• ২১শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ৭ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গোপালগঞ্জে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ খেলাধুলা প্রতিযোগিতা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত এপ্রিল ৬, ২০২৫, ১০:২৮ পূর্বাহ্ণ
গোপালগঞ্জে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ খেলাধুলা প্রতিযোগিতা

স্টাফ রিপোর্টার, গোপালগঞ্জ : ঈদ আনন্দকে রঙিন করে তুলতে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ খেলাধুলা প্রতিযোগিতা। চাপতা গ্রামবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত এ প্রতিযোগীতায় ছিলো রশি টানাটানি, বালিশ খেলা, হাঁড়ি ভাঙা, তেলমাখা কলাগাছ বেয়ে ওঠা, চেয়ার সিটিংসহ বিভিন্ন গ্রামীন খেলা। এ প্রতিযোগিতায় শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে প্রবীণরাও অংশ নিতে পেরে খুশি। গ্রামীন ঐতিহ্য ধরতে রাখতে আগামীতেও এমন আয়োজনের কথা জানান আয়োজকেরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার চাপতা গ্রামের রেল স্টেশন বালুর মাঠে রশির দুই প্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে দুই দল। রশি টেনে যারা নিজেদের কাছে নিয়ে আসতে পারবেন জয়ী হবেন। তাই রশি টেনে আনতে চলছে পেশির লাড়াই।

শুধু রশি টানাটানি নয় শিশু ও কিশোর প্রতিযোগীরদের চেষ্টা ছিল তৈলাক্ত কলা গাছ বেয়ে উপরে ওঠার। এছাড়াও হাঁড়ি ভাঙা, চেয়ার সিটিংসহ বিভিন্ন গ্রামীন খেলার আয়োজন করা হয়। পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও অংশ নেন কয়েকটি প্রতিযোগিতায় যা আয়োজনে বাড়তি উচ্ছ্বাস যোগ করে। যা হারিয়ে যাওয়া গ্রামীণ সংস্কৃতির স্মৃতিকে ফিরিয়ে আনে।

এ প্রতিযোগীতা দেখতে দুপুর থেকেই দর্শনার্থীদের ছিল উপচে পড়া ভীড়। গ্রামের মানুষ একসঙ্গে মিলিত হয়ে এ খেলাগুলো উপভোগ করেন। বিশেষ করে শিশু ও তরুণদের মাঝে ছিল ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। কালেরক্রমে হারিয়ে যাওয়া এই গ্রামীন খেলার আয়োজন করায় ঘরবন্ধি শিশুরা যেমন আনন্দ উপভাগ করেছে, তেমনি মাদক ও মোবাইল গেমের আসক্তি থেকে কিশোর ও যুবকরা ফিরে আসবে বলে মনে করেন, দর্শনার্থীরা।

দর্শনার্থী আমিন মিনা বলেন, কালের বিবর্তনে দেশীয় ঐতিহ্যবাহী খেলাগুলো হারিয়ে যেতে বসেছে। তাই গত ঈদ থেকে আমাদের গ্রামে এমন খেলার আয়োজন হতো। এবারের ঈদেও এমন আয়োজন করা হলো। আমরা চাই, এই আয়োজন প্রতিবছর নিয়মিত হোক।

দর্শনার্থী ইয়াসমিন বেগম বলেন, মাদক আর মোবাইল গেমের কারনে আমাদের নতুন প্রজন্ম রশি টানাটানি, বালিশ খেলা, হাঁড়ি ভাঙা, তেলমাখা কলাগাছ বেয়ে ওঠা, চেয়ার সিটিংসহ বিভিন্ন গ্রামীন খেলাগুলো জানে না ও চেনে না। আমাদের নতুন প্রজন্মকে এসব দেশীয় খেলার সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে এমন আয়োজন করার প্রয়োজন। দেশীয় খেলাগুলোর আয়োজন করতে পারলে আমাদের তরুন প্রজন্ম মাদক ও মোবাইল গেমের আসক্তি থেকে মুক্তি পাবে।

আয়োজক নূর হোসেন কাজী ও আব্দুর রহিম খাকি বলেন, বর্তমান প্রজন্ম মোবাইল আর প্রযুক্তির জগতে বেশি আসক্ত হয়ে পড়ছে। তাই, গ্রামীণ সংস্কৃতির পুনর্জাগরণের জন্যই আমাদের এই উদ্যোগ। আমরা চাই, সবাই একসঙ্গে মিলেমিশে আনন্দ করুক এবং আমাদের ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলাকে ধরে রাখুক। #