স্টাফ রিপোর্টার, গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জের মধুমতি নদীতে ইঞ্জিন চালিত ট্রলার ও বালু বোঝাই বাল্ব হেডের সঙ্গে ধাক্কা লেগে ট্রলার ডুবির ২১ ঘন্টা পর শফিকুর রহমান লালন নামে এক ব্যক্তি মরদেহ উদ্ধার করেছে খুলনা ফায়ার সার্ভিসের একটি ডুবরি দল।
আজ বুধবার বিকাল ৩টার দিকে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার জয়নগর খেয়াঘাটের মধুমতি নদীতে ডুবে যাওয়া ট্রলার থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার জয়নগর খেয়াঘাটের মধুমতি নদীতে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
খুলনা ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরী দলের লিডার মো. সাইদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিখোঁজ শফিকুর নড়াইল জেলার নড়াগাতি থানার রামপুরা গ্রামের শহর আলী মোল্যার ছেলে। সে গোপালগঞ্জে হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্টে চাকুরী করেন।
স্থানীয়রা জানান, ২৫ জন যাত্রী নিয়ে একটি ইঞ্জিন চালিত ট্রলার সদর উপজেলার জয়নগর খেয়াঘাট থেকে নড়াইল জেলার নড়াগাতি থানার জয়নগর গ্রামে পারাপার হচ্ছিলো। এসময় ট্রলারটি মাঝ নদীতে পৌঁছালে অপর দিক থেকে আসা বালু বোঝাই একটি বাল্বহেডের সঙ্গে ধাক্কা লাগলে যাত্রীবাহী ট্রলারটি ডুবে যায়। এসময় ট্রলারের চালকসহ ২৪ যাত্রী সাঁতরে ও এলাকাবাসীর সহায়তায় পাড়ে উঠতে সক্ষম হলেও শফিকুর রহমান লালন নিখোঁজ হন।
পরে খবর পেয়ে আজ বুধবার সকালে খুলনা ফায়ার সার্ভিসের একটি ডুবরি দল ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধার কাজ শুরু করে। তবে মধুমতি নদীতে প্রচন্ড স্রোত থাকায় উদ্ধার কাজ ব্যহত হলেও বিকাল ৩টার দিকে ডুবে যাওয়া ট্রলারটি উদ্ধার করা হয়। পরে উদ্ধারকৃত ট্রলার থেকে শফিকুর রহমান লালনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরো জানান, মরদেহ উদ্ধারের পর নিহতের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তারা মরদেহ নিয়ে শফিকুর রহমান লালনের বাড়ীতে গিয়ে গেছেন।
প্রতক্ষ্যদর্শী বিপ্লব সাখারু বলেন, সন্ধ্যায় ইঞ্জিন চালিত ট্রলার ও বালু বোঝাই বাল্ব হেডের সঙ্গে ধাক্কা লেগে ট্রলার ডুবে যায়। এতে অন্যান্য যাত্রীরা উপরে উঠতে পারলেও শফিকুর রহমান লালন নামে এক ব্যক্তি নিখোঁজ হন। তাকে এখনো পাওয়া যায়নি।
নিখোঁজের চাচা মো. আবুল বাশার জানান, কাল সন্ধ্যার পর থেকে শফিকুর রহমান লালন নিখোঁজ হন। বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার সন্ধান পাইনি। পরে জানতে পারলাম ট্রলার ডুবির পর সে নিখোঁজ রয়েছে। পরে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল নদী থেকে ট্রলারটি উদ্ধার করলে সেখান থেকে লালনের মরদেহ পাওয়া যায়। পরে মরদেহ নিয়ে আমরা ফিরে আসি।
খুলনা ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরী দলের লিডার মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে আজ বুধবার সকালে খুলনা ফায়ার সার্ভিসের একটি ডুবরি দল ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধার কাজ শুরু করে। তবে মধুমতি নদীতে প্রচন্ড স্রোত থাকায় উদ্ধার কাজ ব্যহত হলেও আমরা ডুবে যাওয়া ট্রলারটি উদ্ধার করতে সক্ষম হই। পরে ট্রলালেল ভিতর থেকে নিখোঁজ শফিকুর রহমান লালনের মরদেহ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করি। #