বরগুনা জেলা প্রতিনিধিঃ
ঈদ আনন্দ নেই সমুদ্রে নিখোঁজ বরগুনার দুই শতাধিক জেলে
পরিবারের। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে নতুন পোশাক তো দূরের কথা, অধিকাংশ পরিবারেই জোটেনি এক বেলা ভালো খাবার। দেশের মানুষের আমিষের চাহিদা পূরণ ও অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে গিয়ে নিখোঁজ এসব জেলে পরিবারের কথা ভাবে না কেউ।
সাগর যাদের জীবন, সেই সাগরই কেড়ে নেয় তাদের স্বপ্ন! সাগরে মাছ শিকার করতে গিয়ে বিভিন্ন সময় নিখোঁজ জেলে পরিবারগুলোতে নেই ঈদের আনন্দ।
পরিবারগুলোর দুখিনী মা, প্রিয়তমা স্ত্রী আর অসহায় স্বজনরা দিনের পর দিন, বছরের পর বছর অপেক্ষায় থাকে নিখোঁজ স্বামী আর সন্তানের পথ চেয়ে। উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে মানবতার জীবনযাপন করছে পরিবারগুলো। তেমনি একজন বরগুনার সদর উপজেলার ডালভাঙা গ্রামের তারাবানু। সমুদ্রে মাছ শিকারে গিয়ে ঘূর্ণিঝড় মিধিলির আঘাতে নিখোঁজ হন তার ছেলে। নিখোঁজ ইউনুস ফিরে আসবে এ আশায় পথ চেয়ে অঝোরে কেঁদে চলেছেন তার মা তারাবানু। ঈদের খুশি যেখানে অন্যের ঘরে, সেখানে তারাবানুর ঘরে শুধুই সন্তান হারানোর হাহাকার। দিন যায়, মাস যায়, বছর পার হয়—কিন্তু ছেলের অপেক্ষা ফুরায় না।
শুধু ইউনুস নয়, প্রতিবছর সাগরে মাছ শিকারে গিয়ে নিখোঁজ হন উপকূলের অসংখ্য জেলে ।পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে চরম দারিদ্রতাকে সঙ্গী করে মানবতার জীবনযাপন করছেন পরিবার গুলো। ঈদের আনন্দ দূরের কথা সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয় তাদের ।
সাগরে ট্রলার দুর্ঘটনায় নিখোঁজ জেলেদের সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত না করে মৃতের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি ট্রলার সমিতির।
এবিষয়ে বরগুনার ট্রলার মালিক সমিতি সভাপতি মোস্তফা চৌধুরী জানান, অনেক জেলেই দীর্ঘ বছর ধরে
নিখোজ রয়েছে সাগরে তাহলে কি তারা অমর। ট্রলার দুর্ঘটনায় নিখোঁজ জেলেদের সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত না করে মৃতের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হোক নয়তো এই পরিবারগুলো একেবারে ধ্বংস হয়ে যাবে। তাদের পরিবারের কাছে গেলে বোঝা যায় তারা কি অবস্থা আছেন।
মৎস্য বিভাগের তথ্য মতে ১৯৯৩ সাল থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত বরগুনায় প্রায় ২ শতাধিক জেলে নিখোঁজ রয়েছে।