স্টাফ রিপোর্টার, গোপালগঞ্জ : সনাতন ধর্মবলম্বীদের বিদ্যার দেবী সরস্বতি। আগামী রবি (০২ ফেব্রুয়ারী) ও সোমবার (০৩ ফেব্রুয়ারী) দুইদিন হিন্দু ধর্মীয় মতে অনুষ্ঠিত হবে সরস্বতী পূঁজা। এ পূঁজাকে কেন্দ্র করে জেলার বিভিন্ন স্থানে বসেছে প্রতিমার হাট।
বিভিন্ন বয়সের মানুষ এসব হাট থেকে কিনে নিচ্ছেন প্রতিমা। জেলার বাসা-বাড়ী ও বিভিন্ন মন্দিরে পূঁজার আয়োজন করা হচ্ছে। প্রতিমার দাম নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রীয়া থাকলেও কারিগরের বলছেন জিনিস পত্রে দাম বাড়ায় প্রতিমার দামও কিছুটা বাড়তি।
জানাগেছে, পঞ্জিকা মতে মাঘ মাসের শুক্লপক্ষের পঞ্চমী তিথিতে আশির্বাদ লাভের আশায় বিদ্যার দেবী সরস্বতী পুঁজা করে থাকেন সনাতম ধর্মাবলম্বীরা। শুধু বাসা বাড়ীতেই নয় বিদ্যার দেবী সরস্বতী পূজা হবে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। দেবীর পায়ে অঞ্জলী দিয়ে অনেক শিশুর শিক্ষাজীবন শুরু হবে। আর এ পুঁজার প্রধান অনুসঙ্গ হলো প্রতিমা। ফলে জেলা শহরের গোহাট সার্বজনীন কালীবাড়ী, সদর উপজেলার সাতপাড়, বৌলতলী, কোটালীপাড়া উপজেলার রাধাগঞ্জ, ভাঙ্গারহাট, ঘাঘর বাজারসহ শতাধিক স্থানে বসেছে প্রতিমার হাট। হাটে আনা এক একটি প্রতিমা প্রকার ভেদে বিক্রি হচ্ছে আড়াইশো থেকে ১০ হাজার টাকায়। তবে দাম নিয়ে এবছর ক্রেতাদের মধ্যে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কেউ বলছেন দাম সাধ্যের মধ্যে আবার কেউবা বলছেন দাম বেশি।
জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিমা নির্মাতারা (পাল) হাটে প্রতিমা এনে বিক্রি করছেন। বিভিন্ন বয়সের মানুষ এসব হাট থেকে কিনে নিচ্ছেন পছন্দমত প্রতিমা। এসব হাটে শুধু প্রতিমাই নয় বিক্রি হচ্ছে ফুল, মালা, মিস্টিসহ পূঁজার অন্যান্য উপকরন। এবছর বেশি প্রতিমা বিক্রি করে বেশি লাভের আশা করছেন তারা। প্রতিমা বেচা-বিক্রি চলবে আগামী রবিবার পর্যন্ত। তবে জিনিসপত্রের দাম বেশি থাকায় বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে বলে জানান প্রতিমা বিক্রেতারা।
রীতি অনুযায়ী বিদ্যার দেবী সরস্বতি পূঁজার পাশাপশি বসন্ত পঞ্চমীতে গণেশ, লক্ষী, নবগ্রহ, বই, খাতা, কলম ও বাদ্যযন্ত্রের পুজা করার রীতি প্রচলিত রয়েছে। এর মধ্য দিয়ে শীত ঋতুর অবসান হয়ে বসন্ত ঋতৃর আগমন বার্তা ঘটবে।
ক্রেতা উত্তম সাহা বলেন, শহরের গোহাট সার্বজনীন কালীবাড়ীতে সরস্বতী প্রতিমার হাট বসেছে। এবার বাড়ীতে পুজা করাবো বলে ছেলেকে নিয়ে হাটে প্রতিমা কিনতে এসেছি। ঘুরে ফিরে পছন্দমত প্রতিমা কিনেছি। আমা করি পুজা এবার নির্বিঘ্নে অনুষ্ঠিত হবে।
অপর ক্রেতা নারু গোপাল জানান, প্রতিবছর এখানে প্রতিমার হাট বসে। এবে এবার প্রতিমার আমদানী একটু কম। তারপরেও দেখে শুনে দরদাম করে একটি প্রতিমা কিনেছি। এবার অামাদের বাড়ীতে সরস্বতীপুজা অনুষ্ঠিত হবে।
অপর ক্রেতা পরিমল চন্দ্র ঢালী বলেন, এক একটি প্রতিমা ২’শ তেকে ১০ হাজার টাকা পযর্ন্ত বিক্রি হচ্ছে। হাটে এসে প্রতিমা দেখছি। পছন্দ হলে কিনে নিয়ে যাবো। একে গত বছরের তুলনায় এবছর প্রতিমার দাম একটু বেশি।
গোপালগঞ্জ শহরের গোহাট সার্বজনীন কালীবাড়ীর হাটে প্রতিমা বিক্রি করতে আসা উত্তম পাল বলেন, এবার ২০টি প্রতিমা নিয়ে এসেছি। ১০টি বিক্রি করা হয়েছে। তবে এবার ক্রেতার সংখ্যা একটু কম। আশা করি বাকি ২দিন বেচাকেনা হবে।
কার্ত্তিক পাল বলেন, কোটালীপাড়া উপজেলার হিরণ গ্রাম থেকে ৩০টি প্রতিমা নিয়ে এখানে এসেছি। ৪/৫টি প্রতিমা বিক্রি করেছি। তবে ক্রেতারা যে দাম বলে তাতে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। প্রতিমা তৈরীর অনুসঙ্গেরে যে দাম তাতে খবচও উঠছে না।
স্বপন পাল, প্রতিমা তৈরীর ব্যবহারিত মাটি, ছোন, রংসহ বিভিন্ন সরঞ্জামের দাম প্রতিবছরই বেড়েই চলছে। ক্রেতারা যে দাম বলছে সেই দামে বিক্রি করলে লোকসানের মুখে পড়তে হবে। তারপরেও বাব-দাদার পেশা আমরা দরে রেখিছি। #