• ২১শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ৭ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বানারীপাড়ায় ভূমি জরিপ  হয়নি ৬৯ বছরেও 

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৫, ১০:১৩ পূর্বাহ্ণ
বানারীপাড়ায় ভূমি জরিপ  হয়নি ৬৯ বছরেও 

এস মিজানুল ইসলাম, বানারীপাড়া(বরিশাল) সংবাদদাতা ॥  বানারীপাড়ায় ৬৯ বছর ধরে সরকারী কোন জরিপ না হওয়ায় জমিসংক্রান্ত বিরোধ জটিলতা ধারণ করছে।  উপজেলায় ১৯৫৬ সালে সর্বশেষ অনুষ্ঠিত এস এ জরিপের পর গত প্রায় ৭ দশক ধরে আর কোন জরিপ হয়নি। ভূমি রেকর্ড হালনাগাদ, রাজস্ব ব্যবস্থাপনা ও সাধারণ মানুষের নামজারী কার্যক্রমে বিঘ্ন হচ্ছে। 

ভূমি অফিসের রেকর্ড ভলিউম ছেড়া ও নষ্ট হয়ে যাওয়ায় মূল রেকর্ডীয় মালিকের নাম ও জমির তফসিলের সঠিক তথ্য পাওয়া যায়না। ভূমি অফিসের সার্বিক কার্যক্রম বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হচ্ছে। এ দপ্তরের কার্যক্রমে চরম স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। এছাড়া দিয়ারা জরিপ না হওয়ায় সন্ধ্যা নদীর তীরে জেগে ওঠা বিশাল চরের খাস সম্পত্তি সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছেনা। এসব সম্পত্তি যে যেভাবে পারছে দখল করে ভোগ করছে। চরের বিশাল সম্পত্তির ধানের চাষ ও পরবর্তীতে ধান কাটা

নিয়ে প্রতি বছর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও মামলা-পাল্টা মামলা হচ্ছে।ভূমি সংক্রান্ত  মামলায় নিঃস্ব হচ্ছে সাধারণ মানুষ। এদিকে ভূমি অফিসে কর্তব্যরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দাপ্তরিক কাজে গাফেলতি, অনিয়ম, দুর্নীতি এবং বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক প্রভাবের কারনে বানারীপাড়া উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের ভূমি অফিসগুলো কার্যতঃ একটি জণহয়রানিমূলক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। যেখানে উৎকোচ বিষয়টি ওপেন সিক্রেট। 

এদিকে বার বার সরকারি জরিপের কথা শোনা গেলেও তা বাস্তবায়িত হচ্ছে না। জরিপের লক্ষে ২০২০ সালে জরিপ অধিদপ্তর উপজেলার ১৪টি মৌজা গেজেডভূক্ত করার পরেও তা আর আলোর মুখ দেখেনি। দখলদার প্রভাবশালী মহল সাধারণ মানুষের মধ্যে ‘জরিপ হলে গরীব হয়ে যাবেন’ এ ভীতি সৃষ্টি করে এবং উচ্চ পর্যায়ে লবিং করে জরিপ প্রতিহত করছে বলে সচেতন মহলের ধারণা। এ ব্যাপারে প্রশাসন বরাবরই রহস্যজনক নীরব থাকছে। উপজেলা ভূমি অফিসে এ সংক্রান্ত তথ্য-জানতে গিয়ে বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়। কর্তব্যরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা কোন কাগজপত্রই আপডেট নয় বলে জানায়। উপজেলার কোথায় কি পরিমাণ খাস সম্পত্তি দখল ও বেদখল রয়েছে কিংবা কাকে কতটা লিজ দেয় হয়েছে এ ব্যপারেও সুনির্দিষ্ট কোন তথ্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদটি বর্তমানে শূণ্য রয়েছে। এ পদে পদায়ন হওয়ার পরে বদলী ও পদোন্নতিজনিত কারণে কিছুদিন না যেতেই জনগুরু ভূপূর্ণ পদটি আবার শুণ্য হয়ে যায়। 

এ ব্যপারে  উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: বায়েজিদুর রহমান বলেন, ভূমি সংক্রান্ত কার্যক্রমে শৃঙ্খলা ও গতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এ উপজেলায় জরিপ খুবই প্রয়োজন। তুমি অফিসে অনলাইনে ই-নামজারী কার্যক্রম শুরু হওয়ায় হয়রানি হ্রাস পেয়ে মানুষ এখন সেবাটাই বেশী পাচ্ছেন বলে জানান তিনি।#