এজাজ আল মাহমুদ সুজন :
হাসান মাহমুদ না থাকলেও এবারের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির অন্যতম সেরা পেস অ্যাটাক বাংলাদেশের। অভিজ্ঞ তাসকিন-মোস্তাফিজের সঙ্গে নতুন বলে উইকেট তুলে নিতে তানজিম সাকিবের জুড়ি নেই। জসপ্রিত বুমরাহ না থাকায় সে তুলনায় কিছুটা খর্বশক্তি ভারতের। আবার ইয়ানসেন, রাবাদা, এনগিদি, মুল্ডারদের নিয়ে সবচাইতে শক্তিশালী সিম ইউনিট দক্ষিণ আফ্রিকার। গড়পড়তা পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ইংল্যান্ড আর নিউজিল্যান্ডের পেস অ্যাটাক। তবে সিনিয়রদের অনুপস্থিতে সবচাইতে দূর্বল সিম ইউনিট অস্ট্রেলিয়ার।
এবারের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে বেশকিছু ভালো পেসার রয়েছে সকল দলেই।
এবারের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে বেশকিছু ভালো পেসার রয়েছে সকল দলেই।
রাওয়ালপিন্ডি থেকে লাহোর, করাচি কিংবা দুবাই। টি-টোয়েন্টির ধুমধারাক্কাতেও ওয়ানডে আবেদন ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির। আভাস মিলছে এবারের টুর্নামেন্টে বইবে রানের ফোরায়া, উইকেটও নাকি বানানো হবে সেভাবেই। তাইতো কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে বোলারদের, বিশেষ করে সিমারদের। পাওয়ার প্লেতে যে ধরে রাখতে হবে রানের লাগাম।
টাইগারদের পেস বিপ্লবে প্রত্যাশার চাপ অভিজ্ঞ তাসকিন-মোস্তাফিজের ওপর। হাসান মাহমুদ না থাকায় যে দায়িত্ব বেড়েছে আরও। নতুন বলে তানজিম সাকিব ভয়ংকর। তরুণ নাহিদ রানা তুলবেন গতির ঝড়। প্রয়োজনে মিড ওভারে বাজিয়ে দেখা যাবে সৌম্যকেও। সব মিলিয়ে অন্য দলগুলোর বিবেচনায় খুব একটা পিছিয়ে নেই বাংলার পেস ইউনিট।
তবে ভারতের শনির দশা। আক্ষেপের নাম জসপ্রিত বুমরাহর ইনজুরি। সেক্ষেত্রে মোহাম্মদ শামির কাঁধে গুরু দায়িত্ব। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির বর্তমান স্কোয়াডের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারীর যদিও ইনজুরি থেকে ফিরে খুব একটা স্বাচ্ছন্দে নেই। আর্শদীপ, হর্ষিত রানা কিংবা হার্দিক পাণ্ডিয়া গড়পড়তা। তাইতো গড়পড়তা টিম ইন্ডিয়ার সিম ইউনিটও।
বরাবরই পেস বোলিংয়ে বৈচিত্র্যে দেশ পাকিস্তানও এই ইউনিটে খুব একটা স্বস্তিতে নেই। শাহিন, নাসিম, রউফ, হাসনাইন, ফাহিমকে নিয়ে ৫ জেনুইন সিমার স্কোয়াডে থাকলেও তাদের সবাই সাম্প্রতিক সময়ে বেশ খরুচে।
ফারুকি, ফরিদ, নাভেদ, ওমরজাই আর গুলবাদিন নাইব। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির বহরে ৫ সিমার রেখেছে আফগানিস্তানও। আর্চার, অ্যাটকিনসন, ব্রাইডেন কার্স, ওভার্টন, উড আর সাকিব মাহমুদ। চলতি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সর্বোচ্চ ৬ সিমার ইংলিশ স্কোয়াডে। বোঝাই যাচ্ছে পেসেই সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিচ্ছে ইংল্যান্ড।
সে হিসেবে হতাশ হতে হবে অস্ট্রেলিয়ার বহরের দিকে তাকালে। স্কোয়াডে থাকা অ্যাবট, জনসন, এলিস, ডুয়ারশুইস আর অ্যারন হার্ডি। ৫ পেসার ওয়ানডেতে উইকেট নিয়েছেন মোটে ৫৯। স্টার্ক, হ্যাডেজউড, মার্শ, স্টয়নিস, কামিন্সের অনুপস্থিতে এই অজিরা যেন নখরদন্তহীন।
তবে প্রতিপক্ষকে ভয় পাইয়ে দেবে দক্ষিণ আফ্রিকার সিম ইউনিট। অ্যাকুরেসি আর উইকেট তোলার সক্ষমতা। ইয়ানসেন, রাবাদা, লুঙ্গি এনগিদি, মুল্ডার আর কোবেন বশক নিশ্চিত রূপেই ভয় পাইয়ে দেবে প্রতিপক্ষকে। লকি ফারগুসেন, ম্যাট হেনরি, উইল ও’রুর্ক, জ্যাকব ডাফি, নাথান স্মিথ আর ড্যারেল মিচেল। ব্ল্যাকক্যাপদের এই ইউনিটও যথেষ্ট ব্যালেন্স। তবে শুধু কাগজে কলমে নয় সিমারদের মাঠে প্রমাণের অপেক্ষা।