• ২১শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ৭ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গোপালগঞ্জে কাল বৈশাখী ঝড় ও শিলা বৃষ্টিতে বোরো ধানসহ ফসলের ক্ষতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত এপ্রিল ২৯, ২০২৫, ১২:৫২ অপরাহ্ণ
গোপালগঞ্জে কাল বৈশাখী ঝড় ও শিলা বৃষ্টিতে বোরো ধানসহ ফসলের ক্ষতি

স্টাফ রিপোর্টার, গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জে কালবৈশাখী ঝড় ও শিলা বৃষ্টিতে বোরো ধানসহ ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এতে পাটের আগা ভেঙ্গে যাওয়া ও ধান জমিতে হেলে পাড়ায় ক্ষতি আশংকায় রয়েছেন কৃষকরা। বিশেষ করে মুকসুদপুর উপজেলার পশারগাতিতে শিলা বৃষ্টি হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমান বেশি বলে ধারনা করা হচ্ছে। জেলায় এখন পযর্ন্ত কি পরিমান ক্ষয়ক্ষতি হয়ে তা নিরুপণ করতে পারেনি কৃষি বিভাগ। তবে কৃষি বিভাগ বলেছে, পাটের পরিচর্চা করলে ও ধান দ্রুত কেটে নিলে ক্ষতি কমানো সম্ভব হবে।

জানাগেছে, গোপালগঞ্জে সোমবার (২৮ এপ্রিল) সকাল থেকেই দিনভর মাঝারি বৃষ্টিপাত হয়। তবে বিকাল সাড়ে ৪টার জেলার মুকসুদপুর উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড়ের সাথে উপজেলার পশারগাতীতে শিলা বৃষ্টি হয়। মাত্র ৫ মিনিটের ঝড় ও শিলা বৃষ্টিতে পাটের আগা ভেঙ্গে যাওয়ায় ও বোরো ধান জমিতে হেলে পড়ায় ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। যেসব পাটের চারার আগা ভেঙ্গে গেছে সেসব পাটের চারা ও জমিতে পানি থাকায় পাকা ধান গজিয়ে নষ্ট হবার আশংকায় রয়েছেন। এমনকি কাটা ধানও বৃষ্টির পনিতে ভিজে যাওয়া নষ্ট হবার শংকায় রয়েছে। দ্রুত মাঠের এসব ধান কেটে ঘরে তুলতে না পারলে মাঠেই ধান নষ্ট হবে বলে জানায় কৃষকরা।

গোপালগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারন অদিদপ্তর সূত্রে জানাগেছে, মুকসুদপুর উপজেলা পশারগাতীতে শিলা বৃষ্টিতে পাটের চারার ক্ষতি হয়েছে। যা শতকরা ২৫ ভাগ। তবে ঝড়ে ধানের ক্ষতি না হলেও গাছ হেলে পড়েছে বলে জানায় কৃষি বিভাগ। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান নিরূপন করতে পারেনি।

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার কৃষক সুশান্ত বালা বলেন, গোপালগঞ্জ সদরে শিলা বৃষ্টি না হলেও ব্যাপক বৃষ্টিপাত হয়েছে। এতে জমির পাকা ধান মাটিতে হেলে পড়েছে। এতে গাছ থেকে পাকা ধান খসে পড়েছে। এসব ধান দ্রুত কটতে না পারলে জমিতে পানি থাকায় ধান গজিয়ে যাবে। এতে আমার ব্যাপক ক্ষতি হবে।

অপর কৃষানী ফুলমালা বালা বলেন, গতকাল বৃষ্টি হওয়াতে আমাদের জমির ধানের ক্ষতি হয়েছে। ধান মাটিতে গড়িয়ে যাচ্ছে। আর যতটুকু দান কেটে নিয়েছি তা বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে। এ ধান শুকাতে না পারলে গজিয়ে নষ্ট হয়ে যাবে।

গোপালগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরে উপ-পরিচালক আ: কাদের সরদার বলেন, ঝড় ও শিলা বৃষ্টিতে পাটের ২৫ ভাগ ক্ষতি হয়েছে। বোরা ধান মাটিয়ে হেলে পড়েছে, তবে ক্ষতি পরিমান কম হবে। এসব পাটের পরিচর্চা ও মাঠ থেকে ধান দ্রুত কেটে নিতে পারলে ক্ষতি পরিমান কমানো সম্ভব। জেলার ক্ষয়ক্ষতি পরিপান নির্ণয় করা হচ্ছে। দ্রুত পাকা ধান মাঠ থেকে কেটে নেয়ার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেন তিনি। #