• ২১শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ৭ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আলাদা তিনটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি ২৪ ঘন্টার মধ্যে সংগঠিত দু’টি ঘটনার দায় স্বীকার করলো গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৪, ১১:১৭ পূর্বাহ্ণ
আলাদা তিনটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি ২৪ ঘন্টার মধ্যে সংগঠিত দু’টি ঘটনার দায় স্বীকার করলো গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ

স্টাফ রিপোর্টার, গোপালগঞ্জ : দায় অস্বীকার করার ২৪ ঘন্টা পার হতে না হতেই গোপালগঞ্জের ঘোনাপাড়ায় কেন্দ্রীয় বিএনপি ও স্বেচ্ছাসেবক দলের গাড়ী বহরে হামলা এবং গোপীনাথপুরে সেনা সদস্যদের উপর হামলায় ঘটনার কার্যতঃ দায় স্বীকার করে নিয়েছে জেলা আওয়ামী লীগ। দলের পক্ষ থেকে দেয়া দপ্তর সম্পাদক ইলিয়াস হকের দেয়া প্রেস রিলিজ পর্যালোচনা করলে তেমনটিই মনে হবে।

গতকাল শনিবার জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ইলিয়াস হক স্বাক্ষরিত দলীয় প্যাডে দুটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে, এ ঘটনার দায় এড়িয়ে গেলেও আজ রোববার জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ইলিয়াস হক তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দলীয় প্যাডে প্রেস বিজ্ঞপ্তি পোস্ট করে এসব ঘটনার দায় স্বীকার করে নিয়েছেন। একই সাথে এ ঘটনা যারা ঘটিয়েছে তাদের প্রশংসা করেছেন।

তিনি তার ফেসবুকে ও দলীয় প্যাডে নেতৃবৃন্দকে উদ্দেশ্য করে লেখেন, “প্রিয় নেতৃবৃন্দ, গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ সব সময় আওয়ামী নেতা কর্মীদের পাশে ছিলো এবং থাকবে। সারা দেশে গত ৫ আগষ্টের পর থেকে আওয়ামী লীগের নেতা কর্মী সমর্থকদের উপর অমানবিক নির্যাতন নেমে আসে। গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ এই ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে।

আরো লেখা হয়, জেলা আওয়ামী লীগ সব সময় একতাবদ্ধ। গোপালগঞ্জে দুইটি ঘটনায় মুজিব প্রেমিক জনতার সাহসী পদক্ষেপের প্রশাংসা করে। আমরা সবসময় বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার প্রশ্নে আপোষ করি নাই। এবং ভবিষ্যতে ও করবো না। বিভ্রান্ত না হয়ে সকলে একতাবদ্ধ ভাবে এই সংকট মোকাবেলা করবো। বর্তমান সময় এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে আইন নিজের হাতে না তুলে নিতে সকলকে অনুরোধ করছি।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো লেখা হয়, আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের জন্য সবসময় জেলা আওয়ামী লীগ পাশে দাড়াবে। দলের এই সংকট মুহুর্তে কেউ বিভ্রান্তি ছড়াবেন না। ধৈর্য ধরুন। এই আধার কেটে যাবে আলো আসবেই।’’

এরআগে শনিবার ১৪ সেপ্টেম্বর পোস্ট করা এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গতকাল (শুক্রবার) ঘোনাপাড়ায় যে অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটেছে। এটার সঙ্গে আওয়ামী লীগ কোন ভাবেই জড়িত নয়। গতকাল কিছু বিক্ষুদ্ধ জনতার সাথে বিএনপির কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে এই সংঘর্ষে রূপ নেয়। এই ঘটনা স্থানীয় আওয়ামী লীগ সহ কোন সহযোগী ও অঙ্গসংগঠন অবগত নয়। আমরা সব সময় শান্তিপূর্ণ সহঅবস্থানে বিশ্বাসী।অতিতে আমরা বিএনপির সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহঅবস্থানে ছিলাম।যেটা বিএনপির স্থানীয় নেতারা স্বীকার করবেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিএনপির কিছু বহিরাগত লোকেরা ঘোনাপাড়ায় শেখ হাসিনা ও বঙ্গবন্ধুর ছবি ব্যানার ছিড়ে ফেলতে গেলে তাদের সঙ্গে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতার কথা কাটাকাটি হয় এবং এক পর্যায়ে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয় এবং সংঘর্ষে রূপ নেয়।

