার মাঠ পর্যায়ে গিয়ে বন্যার্ত মানুষের জীবন কতটা ভয়াবহ হয় তা বাস্তবিক অর্থে অনুধাবন করতে পেরেছি ।
পরিশেষে,এমন মহৎ কাজের সার্বিক তত্বাবধায়নে ছিলো ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সমাজবিজ্ঞান বিভাগ । এতে সকল শিক্ষক-শিক্ষাক্ষীর পাশাপাশি বিভিন্ন পেশার মানুষের আন্তরিক সহযোগিতা ও অংশগ্রহণ অনস্বীকার্য ।