গৌরনদী (বরিশাল) প্রতিনিধি \ অনলাইন জন্মনিববন্ধন অনুযায়ী কনের বয়স ১৫ বছর হলেও প্রতারণার মাধ্যমে কনের প্রকৃত বয়স গোপন রেখে নাবালিকা মেয়েকে প্রাপ্ত বয়স দেখিয়ে বিয়ের কাবিন রেজিষ্ট্রি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বার্থী ইউনিয়নের বাঘমারা গ্রামের।
উপজেলার কমলাপুর গ্রামের মৃত সাহেব আলী বেপারীর ছেলে সাইদুল বেপারী অভিযোগ করে বলেন, গত চার বছর পূর্বে আমার ছোট ভাই সিরাজুল ইসলামের সাথে পার্শ্ববর্তী বাঘমারা গ্রামের নাসির ঢালীর মেয়ের সাথে বিয়ে হয়। বিয়ের সময় কনের প্রকৃত জন্ম সাল ২০০৫ হলেও আমাদের না জানিয়ে কনের বয়স ২০০০ সাল দেখিয়ে কাবিন রেজিষ্ট্রি করা হয়। বিয়ের কিছুদিন পর নাবালিকা মেয়ে স্বামীর সাথে সংসার করতে না চাওয়ায় দুই পরিবারের মধ্যে দ্বন্দের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে আমার ভাই সিরাজুলকে তার শশুর বাড়ির লোকজন মারধর করে। পরবর্তীতে সিরাজুল তার স্ত্রীকে তালাক দিয়ে বিদেশ চলে যায় এবং আমি আমার পরিবার নিয়ে ঢাকায় বসবাস শুরু করি। এরপর বাড়িতে আমার বৃদ্ধ বাবা একা বসবাস করতো। এই সুযোগে আমার বৃদ্ধ বাবাকে জিম্মি করে আমার ছোট ভাইয়ের তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রী সুমাইয়া তার নামে ১৯.২৬ শতক জমি সাব কবলা দলিল করে নেয়। এঘটনায় আমার বাবা গৌরনদী মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করেন এবং দলিল বাতিলের জন্য বরিশাল সহকারী জজ (গৌরনদী) আদালতে মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে আমার বাবার ওপর চাপ সৃষ্টি করে মামলা প্রত্যাহার করতে বাধ্য করে। তিনি আরও বলেন, ক্ষমতাসীনদের ভয়ে এতোদিন মুখ না খুলতে পারিনি। তাই গত সোমবার (২১ অক্টোবর) নিকাহ রেজিষ্টার ও ১৪ অক্টোবর আমার ভাইয়ের সাবেক স্ত্রী সুমাইয়াকে প্রাথমিক ভাবে উকিল নোটিশ পাঠিয়েছি। এবিষয়ে নিকাহ রেজিষ্টার জালাল উদ্দিন জানান, দুই পক্ষ যে কাগজ দিয়েছে। সেই কাগজ অনুযায়ী কাবিন রেজিষ্ট্রি করা হয়েছে। সকল অভিযোগ অস্বীকার করে কনে সুমাইয়ার মা এসমোতারা বেগম বলেন, আমার মেয়েকে পূর্ন বয়সে বিয়ে দেওয়া হয়েছে। মেয়ে জামাতা সিরাজুল আমার মেয়েকে এক তরফা ভাবে তালাক দিয়েছে। সুমাইয়ার শশুর তার নামে স্বেচ্ছায় দলিল দিয়ে গেছেন। দলিলের স্বাক্ষীও মেয়ে জামাতা সিরাজুলের আত্মীয়-স্বজন।