আরো বলা হয়, আমরা মনে করি এ ঘটনার সাথে আওয়ামী লীগ জড়িত থাকায় বলা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্য মূলক চক্রান্ত।এই ঘটনার সঙ্গে আওয়ামী লীগ কোন অবস্থায় জড়িত নয়। আমরা অতিতে যেমন অহিংস আন্দোলন করেছি ভবিষ্যতে আমরা শান্তিপূর্ণ ভাবে সকল কর্মসূচী পালন করবো।এটাই আমাদের দলিয় নির্দেশনা।

ওই দিনই এ বিজ্ঞপ্তিটি দেয়ার কিছুক্ষণ পর উঠিয়ে নিয়ে দেয়া হয় নতুন বিজ্ঞপ্তি। সেখানে বলা হয়, গতকাল ঘোনাপাড়ায় যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে এটার সাথে আওয়ামী লীগ কোন ভাবেই জড়িত নয়। গতকাল কিছু বিক্ষুদ্ধ জনতার সঙ্গে বিএনপির বঙ্গবন্ধুর ছবি ও ব্যানার ছিড়া নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পয্যায়ে এই সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ ঘটনা স্থানীয় আওয়ামী লীগ সহ কোন সহযোগী অঙ্গসংগঠন অবগত নয়।

এতে আরো বলা হয়, গতকাল বিএনপির কিছু লোকেরা ঘোনাপাড়ায় ব্যানার বঙ্গবন্ধুর ছবি ছিড়ে ফেলতে গেলে তাদের সঙ্গে বিক্ষুব্ধ জনতার কথা কাটাকাটি হয় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয় এবং এক পয্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়। আওয়ামী লীগ মনে করে এ ঘটনার সাথে তাদের জড়িত থাকার কথা বলা উদ্দেশ্য মূলক চক্রান্ত। এই ঘটনার সাথে আওয়ামী লীগ কোন অবস্থায় জড়িত নয়। আমরা অতিতে যেমন অহিংস আন্দোলন করেছি ভবিষ্যতে আমরা শান্তিপূর্ণ ভাবে সকল কর্মসূচী পালন করবো।

জেলা আওয়ামী লীগের প্যাডে এমনটি পোস্ট ফেসবুকে ছড়িয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। এমন দুইটি ন্যাক্করজনক ঘটনাকে সমর্থন করে পোস্ট দেয়ায় লোকজনের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপি নেতারা ঘটনার পর থেকে এঘটনায় আওয়ামী লীগকে দায়ী করে আসছিল। এ পোস্টের মধ্যদিয়ে তা সত্যি বলেই প্রতীয়মান হয়েছে।

এ বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ইলিয়াস হকের সাথে কথা তার হোয়ার্টস অ্যাপে কথা হলে তিনি বিষয়টিকে খারাপ চোখে না দেখার অনুরোধ করেন। তিনি বলেন, তিনি অনেক চাপের উপর আছেন। নানা কারনে আওয়ামী লীগ নেতারা গা-ঢাকা দিয়েছেন। আমাকে একা সবদিক সামলাতে গিয়ে কখন কি লিখি তা বুঝে উঠতে পারি নাই। ক্ষমা সুন্দর ভাবে দেখে বিষয়টি এড়িয়ে যাবার অনুরোধ করেন তিনি।

গোপালগঞ্জ জেলা বিএনপি-র আহবায়ক শরীফ রাফিকুজ্জামান বলেন, জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ইলিয়াস হকের ফেসবুক পোস্ট প্রমান করে পরিকল্পিত ভাবেই আওয়ামী লীগ এই দুটি ঘটনা ঘটিয়েছে। আমরা ঘটনার পর থেকে বারবার এ কথা বলছি। আওয়ামী লীগের মদদে ও পৃষ্ঠপোকতায় এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। এই ফেসবুক পোস্টের মধ্যদিয়ে আজ তা পরিস্কার হয়ে গেলো।

তিনি আরো জানান, এ ঘটনায় স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় ক্রীড়া সম্পাদক শওকত আলী দিদার নিহত হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি এস,এম জিলানী, তাঁর স্ত্রী জেলা মহিলা দলের সভাপতি রওশান আরা রত্না ও তার শিশু পুত্র সহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় অনেক নেতাকর্মি আহত হন। এ ঘটনার সাথে যারা জড়িত তাদের নামেই মামলা হবে। #