স্টাফ রিপোর্টার, গোপালগঞ্জ : আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোপালগঞ্জের তিনটি আসনে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশর প্রার্থী ঘোষনা করা হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রার্থীরা গণসংযোগ, পথসভা, প্রচারপ্রচারনাসহ রাজনৈতিক কর্মকান্ড চালাচ্ছে।
জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ, গোপালগঞ্জ জেলা শাখা সূত্রে জানাগেছে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোপালগঞ্জের তিনটি আসনে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশর প্রার্থী ঘোষনা করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত গোপালগঞ্জের তিনটি আসনে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের গোপালগঞ্জের তিন প্রার্থী হলেন, গোপালগঞ্জ-০১ আসনে (মুকসুদপুর-কাশিয়ানী একাংশ) সাবেক আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল হামিদ, গোপালগঞ্জ-০২ আসনে (সদর-কাশিয়ানীর অপরাংশ) অ্যাডভোকেট আজমল হোসাইন সরদার ও গোপালগঞ্জ-৩ আসনে (টুঙ্গিপাড়া ও কোটালীপাড়া) অধ্যাপক রেজাউল করিম।
গত ২২ ফেব্রুয়ারি (শনিবার) দলের পক্ষ থেকে এ ঘোষণা দেন বাংলাদেশ জামায়েদ ইসলামী গোপালগঞ্জ জেলার আমির অধ্যাপক রেজাউল করিম।
গোপালগঞ্জ-০১ আসন (মুকসুদপুর-কাশিয়ানী একাংশ) থেকে সাবেক আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল হামিদকে জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী ঘোষনা করা হয়েছে। প্রার্থী হবার পর থেকে তিনি নির্বাচী প্রচারন প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছে। এ আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাকে মন্ত্রী লে: কর্ণেল (অব:) ফারুক খান সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
গোপালগঞ্জ-০২ আসন (সদর-কাশিয়ানীর অপরাংশ) থেকে অ্যাডভোকেট আজমল হোসাইন সরদারকে জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী ঘোষনা করা হয়েছে। তিনিও প্রার্থী হবার পর থেকে নির্বাচী প্রচারন প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছে। এ আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাকে মন্ত্রী শেখ ফজলুল করিম সেলিম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে আসছেন।
গোপালগঞ্জ-৩ আসনে (টুঙ্গিপাড়া ও কোটালীপাড়া) অধ্যাপক রেজাউল করিম জামায়েত ইসলামীর প্রার্থী হয়েছে। সবচেয়ে বেশি তিনি প্রচার প্রচারনা চালাচ্ছে। এ আসান থেকে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
এর আগে গত ১০ ফেব্রুয়ারি ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীনের পর প্রথমবারের মতো গোপালগঞ্জে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা করে। শোভাযাত্রাটি গোপালগঞ্জ শহরের লঞ্চঘাট এলাকার মডেল মসজিদ চত্বর থেকে বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে ঘোনাপাড়ায় গিয়ে শেষ করে।
আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে পরিচিত গোপালগঞ্জে ৫ আগস্টের পরে অধিকাংশ দলীয় নেতাকর্মীরা আত্মগোপনে চলে যান। এ্ররই মাঝে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির নেতাকর্মীরা সরব হলেও নিরবে মাঠে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে জামায়াতে ইসলামের নেতাকর্মীরা।
কোটালীপাড়া উপজেলা জামায়াতের আমির সোলায়মান গাজী বলেন, গোপালগঞ্জ-৩ (কোটালীপাড়া-টুঙ্গিপাড়া) আসন থেকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক রেজাউল করিমকে জামায়াতের প্রার্থী করায় আমরা দলীয় নেতাকর্মীরা আনন্দিত। আমরা ইতোমধ্যেই আমাদের দলীয় কাজ শুরু করে দিয়েছি।
জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক রেজাউল করিম বলেন, ৫ আগস্ট ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর গোপালগঞ্জে কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি প্রকাশ্যে পালন করা হয়নি। তবে আমরা আমাদের কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে অভ্যন্তরীণভাবে কর্মসূচি পালন করে আসছিলাম। গোপালগঞ্জের তিনটি আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। #