• ২১শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ৭ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জিয়াউল আহসানের বাগানবাড়িসহ ৭ ফ্ল্যাট-বাড়ি জব্দের আদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত এপ্রিল ২৪, ২০২৫, ১৪:৩২ অপরাহ্ণ
জিয়াউল আহসানের বাগানবাড়িসহ ৭ ফ্ল্যাট-বাড়ি জব্দের আদেশ

ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের (বরখাস্ত) একটি বাগানবাড়িসহ চারটি বাড়ি এবং তিনটি ফ্ল্যাট জব্দের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

এছাড়া জিয়াউলের নামে থাকা আরও ৯টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার আদেশ দিয়েছেন আদালত।

এসব ব্যাংক হিসেবে জমা থাকা অর্থের পরিমাণ ১ কোটি ২৮ লাখ টাকা। এর বাইরে তার নামে থাকা বিভিন্ন কৃষি জমিও জব্দের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগরের জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ জাকির হোসেন আজ বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেন।

দুদকের তথ্য অনুযায়ী, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে জিয়াউল আহসানের আটতলা একটি বাড়ি, বরিশালে একটি বাগানবাড়ি, একটি একতলা বাড়ি ও নির্মাণাধীন আটতলা একটি বাড়ি রয়েছে; আর ফ্ল্যাট তিনটি ঢাকার মিরপুর, উত্তরা ও মিরপুর ডিওএইচএসে।

গত ১৬ আগস্ট সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানকে গভীর রাতে রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে নিউমার্কেট থানার একটি হত্যা মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। এখন তিনি কারাগারে আছেন।

জিয়াউল আহসান সর্বশেষ টেলিযোগাযোগ নজরদারির জাতীয় সংস্থা ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) মহাপরিচালক ছিলেন।

গত ১৫ বছর আলোচিত ও প্রভাবশালী এই কর্মকর্তাকে শেখ হাসিনা সরকার পতনের পরদিন ৬ আগস্ট চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম-দুর্নীতি ও ঘুষ গ্রহণের মাধ্যমে প্রায় ৪০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে গত ২৩ জানুয়ারি জিয়াউল আহসান ও তার স্ত্রী নুসরাত জাহানের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক।

পরের দিন দুদক জানায়, তারা অনুসন্ধানে জানতে পেরেছে, জিয়াউল আহসান অ্যান্টিগা অ্যান্ড বারবুডার নাগরিকত্ব নিয়ে বিপুল অর্থ অবৈধভাবে সেখানে বিনিয়োগ করেছেন।

তিনি দুবাই, মালয়েশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রে বড় অঙ্কের টাকা পাচার করেছেন। এছাড়া তার দেশে-বিদেশে বিপুল সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। ২০১৭ সালে জিয়াউল আহসান অ্যান্টিগা অ্যান্ড বারবুডার নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন বলে জানিয়েছে দুদক।

ওই নাগরিকত্ব নেওয়ার সময় জিয়াউল আহসান ও তার পরিবার দুই লাখ মার্কিন ডলার মালয়েশিয়ার দুটি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে পরিশোধ করেন। এছাড়া জিয়াউল আহসান অ্যান্টিগা অ্যান্ড বারবুডার পাঁচ বছর মেয়াদি বন্ডে প্রায় ১৩ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার অবৈধভাবে বিনিয়োগ করেছেন।

দুদক অনুসন্ধানকালে আরও জানতে পারে, জিয়াউল আহসান দুবাইয়ের ফাস্ট আবুধাবি ব্যাংক নামের একটি ব্যাংকের হিসাবে ২০ কোটি টাকা ও আরেকটি ব্যাংক হিসাবে ৭৫ কোটি টাকা পাচার করেছেন।

এ ছাড়া মালয়েশিয়ার একটি ব্যাংক হিসাবে ৭৫ কোটি টাকা ও যুক্তরাষ্ট্রের একটি ব্যাংক হিসাবে বড় অঙ্কের টাকা পাচারের তথ্য পাওয়া গেছে।