স্টাফ রিপোর্টার, গোপালগঞ্জ : কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের ক্রীড়া সম্পাদক নেতা শওকত আলী দিদার নিহতের ঘটনায় গোপালগঞ্জ জেলা বিএনপির আহবায়ক শরীফ রাফিকুজ্জামান বলেছেন, ঘটনার তিনদিন পার হতে চলেছে, প্রশাসন এখনও কুম্ভকর্ণের মত ঘুমাচ্ছে। এতদিন পর্যন্ত যে পুলিশ প্রশাসন আওয়ামী লীগের সঙ্গে ভাগবাটোয়ারা করে এই গোপালগঞ্জকে শাসন করেছে। আজও তারা আওয়ামী লীগের হয়ে কাজ করছে। কেন আজও আসামী গ্রেপ্তার করা হয় নাই? কেন আজকে বিশিষ্ট আসামী এলাকা ত্যাগ করতে সমর্থ হয়েছে? আমি এই মূহুর্তে গোপালগঞ্জ জেলার এসপি, গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসিসহ পুলিশকে বলতে চাই, এই মূহুর্তে আপনারা যদি আসামী গ্রেপ্তার না করেন তাহলে আপনাদের বিরুদ্ধেও আমরা (বিএনপি) কর্মসূচী দিতে বাধ্য হবো।
আজ রবিবার (১৫ সেপ্টিম্বর) দুপুরে আওয়ামী কর্মীদের হামলায় কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের ক্রীড়া সম্পাদক শওকত আলী দিদার নিহতের ঘটনায় প্রতিবাদ সমাবেশ তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি জেলা প্রশাসককে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনি জেলার সর্বাধিনায়ক, আপনার পুলিশ কি করছে আপনি খবর নেন। আপনার অন্যান্য সংস্থা কি করছে সেই খবর নেন। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
তিনি পুলিশকে উদ্দেশ্য করে আরো বলেন, গ্রামগঞ্জে কি দুর্ঘটনা ঘটলো। সেখানে সিসি টিভি আছে। সেই ফুটেজ দেখে আসামী সনাক্ত করা যায়। জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা ঘোনাপাড়া মোড়। অনেক গুরূত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান সেখানে আছে। হাজার হাজার সিসিটিভি ক্যামেরা সেখানে আছে। কারা হামলা করেছে, কারা আক্রমণ করেছে, কারা আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করেছে, সবই সিসি ফুটেজে আছে। তাই মামলার অপেক্ষা করা লাগে না। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে আসামী সনাক্ত করা যায়। তাই এই মূহুর্তে ডিসি সাহেব, এসপি সাহেবকে বলছি অবিলম্বে পদক্ষেপ গ্রহণ করুন। নইলে গোপালগঞ্জের জনগণ নিয়ে আপনাদের কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবো।
এর আগে দুপুরে জেলা শহরের লঞ্চঘাট এলাকা থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে নেতাকর্মীরা। মিছিলটি জেলা শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা আইনজীবী সমিতির সামনে গিয়ে শেষ হয়। এ কর্মসূচীতে বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্র দলের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
সেখানে অনুষ্ঠিত সমাবেশে জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য নেতা ডা. কে এম বাবর, অ্যাডভোকেট তৌফিকুল ইসলাম তৌফিক, জিয়াউল কবির বিপ্লব, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপিত সিকদার শহীদুল ইসলাম লেলিন, জেলা যুবদলের সভাপতি রিয়াজ উদ্দিন লিপটন, সাধারন সম্পাদক রাশেকুজ্জামান পলাশ, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক সাজ্জাদ হোসেন হিরা জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মিকাইল হোসেন, সাধারন সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন।
প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার বিকেল ৪টায় জেলা শহরের বেদগ্রাম মোড়ে একটি পথসভা শেষ করে গাড়ি বহর নিয়ে টুঙ্গিপাড়া যাচ্ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বেচ্চাসেবক দলের সভাপতি এসএম জিলানীসহ কেন্দ্রীয় নেতাবৃন্দ ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা। এসময় তাদের গাড়ী বহর গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ঘোনাপাড়া মোড়ে পৌছালে আওয়ামী লীগের ব্যানার ফেস্টুন ছেড়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় আওয়ামীলীগ সমর্থিত নেতাকর্মীদের সাথে বিবাদে জড়ায় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। এক পর্যায়ে উভয় গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ ঘটে। এতে কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের ক্রীড়া সম্পাদক শওকত আলী দিদার নিহত হয়। এছাড়া কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানী ও তার স্ত্রী গোপালগঞ্জ জেলা মহিলা দলের সভাপতি রওশন আরা রত্নাসহ ৩৫ জন আহত হন।#