• ২৫শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ১১ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

লালমোহনে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির ২ পক্ষের সংঘর্ষ আহত ৬, এখনো আতঙ্কে দিন কাটছে এলাকাবাসীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত এপ্রিল ৫, ২০২৫, ১৪:৩২ অপরাহ্ণ
লালমোহনে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে  বিএনপির ২ পক্ষের সংঘর্ষ আহত ৬, এখনো আতঙ্কে দিন কাটছে এলাকাবাসীর

মোঃ সাইফুল ইসলাম আকাশ
ভোলা প্রতিনিধি:
ভোলার লালমোহনে নিজেদের আদিপত্য বিস্তার কে কেন্দ্র করে বিএনপি’র ২ পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ৬ জন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে,এর মধ্যে একজন লালমোহন উপজেলার চরভুতা ইউনিয়ন বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান,ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ন আহ্বায়ক সাকিব ওয়াহিদ,মো: জিয়া,রকিবুল হাসান,সালমা খানম সহ পাঁচজন আহত হয়েছেন,লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আবি আব্দুল্লাহ খোকন এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে।
৫ই এপ্রিল শনিবার ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি চরভুতা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আহত সিদ্দিকুর রহমান জানান, লালমোহন চরভুতা ইউনিয়নে ব্যাপক হারে চাঁদাবাজি করে বেড়াচ্ছে তারা। এবং আমি ওই চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ফেসবুকে ও সরাসরি প্রতিবাদ করি। চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে। আমাকে নানানভাবে হুমকি ধামকি দেওয়া হয়। এমন কি আমাকে মেরে ফেলার কথাও বলে তারা।আমার একটাই অপরাধ আমি এই চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কেন প্রতিবাদ করলাম। গত মঙ্গলবার রাত ৯ ঘটিকার সময়। সাবেকি ইউপি সদস্য কালাম সরকার, রুবেল, নিলয়, মিলন, ফাহিমসহ ৮ থেকে ১০ জনে মিলে আমাদেরকে বেধড়কভাবে লাঠি সোটা, রড,বগিদা নিয়ে, মারধর করে আমি সহ আমরা ৬ জনে গুরুতর ভাবে জখম হই।
৫ই এপ্রিল ঘটনা সূত্রপাত জানতে,আহত ছাত্রদলের যুগ্ন আহবায়ক সাকিবের বাসায় যাওয়া হলে,তিনি বলেন বাড়ির পাশে ক্লিনিকের কাছে একা পেয়ে তাকে মারধর করে কালাম সরকার সহ বিভিন্ন লোকজন,তার অপরাধকে কি তিনি সেটা জানেন না।
ইউনিয়ন বিএনপি’র সাবেক সভাপতি আবী আব্দুল্লাহ খোকন দাবি করেন,কাগজে-কলমে তিনি সভাপতি তবে সাবেক মন্ত্রী মেজর হাফিজ উদ্দিন বীর বিক্রম ইলিয়াস সরকার ওরফে কালাম সরকার ও মোতাহার হোসেনকে নিয়ে যে কমিটির অনুমোদন দিয়েছেন তার কোন ভিত্তি নেই,বর্তমানে তিনি বঞ্চিত হচ্ছেন দলীয় বিভিন্ন কাজ থেকে।
আহতরা বর্তমানে চিকিৎসা ও আইনি সহায়তা নিতে হুমকির শিকার হচ্ছে বলে ও জানান তারা।
এদিকে স্থানীয়রা জানান,বর্তমান রাজনীতিতে লালমোহনে সাবেক মন্ত্রী মেজর হাফিজ উদ্দিন বীর বিক্রমের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মার্শাল হিমু প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চায়,আহতরা তার লোকজন এ কারণে দুই পক্ষের সংঘতির কারণে এ ঘটনা ঘটেছে।
অভিযুক্ত ইউনিয়ন বিএনপি’র বর্তমান সভাপতি দাবি করা ইলিয়াস সরকার ওরফে কালাম সরকারের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তিনি বলেন ঘটনাস্থলে আমি ছিলাম না তবে শুনেছি আওয়ামী লীগের মিটিং এ গিয়ে সিদ্দিকুর রহমান সাহেব আহত হয়েছে,কেউ আওয়ামী লীগের মিটিংয়ে গেলে এটাই হবে স্বাভাবিক।
এদিকে লালমোহন উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মোঃ বাবুল পঞ্চায়েত বলেন, চরভুতা ইউনিয়নের সম্পাদক পরিচয় দানকারী সিদ্দিকুর রহমান ওই চরভুতা ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক নয়,অনেক পূর্বে তিনি ছিলেন এখন নেই,আওয়ামী লীগের সাথে সখ্যতার কারণে তাদেরকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
হামলার বিষয় জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন,লালমোহন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফখরুল হাওলাদারের ছোট ভাই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মুস্তাফিজ হাওলাদার,যুবলীগ নেতা মাসুদ হাওলাদার সহ হাজিগঞ্জ স্কুলে রাতে একটি গোপন বৈঠকের আয়োজন করে এমন বিষয় জানতে পেরে সেখানে এলাকার লোকজন হামলা করে,হামলার শিকার হন ইউনিয়ন বিএনপি সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান সহ বেশ কয়েকজন,বাবুল পঞ্চায়েত বলেন তিনি বিএনপি দাবি করেন তবে আওয়ামী লীগের মিটিংয়ে কেন গেলেন,কেউ যদি বিএনপি দাবি করে আওয়ামী লীগের সাথে সখ্যতা করে তাকে অবশ্যই প্রতিহত করা হবে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন,সাবেক এমপি শাওনের নির্দেশে এই মিটিং-এর আয়োজন করে তারা,এতে সাবেক সভাপতি আবি আব্দুল্লাহ খোকন ও সিদ্দিক রহমান জড়িত রয়েছে,তাই স্থানীয় লোকজন ও বিএনপির স্থানীয় রাজনীতিবিদরা প্রতিহত করেছেন।
স্থানীয়দের কাছে জানতে চাওয়া হলে তারা জানান,বর্তমানে এলাকায় থমথম অবস্থা,যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে,আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের।
এই হামলার বিষয়ে লালমোহন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ সিরাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের কে বলেন,গত ১লা এপ্রিল মঙ্গলবার হরিগঞ্জের হাজীগঞ্জে চরভুতা ইউনিয়নে ছাত্রদলের দুপক্ষের সংঘর্ষ হয়েছে,এতে ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদকসহ কয়েকজন আহত হলে ঘটনা স্থলে পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসে,এ ঘটনায় রকিবুল ইসলাম নামে সরকারি একজন কর্মকর্তা আহত হলে তিনি লালমোহন থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন তবে আহতরা ভোলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় থাকায় এখনো কেউ মামলা করতে আসেনি,কেউ মামলা করতে চাইলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে তবে আওয়ামী লীগের কোন কর্মসূচিতে এ ঘটনা ছিল কিনা এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন,আওয়ামী লীগ নয় বরং ছাত্রদলের দুপক্ষের সংঘর্ষের কারণে এ ঘটনা ঘটেছে,বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলেও জানান তিনি।