• ২৫শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ১১ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গোপালগঞ্জে ফরিদপুর বিএডিসি যুগ্ম পরিচালকের ক্ষমতার অপব্যবহার ও হয়রানীর প্রতিবাদে ভুক্তভোগী কৃষকের সংবাদ সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত এপ্রিল ১৩, ২০২৫, ১০:০৮ পূর্বাহ্ণ
গোপালগঞ্জে ফরিদপুর বিএডিসি যুগ্ম পরিচালকের ক্ষমতার অপব্যবহার ও হয়রানীর প্রতিবাদে ভুক্তভোগী কৃষকের সংবাদ সম্মেলন

স্টাফ রিপোর্টার, গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে ফরিদপুর বিএডিসি যুগ্ম পরিচালক, (সার) এস এম ইকরামুল হকের ক্ষমতার অপব্যবহার ও হয়রানীর প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সাজ্জাদুল হক নামের এক ভুক্তভোগী কৃষক।

আজ রবিবার (১৩ এপ্রিল) সকালে কাশিয়ানী উপজেলার ধলগ্রামের নিজ বাড়ীতে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আমার বাবা ১৯৮৯ সনে বিআর ডিবির থেকে সেচ প্রকল্প হতে ঋন নিয়ে সেচ পাম্প পরিচালনা করে আসছিলেন। ২০২২ সনে হৃদ রোগে আক্রান্ত হয়ে আমার বাবা মৃত্যুবরণ করলে আমি সেচ পাম্প পরিচালনা করে আসছি। ২০২৪ সালে সেচ পাম্পটি দখল করার উদ্দেশ্যে ও এবং উৎখাত করার জন্য নানাবিধ হুমকি দিয়ে আসছে এস এম ইকরামুল হক। এমনকি পুলিশে মিথ্যা অভিযোগের মাধ্যমে তাকে হয়রানি ও বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দিয়ে আসছে যদি আমি সেচ পাম্প ছেড়ে না দেই। পরবর্তীতে বিষয়টি সমাধানের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করলে শালিসির দায়িত্ব দেয়া হয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে। কিন্তু ইকরামুল হক বড় কর্মকর্তা হওয়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, এসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার বিএডিসি কাশিয়ানি মো: ইমরান প্রভাবিত হয়ে পাম্প ছেড়ে দেওয়ার জন্য তার উপর চাপ সৃষ্টি করেন অথচ আমার থেকে কোন ডকুমেন্টস যাচাই-বাছাই করার প্রয়োজন মনে করেননি। আমি ছেড়ে দিতে অস্বীকার করলে তৃতীয় পক্ষকে সেচ পাম্প দিয়ে দেওয়ার জন্য সিদ্ধান্ত নেন।

তিনি আরো বলেন, পরবর্তীতে বোরিং পাইপ চুরি হয় এবং বোরিং নষ্ট হবার কারনে আমাকে বোরিং স্থানান্তর করতে হয় এবং ১০ ফুট দূরে আমার নিজস্ব জমিতে করি। পাম্পটি বিএডিসির লাইসেন্স ও জবাবদিহিতার আওতায় না থাকায় বোরিং পরিবর্তন করতে অনুমতি নেওয়া লাগে অবগত ছিলাম না। বোরিং পরিবর্তন করেছি, ইকরামুল হক বিষয়টি অবগত হয়ে পল্লিবিদ্যুত এ মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে এবং উনার প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে আমার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় সেচ কার্যক্রম পরিচালনা করতে অসুবিধা হচ্ছে, জরুরিভিত্তিতে ডিজেল ইঞ্জিন দিয়ে সেচ কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে, যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং আমি অর্থনৈতিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। পল্লিবিদ্যুত এ যোগাযোগ করলে বিএডিসির ছাড় পত্র চায়, কিন্তু কোন ভাবেই বিএডিসি কাশিয়ানি আমাকে ছাড় পত্র দিচ্ছে না।

ভুক্তভোগী ওই কৃষক আরো বলেন, ইকরামুল হক উপ- পরিচালক থাকা অবস্থায় বিভাগীয় দুর্নীতির কারনে ২০১৬/১৭ অথবা ২০১৭/১৮ সনে দুদকের মামলায় অভিযুক্ত। গোপালগঞ্জ বাড়ি হওয়ায় বিগত সরকারের আমলে দুর্নীতির মামলা থাকা অবস্থায়তেও প্রমোশন বাগিয়ে নেয় এবং প্রচুর অবৈধ সম্পদের মালিক হন। আমার বিএডিসির রেজিষ্ট্রেশন (রেজি: ৬৪৮৭ ফরিদপুর) থাকা সত্বেও আমি ইকরামুল হকের দাপটে বীজ সরবরাহ করতে পারি না। ২৩-২৪ অর্থ বছরে কন্টাক্ট গ্রোয়ার্স আমাকে ১০০ টন বীজ বরাদ্দ দিলেও প্রোসেসিং এর দায়িত্বে ইকরামুল হক থাকায় আমার বীজ দেওয়া বন্ধ হয়ে যায়।

দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগের মাধ্যমে সেচ পরিচালনা করতে সহযোগিতা ও যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহরে জন্য কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামা করেন।

এব্যাপারে ফরিদপুর বিএডিসি যুগ্ম পরিচালক, (সার) এস এম ইকরামুল হক হয়রানীর অভিযোগ অস্বীকার মোবাইল ফোনে বলেন, করে বলেন, এই জমিতে ১১জন শরীক রয়েছে। সাজ্জাদুল হক আমার ভাতিজা হয়। কিন্তু ও কাউকে ভাগ দিতে চান না। এ ব্যাপারে কয়েকবার শালিস হলেও ও কোন শালিস মানতে চায়না। বিদ্যুতের লাইন বন্ধ করার যে অভিযোগ তুলেছে এটাও ঠিক নয়। এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় বোরিং সরিয়ে নেয়ার কারনে লাইন কেটে দিয়েছে বিদ্যুত বিভাগ। আমার বিরুদ্ধে কোন ধরনের কোন মামলা বা অভিযোগও নেই। #