• ২৫শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ১১ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গোপালগঞ্জে অনুষ্ঠিত হলো দিনব্যাপী গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী পিঠা উৎসব

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত জানুয়ারি ২০, ২০২৫, ১৩:৫৫ অপরাহ্ণ
গোপালগঞ্জে অনুষ্ঠিত হলো দিনব্যাপী গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী পিঠা উৎসব

স্টাফ রিপোর্টার, গোপালগঞ্জ : বাঙালি ঐতিহ্যকে ফুটিয়ে তোলার মাধ্যমে গোপালগঞ্জে অনুষ্ঠিত হলো দিনব্যাপী গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী পিঠা উৎসব। মাঘের স্নিগ্ধ সকালে গোপালগঞ্জ সরকারি শেখ ফজিলাতুন্নেছা সরকরি মহিলা কলেজে অনুষ্ঠিত পিঠা উৎসবের বাহারি পিঠার সমাহার ঘটে। পিঠার স্বাদ গ্রহন করে নেচে গেয়ে উৎসবে মেতে ওঠেন শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ। আগামীতেও এমন আয়োজনের কথা জানান কলেজ কর্তৃপক্ষ।

পিঠা বাঙালী সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। পিঠার স্বাদ শীতকে আরো মোহনীয় করে তোলে। স্নিগ্ধ শীতের সকালে, পড়ন্ত দুপুরে কিংবা আবছায়া গোধূলির ফুরফুর মেজাজে পিঠা খেতে কার না ভালো লাগে! বিভিন্ন ঋতুতে বিশেষ বিশেষ পিঠার রেওয়াজ রয়েছে।

আজ সোমবার (২০ জানুয়ারী) সকাল ৯ টা থেকে দিনব্যাপী চলে এ পিঠা উৎসব। সরকরি মহিলা কলেজ ক্যাম্পাসের ২০ স্টলে শতাধিক বাহারি পিঠার সমাহার ঘটে। গ্রাম বাংলার চিতই, ভাপা, পুলি, তক্তি, নকশি পিঠা, ডিমের পুডিং, পাটি সাপটা, ঝাল চন্দ্রকোনা, চন্দনকুলি, দুধ খেঁজুর, নারকেলের চিড়া, রসপান, হৃদয়হরন, গোকুল পিঠাসহ হরেক রকমের প্রায় ৫০ প্রকারের পিঠা নিয়ে বসেন ক্রেতারা।

পিঠার স্বাদ গ্রহন করতে ও কিনতে কলেজ ক্যাম্পাসে ভীড় করেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী সহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ। নেচে গেয়ে আনন্দে উৎসবে মেতে ওঠেন তারা। বিভিন্ন রকমের পিঠার স্বাদ গ্রহন করেন তারা।

পিঠা স্টলের শিক্ষার্থী তনিমা মাহমুদ বলেন, মা ও দাদির কাছ থেকে তালিম নিয়ে অন্তত ২৫ রকমের পিঠা হাতে বানিয়ে স্টলে প্রদর্শন করেছি। এর স্বাদ গ্রহন করে ভোজন রসিকরা ব্যাপক প্রসংশা করেছেন। পিঠা বাণিজ্যিকভাবে তৈরী করে সাফল হওয়া সম্ভব বলে জানান এ শিক্ষার্থী।

শিক্ষার্থী উম্মে কুলসুম চৈতি বলেন, পিঠা উৎসবের স্টলগুলোর স্বাদ ও গন্ধ ছিল অতুলনীয়। পিঠা খেয়ে পরিতৃপ্তির ঢেকুর তুলেছি। নেচে-গেয়ে একটি উৎসবমুখর দিন কাটিয়েছি। পিঠাকে উপলক্ষ্য করে এমন সুন্দর দিন কাটাতে পেরে আয়োজক অধ্যক্ষকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। ভবিষ্যতে এমন আনন্দঘন আয়োজন করার জন্য অনুরোধ করছি। গ্রামীণ ঐতিহ্য ধরে রাখতে ও সকলকে আনন্দ দিতে আগামীতেও পিঠা উৎসবের আয়োজনের আশা বলেজ কর্তৃপক্ষের।

সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মোসা. পারভীন সুলতানা বলেন, মাত্র ১ দিনের প্রস্তুতিতে শিক্ষার্থীরা অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছে। তারা চিতই, পুলি, ভাপা, পাটিসাপটা, রসবড়া, জামাই পিঠা, দুধ পুলি, ভিজানো পিঠা, নকশা পিঠা, পাকন পিঠা, বকুল পিঠা, খির লুচি, নারিকেলের পিঠা, ডিম পিঠা, গোলাপ পিঠা, খির চমচম, নারু, চকলেট পিঠা, তেলে ভাজা পিঠা, খেজুর পিঠা, তাল পিঠা, সন্দেস পিঠা, পালপোয়া, ছানার পিঠা, মালাই পিঠা, বরফী পিঠা সহ শতাধিক রকমের পিঠার সমাহার ঘটিয়েছে পিঠা উৎসবে। এ উৎসবে অংশ নিয়ে উৎসব মুখর পরিবেশে সবাই পিঠার স্বাদ গ্রহন করেছেন। সাথে আনন্দ ভাগাভাগি করে নিয়েছেন।

বাংলা বিভাগের সহকরী অধ্যাপক মনীন্দ্র নাথ বাড়ৈ মণি বলেন, পিঠা উৎসব সবার প্রাণের উৎসব। সবার অংশ গ্রহনে এটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। নতুন, নতুন অনেক পিঠা এ উৎসবে পরিবেশ করা হয়েছে। এরমধ্য দিয়ে নতুন প্রজম্মের উদ্ভবনী প্রতিভা প্রকাশিত হয়েছে। এটিকে পুঁজি করে তারা উদ্যোক্তা হতে পারবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

কলেজের অধ্যক্ষ সেখ বেনজীর আহমেদ বলেন, বাঙালী সংস্কৃতি ধরে রাখতে আমরা পিঠা উৎসবের আয়োজন করেছি। শিক্ষার্থীরা শতাধিক রকমের পিঠা তৈরী করে স্টলগুলোতে পসরা ‍নিয়ে বসেন। এখান থেকে পিঠা প্রেমিরা পছন্দের পিঠা খেয়েছেন। পিঠা উৎসব পাঠ্য কারিকুলামেরই একটি অংশ। উৎসবের আমেজে এতে অংশ নিয়ে অনেক শিক্ষার্থী উদ্যাক্তা হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বাহারি পিঠা তৈরী করে অনেকেই কর্মসংস্থানের পথ খুজে পবে এমটা প্রত্যাশা করছি।