• ২১শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ৭ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ওসি-এসআ্ই’র বিরুদ্ধে মামলা, বাদির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত এপ্রিল ৩০, ২০২৫, ১৫:১৪ অপরাহ্ণ
ওসি-এসআ্ই’র বিরুদ্ধে মামলা, বাদির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল

ওসি ও একজন সাব ইন্সপেক্টর(এসআই) বিরুদ্ধে আদালতে নালিশী মামলা দায়েরের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন গ্রামবাসী। ঘটনাটি বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর ইউনিয়নের নোয়াপাড়া গ্রামের। বুধবার বেলা সাড়ে এগারোটার দিকে হওয়া বিক্ষোভ মিছিলে ওই এলাকার নারী ও পুরুষরা অংশগ্রহণ করেন। এসময় বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন শ্লোগানের মাধ্যমে স্থানীয় একটি কু-চক্রি মহলের প্রত্যক্ষ ইন্ধনে দায়ের করা এ মামলা অনতিবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি করেন।

এরআগে এক লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ এনে গৌরনদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইউনুস মিয়া এবং উপ-পরিদর্শক (এসআই) নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে গত ২৮ এপ্রিল বরিশালের জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতে নালিশি অভিযোগ দায়ের করেন নোয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা প্রবাসী আজাদ সরদারের স্ত্রী সুমা বেগম।

স্থানীয় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী জানান, গ্রামের মানুষের চলাচলের একমাত্র পথ বন্ধ করে পারিবারিক কবরস্থানের নামে পাকা দেয়াল নির্মান করছিলেন সুমা বেগম। এসময় গ্রামবাসী তাকে নির্মান কাজে বাঁধা প্রদান করেন। এরপরও বাঁধা উপেক্ষা করে নির্মান কাজ চালিয়ে আসছিলো সুমা বেগম।

ওসি-এসআই’র বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া নালিশী মামলায় বাদি সুমা বেগম উল্লেখ করেন, গত ১১ এপ্রিল সকাল সাড়ে দশটার দিকে স্থানীয় কতিপয় দুর্বৃত্তরা তার (সুমা) শশুর বাড়ির পূর্ব পুরুষের পাকা কবরস্থান ভাংচুর করে দখলের জন্য আসে। এসময় বাদি ৯৯৯ কল করার পর গৌরনদী মডেল থানার এসআই নজরুল ইসলাম ঘটনাস্থলে আসেন। এরপর রহস্যজনকভাবে এসআই নজরুল ইসলাম বাদি সুমা বেগমসহ মামলার তিনজন সাক্ষীকে আটক করে থানায় নিয়ে যান। থানার ওসি এবং এসআই আটককৃতদের ছেড়ে দেয়ার জন্য সুমা বেগমের কাছে এক লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। তাদের দাবিকৃত ঘুষের টাকা দিকে অপরাগতা প্রকাশ করায় মামলায় জড়ানোর হুমকি দিয়ে ওসি এবং এসআই রাত নয়টা পর্যন্ত বে-আইনীভাবে আটককৃতদের থানা হেফাজতে রাখেন। পরবর্তীতে ওইদিন রাত নয়টার পর থানা হেফাজত থেকে বাদি ও মামলার তিনজন সাক্ষীকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

মামলায় সুমা বেগম আরও উল্লেখ করেন, ওসি এবং এসআই মামলার বাদি ও তিনজন সাক্ষীকে দীর্ঘসময় থানায় আটক করে রাখার কারণে দুর্বৃত্তরা বাঁধাহীনভাবে কবরস্থান ভাংচুর করে দখল কার্যক্রম পরিচালনা করতে পেরেছে। এছাড়া দুর্বৃত্তদের পক্ষালম্বন করে বাদির দায়ের করা এজাহার থানায় মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়নি। এ ঘটনায় বাদি সুমা বেগম গত ১৩ এপ্রিল দুর্নীতি দমন কমিশন বরিশাল কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেখান থেকে কার্যকরী কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় বাদি সুমা বেগম তার আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে মামলাটি দায়ের করেছেন।

মামলার বাদি সুমা বেগম এজাহারের প্রতিটি বিষয় সত্য দাবি করে বলেন, মামলা দায়েরের খবর ২৯ এপ্রিল দিবাগত রাতে গৌরনদীতে ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে ও তার পরিবারের সদস্যসহ মামলার সাক্ষীদের স্থানীয় কতিপয় প্রভাবশালীরা বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শন অব্যাহত রেখেছে। তাদের হুমকির মুখে তিনি (সুমা বেগম) এখন নিজ এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বলেও উল্লেখ করেন।

বুধবার দুপুরে গৌরনদী মডেল থানার ওসি মো. ইউনুস মিয়া বলেন, গত ১১ এপ্রিল জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নাম্বারের কল পেয়ে ঘটনাস্থলে গৌরনদী মডেল থানার সাব ইন্সপেক্টর নজরুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে যায়। তিনি সরেজমিনে গিয়ে জানতে পারেন নির্মিত দেয়ালের জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলছে। তাই মামলা নিস্ফত্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্মান কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়ে এসআই নজরুল থানার চলে আসে। ওসি আরও জানান, থানা পুলিশের কাছ থেকে অবৈধ সুবিধা গ্রহণ করতে না পেরে প্রবাসীর স্ত্রী সুমি বেগম আদালতে মনগড়া একটি মিথ্যে নালিশী অভিযোগ দায়ের করেন। সেখানে তিনি এক লাখ টাকা ঘুষ দাবি ও থানায় এনে আটক করে রাখার অভিযোগ করেন। যা সম্পূর্ণ মিথ্যে ও ভিত্তিহীন। সেদিন কাউকে থানায় এনে আটক রাখা হয়নি। এমনকি টাকা দাবি করা হয়নি বলেও ওসি উল্লেখ করেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী কামরুল ইসলাম বলেন, সুমা বেগমের দায়ের করা নালিশী মামলাটি বিচারক আদেশের জন্য রেখে দিয়েছেন।