• ২৩শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ৯ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের মালিকানাধীন সাভানা পার্কে অভিযান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত জানুয়ারি ২১, ২০২৫, ১১:৪৪ পূর্বাহ্ণ
সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের মালিকানাধীন সাভানা পার্কে অভিযান

স্টাফ রিপোর্টার, গোপালগঞ্জ : সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের মালিকানাধীন সাভানা ইকো রিসোর্ট ও ন্যাচারাল পার্কে অভিযান চালিয়ে কর ফাঁকির সত্যত্যা পেয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি)। শুধু গোপালগঞ্জ নয় সাবেক আইজিপির সকল স্থাপনায় অভিযান চালানো হবে। এ ব্যাপারে মামলা দায়ের করা হবে বলেও জানায় তদন্ত দল।

সরেজমিনে গিয়ে জানাগেছে, মঙ্গলবার বেলা ১১ টা ৫০ মিনিটে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেলের (সিআইসি) উপপরিচালক শাহ মোহাম্মদ ফজলে এলাহীর নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল সাভানা ইকো রিসোর্ট ও ন্যাচারাল পার্কে আসেন। এরপর পার্কে ভিতরে প্রবেশ করে বিভিন্ন স্থাপনা ঘুরে দেখে। পরে পার্কের বিভিন্ন অফিস কক্ষের বিনিয়োগের নথি, আয়-ব্যয়ের যাবতীয় হিসাবপত্র ও কম্পিটারের হার্ডডিস্ক ও ফাইলপত্র যাচাই-বাছাই করে তথ্য সংগ্রহ করেন। এসময় তদন্ত দলটি কর ফাঁকির সত্যতা পান। তবে কয়েকটি বিভাগের কাছ থেকে তথ্য পাওয়ার পর কি পরিমান কর ফাঁকি দেয়া হয়েছে তা জানাতে পারেনি তদন্ত দলটি।

এ অভিযানে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি) উপপরিচালক মো. জিল্লুর রহমান ও শরীফ মো. ফয়সালসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বেনজীর আহমেদ ২০১৫ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত র্যাবের মহাপরিচালক এবং ২০২০ সাল থেকে ২০২২ পর্যন্ত পুলিশের মহাপরিদর্শক থাকাকালীন গোপালগঞ্জের বৈরাগীটোল গ্রামে ৬২১ বিঘা জমির ওপর গড়ে তোলেন সাভানা ইকো রিসোর্ট ও ন্যাচারাল পার্ক। রিসোর্ট এবং অন্যান্য স্থাপনা মিলে ওই এলাকায় ১ হাজার ৪০০ বিঘা জমি বেনজীরের দখলে। অভিযোগ রয়েছে হিন্দু সম্প্রদায়ের জমি দখল করে এই পার্কটি করেন বেনজির আহমেদ। গত বছরের জুনে এই পার্কটি আদালতের নির্দেশে ক্রোক করে স্থানীয় প্রশাসন। পার্কটি রিসিভার নিয়োগের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেলের উপপরিচালক শাহ মোহাম্মদ ফজলে এলাহী জানান, আমরা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের গোয়েন্দা সেলের পক্ষ থেকে ১৫ সদস্যের একটি দল পুলিশের সাবেক আইজিপি বেনজির আহমেদের মালিকানাধীন ইকো রিসোর্ট অ্যান্ড ন্যাচারাল পার্কে তদন্ত ও অনুসন্ধানে এসেছি। তদন্ত ও অনুসন্ধানে আমরা সুনির্দিষ্টভাবে বিপুল পরিমাণ অঙ্কের কর ফাঁকির প্রমাণ পেয়েছি। আমরা আরো কিছু দপ্তর থেকে তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করছি। সবকিছু হাতে আসার পরে আমরা বলতে পারব কি পরিমান অঙ্কের কর ফাঁকি দিয়েছে। আমাদের পরবর্তী পদক্ষেপ সকল নথিপত্র পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন কর অফিসকে পাঠাবো। পরবর্তীতে কর অফিস তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

তিনি আরো বলেন, অভিযোগ রয়েছে হিন্দু সম্প্রদায়ের জমি দখল করে এই পার্কটি করেন বেনজির আহমেদ। তবে এবিষয়ে অভিযোগ পেলে তারও তদন্ত করা হবে। শুধু গোপালগঞ্জ নয় সাবেক আইজিপির দেশের সকল স্থাপনায় অভিযান চালানো হবে। কর ফাঁকির তথ্য কর বিভাগকে জানানো হবে। সেটার উপর ভিত্তি করে মামলাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। #