• ২৫শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ১১ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

তারুণ্যের উৎসব উপলক্ষে গোপালগঞ্জে অনুষ্ঠিত হল মনোমুগন্ধকর অ্যাক্রোবোটিক শো

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত জানুয়ারি ২৪, ২০২৫, ১১:৪৭ পূর্বাহ্ণ
তারুণ্যের উৎসব উপলক্ষে গোপালগঞ্জে অনুষ্ঠিত হল মনোমুগন্ধকর অ্যাক্রোবোটিক শো

স্টাফ রিপোর্টার, গোপালগঞ্জ : দম আটকানো শারীরিক কসরত। একচুল এদিক-ওদিক হলেই শরীরের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা। তাসের ওপর তাস নয়, এ তো দেহের ওপর দেহ সাজানোর খেলা। একের শরীরে অন্যজন ভর দিয়ে তৈরি করছেন নানা দৃশ্য প্রতিরূপ, জ্যামিতিক আকার। মনোমুগ্ধকর আয়োজন শ্বাসরুদ্ধকর অনুভূতিরই জন্ম দিল দর্শকদের মনে। চীনা অ্যাক্রোবেটিক প্রদর্শনী দর্শকদের অনেকেরই দেখা। কিন্তু এবার এ দেশের অ্যাক্রোব্যাট শিল্পীরাই প্রমাণ দিলেন, তাঁরাও পিছিয়ে নেই।

তারুণ্যের উৎসব উপলক্ষে গোপালগঞ্জ শেখ ফজলুল হক মনি স্মৃতি মিলনায়তনে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে জেলা শিল্পকলা একাডেমী মনোমুগন্ধকর এ অ্যাক্রোবোটিক শোর আয়োজন করে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর শিল্পীরা অ্যাক্রোবেটিক শোতে অংশ নেয়। একের পর এক চোখধাঁধানো কসরত চলছিল মঞ্চে। নানা ধরনের অপূর্ব সাধারন খেলা ও শরীর চর্চায় মুগ্ধতা বিরাজ করে পূরো অনুষ্ঠানস্থলে।

শিল্পমাধ্যম সার্কাসের প্রধানতম অঙ্গ অ্যাক্রোবেটিক শিল্প সমগ্র পৃথিবীতে সমাদৃত ও মর্যাদাপূর্ণ। জেলা পর্যায় থেকে হারিয়ে যাওয়া অ্যাক্রোবেটিক শো দেখতে অনুষ্ঠান স্থলে ভীড় করে শিশু-নারীসহ নানা বয়সের দর্শনার্থী। মূহূর্তের মধ্যে অনুষ্ঠান স্থল পরিপূর্ন হয়ে যায়। চলে তুমুল করতালি আর হর্ষধ্বনি। জমজমাট অ্যাক্রোবেটিক শো দেখে চোখের পাতাও ফেলতে পারেনি দর্শকেরা। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির এই অ্যাক্রোবেটিক দল আক্ষরিক অর্থেই গোপালগঞ্জের দর্শকদের মন জয় করে নিল।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মুহম্মদ কামরুজ্জামান। এসময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বক) মোঃ গোলাম কবিরের সভাপতিত্বে পুলিশ সুপার মোঃ মিজানুর রহমান বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন।

অ্যাক্রোবেটিক শো দেখতে আশা দর্শনার্থী রেজওয়ান আহম্মেদ বলেন, আমার আগে এসব টিভিতে দেখেছি। কিন্তু সরাসরি চোখে দেখা আলাদা একটা অনুভূতি। অ্যাক্রোবেটিক শোতে অনেক শিক্ষনীয় বিষয় রয়েছে। যা মানুষকে যেমন আনন্দ দান করে তেমনি শিশুদের শেখারও বিষয় রয়েছে।

জেলা সুজনের সভাপতি রবীন্দ্রনাথ অধিকারী বলেন, অ্যাক্রোবেটিক শো একটি সুস্থধারার বিনোদন। যুব সমাজের মাঝে এ বিনোদন ছড়িয়ে দিতে হবে। জেলা পর্যায়ে জনপ্রিয় করতে ও সুষ্ঠ বিনোদন ছড়িয়ে দিতে সারা দেশে অ্যাক্রোবেটিক শো করা প্রয়োজন।

জেলা প্রশাসক মুহম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, তারুণ্যের উৎসব উপলক্ষে গোপালগঞ্জে অ্যাক্রোবেটিক শোর আয়োজন করা হলো। যুব সমাজ অ্যাক্রোবেটিক শো দেখে ধারনা নিবে কোন কাজই কঠিন নয়। অ্যাক্রোবেটিক শো গোপালগঞ্জে পূর্ণতা পেলো। নতুন প্রজন্মকে চেনানো ও তুলে ধরার জন্য আগামীতেও এর আয়োজন করা হবে। #