খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি :
বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর ও ব্যস্ত জীবনধারায় পরিবারে একে অপরের জন্য সময় বের করা ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে শিশুরা আজকাল বইয়ের চেয়ে মোবাইল ফোন ও টেলিভিশনের পর্দায় বেশি সময় কাটায়। অথচ পরিবারই তাদের প্রথম শিক্ষালয়—যেখানে ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও দায়িত্ববোধের বীজ রোপিত হয়।
এই উপলব্ধি থেকেই আন্তর্জাতিক পরিবার দিবস উপলক্ষে ১৫ মে (বৃহস্পতিবার) সকাল ১০টায় খুলনার লায়ন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজে আয়োজন করা হয় এক বিশেষ কর্মশালা। “পরিবারে মূল্যবোধ ও মমতা: আধুনিক প্রজন্মের চ্যালেঞ্জ” শীর্ষক এই কর্মশালাটি আয়োজন করে বাংলাদেশ জার্নালিজম স্টুডেন্টস কাউন্সিল (বিজেএসসি), খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ।
কর্মশালায় পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা অংশ নেয় বিভিন্ন সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে—যেমন কথা বলা, ছবি আঁকা, গল্প বলা এবং নাট্যাভিনয়। এসবের মাধ্যমে তারা বোঝানোর চেষ্টা করে কীভাবে পরিবারে সময় দেওয়া এবং ছোট ছোট কাজের মধ্য দিয়েই ভালোবাসা ও সহানুভূতি প্রকাশ করা যায়। শিশুদের সরল বক্তব্যগুলো উপস্থিত সবার হৃদয় ছুঁয়ে যায়।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোঃ তানভীর বলেন, “শিশুরা যদি ছোটবেলা থেকেই পরিবারে সঠিক মূল্যবোধ শেখে, তবে তারা ভবিষ্যতে আরও দায়িত্বশীল ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবে।”
বিজেএসসি’র সদস্য দিয়া তাবাসসুম বলেন, “আমরা চেয়েছি শিশুদের কণ্ঠেই উচ্চারিত হোক পরিবারের গুরুত্ব। তাদের ভাবনার মধ্যেই লুকিয়ে আছে আগামীর সমাজের রূপরেখা।”
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান জানান, “পরিবার মানবিকতা ও সামাজিক শৃঙ্খলার সূতিকাগার। এই বার্তাই শিশুদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়াই ছিল এই কর্মশালার মূল লক্ষ্য।” তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতেও এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
এই কর্মশালাটি শুধু শিশুদের অংশগ্রহণে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং এর মাধ্যমে একটি গভীর মানবিক বার্তা তুলে ধরা হয়—প্রযুক্তি যতই আধুনিক হোক না কেন, ভালোবাসা, আন্তরিকতা ও সম্পর্কের উষ্ণতা কখনোই তার বিকল্প হতে পারে না।