• ২৫শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ১১ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গোপালগঞ্জে হুইল চেয়ার পেয়ে আনন্দিত ১৪ প্রতিবন্ধী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত জানুয়ারি ১৭, ২০২৫, ১২:৩৭ অপরাহ্ণ
গোপালগঞ্জে হুইল চেয়ার পেয়ে আনন্দিত ১৪ প্রতিবন্ধী

স্টাফ রিপোর্টার, গোপালগঞ্জ : জন্ম থেকেই হাঁটতে অক্ষম গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার চিংগড়ি গ্রামের ভ্যান চালক সুধাংশু মন্ডলের ছেলে সংগ্রাম মন্ডল (১৫)। ভাড়ায় ভ্যান চালিয়ে উপার্জন করা টাকা দিয়ে কোন রকমে সংসার চালান সংগ্রামের বাবা সুধাংশু মন্ডল। নুন আনতে পানতা ফুরায়। সাংসারের এ অবস্থায় ছেলেকে একটা হুইল চেয়ার কিনে দেওয়ার সামর্থ্য হয়নি তার।

শুধু সংগ্রাম মন্ডলই নয়, তার মত হাঁটাচলা করতে অক্ষম ও দরিদ্র এমন আরও ১৪ জনকে খুঁজে হুইল চেয়ারের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন টুঙ্গিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মঈনুল হক।

আজ শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এসব হুইল চেয়ার বিতরণ করা হয়। হুইল চেয়ার বিতরণ অনুষ্ঠানে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা দেবাশীষ বাছাড়, প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্যে কেন্দ্র, জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের কনসালটেন্ট ডাঃ নাজমুল ইসলাম, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী প্রদীপ মজুমদার প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন। বিনামূল্যে ও অপ্রত্যাশিতভাবে এসব হুইল চেয়ার পাওয়ায় আনন্দে আত্মহারা হাঁটাচলা করতে না পারা প্রতিবন্ধীরা।

পাটগাতী গ্রামের আমিনুর শেখ বলেন, জন্ম থেকেই হাঁটতে পারেনা আমার ১৩ বছর বয়সী মেয়ে সোহারা খানম। পরের জমিতে কামলা খেটে নিজের সংসারই কোন রকমে চলে, আর হুইল চেয়ার কিনবো কিভাবে! সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিষয়টি জেনে ইউএনও স্যার আমার মেয়েকে একটি হুইল চেয়ারের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।

কাকইবুনিয়া গ্রামের রিপন কুমার রায় (বিবেক) বলেন, উপজেলার পাটগাতি বাজারে দীর্ঘদিন আর্ট শিল্পী হিসাবে কাজ করেছি। প্রায় পাঁচ বছর ধরে প্যারালাইজড (পক্ষাঘাতগ্রস্ত) হয়ে ঘরেই পরে ছিলাম। স্ত্রী ও মেয়ে বাড়িতে আর্ট শিল্পীর কাজ করে সামান্য কিছু রোজগার করে, যা দিয়ে চলে সংসার। কয়েকদিন আগে একটি হুইল চেয়ার পাওয়ার জন্য উপজেলায় আবেদন করি। আজ হুইল চেয়ার আমি অনেক খুশি। এখন একটু চলাফেরা করতে পারবো।

টুঙ্গিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মঈনুল হক বলেন, মানুষের দুঃখ কষ্ট দূর করতে সরকার থেকে বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু অনেক সময় প্রকৃত অসহায় ও দরিদ্র মানুষেরা সরকারি সেবাগুলো পায় না। সরকারের একজন কর্মচারী হয়ে আমার দায়িত্ব মানুষের জন্য কিছু করা। তাই হাঁটাচলা করতে অক্ষম ও প্রকৃত দরিদ্র মানুষদের বাছাই করে হুইল চেয়ার দেওয়া হয়েছে। #