• ২১শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ৭ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দীর্ঘ ১৯ বছর পর আগামীকাল সোমবার গোপালগঞ্জে হতে যাচ্ছে বিএনপির জনসভা, প্রস্তুতি সম্পন্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৫, ০৫:৪৩ পূর্বাহ্ণ
দীর্ঘ ১৯ বছর পর আগামীকাল সোমবার গোপালগঞ্জে হতে যাচ্ছে বিএনপির জনসভা, প্রস্তুতি সম্পন্ন

স্টাফ রিপোর্টার, গোপালগঞ্জ : দীর্ঘ ১৯ বছর পর আগামীকাল সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারী) আওয়ামী লীগের দুর্গখ্যাত গোপালগঞ্জে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে কেন্দ্র ঘোষিত বিএনপির জনসভা। এ জনসভা সফল করতে ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি রোধ, আইন শৃঙ্খলার উন্নতি ও নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণাসহ বিভিন্ন দাবি আদায়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচি অংশ হিসেবে এ জনসভা আহ্বান করা হয়।

জনসভাকে ঘিরে সকল নেতাকর্মীদের মাঝে বইছে আনন্দের জোয়ার। এ সমাবেশের মাধ্যমে নির্বাচনের রোডম্যাপ দ্রুত ঘোষনা হবে এমনটিই মনে করছেন নেতাকর্মীরা। জনসভাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সড়কে নির্মান করা হয়েছে তোরণ। ব্যানার ও ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে সড়কের দুইপাশ।

ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তী ২০০৮ সালের পর আওয়ামী লীগের তিন মেয়াদে বিএনপিকে প্রকাশ্যে কোনো মিছিল-মিটিং করতে দেখা যায়নি। ঘরোয়া আলোচনার মাধ্যমেই সীমাবন্ধ ছিলে কর্মসূচি। তবে গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে গোপালগঞ্জের রাজপথ দাঁপিয়ে বেড়াচ্ছে বিএনপির নেতাকর্মীরা।

ক্ষমতায় থাকাকালীন ২০০৪ সালের পর গোপালগঞ্জে আর কোন জনসভা করতে পারেনি বিএনপি। দীর্ঘ প্রায় ১৯ বছর বছর পর গোপালগঞ্জ শহরের পৌর পার্কে আগামীকাল সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারী) সকাল ১০টায় কেন্দ্র ঘোষিত বিএনপির জনসভা অনুষ্ঠিত হবে। এ জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ড. আসাদুজ্জামান রিপন ও প্রধান বক্তা হিসেবে কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক (ফরিদপুর বিভাগ) শামা ওবায়েদ উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া বিশেষ অতিথি থাকবেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক (ফরিদপুর বিভাগ) সেলিমুজ্জামন সেলিম, কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক (ফরিদপুর বিভাগ) খন্দকার মাশুকুর রহমান, সহআইন বিষয়ক সম্পাদক জয়নুল আবেদিন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাইফুল ইসলাম পটুসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত থাকবেন। জনসভায় সভাপতিত্বে করবেন জেলা বিএনপির আহবায়ক শরীফ রফিকউজ্জামান।

জনসভাকে ঘিরে ইতিমধ্যে জনসভাস্থল পৌরপার্কে সকল প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। গোপালগঞ্জ শহরসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে ব্যানার ও ফেস্টুন টাঙ্গানো এবং সড়কে সড়কে নির্মাণ করা হয়েছে তোরণ। জনসভা ঘিরে নেতা-কর্মীদের মধ্যে বইছে আনন্দের বন্যা। সমাবেশ সফল ও রেকর্ড সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিতি নিশ্চিত করতে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন দফায় দফায় প্রস্তুতি সভা, প্রচারণা ও লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি পালন করেছেন।

দলীয় সূত্র জানা যায়, গোপালগঞ্জ শহরের শেখ কামল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ২০০৪ সালে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সর্বশেষ ফরিদপুর বিভাগীয় ইউনিয়ন সভা করেছিলো। যা জনসভায় পরিবর্তন হয়েছিল। ১৯ বছর পর নেতা-কর্মীরা ৩০-৪০ হাজর লোকের সমাগমের টার্গেট নিয়ে জেলার সর্বত্র তৃণমূল পর্যায়ে মরিয়া হয়ে কাজ করছেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় ৩১ দফা বাস্তবায়নে জনসম্পৃক্তা বাড়াতে উৎসবের আমেজে নবীন-প্রবীণ সবাই কাজ করছেন।

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি সিকদার শহিদুল ইসলাম লেলিন বলেন, দীর্ঘদিন আমরা উম্মুক্তভাবে রাজনীতি করতে পারিনি। ২৪ তারিখের সমাবেশকে ঘিরে নেতা কর্মীদের মাঝে আনন্দ মুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। কেন্দ্রীয় বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক (ফরিদপুর বিভাগ) সেলিমুজ্জামন সেলিমের নির্দেশনায় কাজ করে যাচ্ছি এবং এ জনসভা সুন্দরভাবে সফল করতে কাজ করে যাচ্ছি।

গোপালগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য অ্যাভোকেট তৌফিকুল ইসলাম তৌফিক বলেন, গত ১৯ বছর ধরে পতিত ফ্যাসিষ্ট সরকারে যে অত্যাচার গোপালগঞ্জসহ সারা বাংলাদেশ হয়েছিল তাতে মানুষের মুখ খুলে, প্রাণ খুলে কথা বলার কোন সাহস ছিলো না। সেই কারনে বিএনপি কোন জনসভা করতে পারেনি। ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর উন্মুক্ত পরিবেশে আগামীকাল পৌরপার্ক মাঠে জনসভা অনুষ্ঠিত হবে।

গোপালগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শরীফ রফিকউজ্জামান বলেন, গত পনের বছর ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসররা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা কর্মীদের গোপালগঞ্জে স্বাধীনভাবে একটি কর্মসূচীও পালন করতে দেয়নি। বিগত সময় জাতীয়তাবাদী ধারার সমর্থকরা ভয়ে আত্নপ্রকাশ করতে পারেনি বা কোন কর্মসূচী করতে পারেনি। ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর এখন আর কোন ভয় নাই। যেহেতু এখন একটি মুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। এটি একটি জাতীয় রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ। তাই ১৯ বছর পর কোন বাধা ছাড়াই মুক্ত স্বাধীনভাবে বিজয়ের আনন্দে জনসভায় ত্রিশ- চল্লিশ হাজার লোকের সমাগম ঘটবে।

তিনি আরো বলেন, আমরা ২৪ তারিখের জনসভাকে কেন্দ্র করে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি। ইতিমধ্যে কোন বাঁধা ছাড়াই জনসভার প্রস্তুতি শেষ করা হয়েছে। বিভিন্ন সড়কে নেতাদের তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে।