• ২১শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ৭ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দশমিনায় পরিবেশ দিবসে কিশোরী শিক্ষা কেন্দ্রের আয়োজনে মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত জুন ৩, ২০২৫, ১৫:১৮ অপরাহ্ণ
দশমিনায় পরিবেশ দিবসে কিশোরী শিক্ষা কেন্দ্রের আয়োজনে মানববন্ধন

সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক ও অবৈধ ইটভাটা বন্ধে আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করন জরুরি, জাতি সংঘের পরিবেশ বিষয়ক কর্মসূচি ( ইউনইপি) তাদের বিশ্ব ব্যাপী প্লাস্টিক উৎপাদন ও ব্যবহার সংক্রান্ত এক প্রতিবেদনে প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের পদ্ধা, যমুনা, ও মেঘনা নদী দিয়ে প্রতিদিন ৭৩ হাজার টন প্লাস্টিক বর্জ্য সাগরে মিশে যাচ্ছে, যার কারনে আমাদের পরিবেশ আজ বিরাট হুমকির সম্মুখীন, উন্নয়নের মোহে মানবজাতির কার্যকলাপ আজ এমন এক পর্যায়ে উপনীত হয়েছে যে প্রকৃতি তার ভারসাম্য হারিয়েছে বিশ্বব্যাপী পরিবেশ দূষন আমাদের কে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। জনসংখ্যার লাগামহীন বৃদ্ধি, জমিতে অধিকমাত্রায় কীটনাশক ও রাসায়নিক সার ব্যবহার শিল্প কলকারখানার অপরিশোধিত বর্জ্য পদার্থ, নির্বিচারে বনভূমি ধ্বংস, যানবাহনের কালোধোয়া প্লাস্টিকের অবাদ ও যথেচ্ছ ব্যবহার এবং ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ার কারনে পরিবেশ নিয়মিত দুষিত হচ্ছে পরিবেশের ভারসাম্য নস্ট হচ্ছে।এভাবে চলতে থাকলে অদুর ভবিষ্যতে প্লাস্টিক বর্জ্য এর নিচে চাপা পরবে মানব সভ্যতা, তাই প্লাস্টিক দূষন রোধের কার্যক্রমকে গতিশীল করে তুলতে মিডিয়াকর্মী, নেতাকর্মী, সাধারন আমজনতা কে প্লাস্টিক পন্য ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করতে হবে পাশাপাশি সরকারের কঠোর পদক্ষেপের আহবান জানান।
আজ দশমিনা সদর উপজেলা পরিষদ সম্মুখে কোস্ট কিশোরী শিক্ষা কেন্দ্রের কিশোরদের আয়োজনে বিশ্ব পরিবেশ দিবসে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তারা এ সকল দাবি সমূহ তুলে ধরেন। এনজিও সমন্বয় কারি জনাব মোঃ রাইহান বাদল বলেন,
প্লাস্টিক বর্জ্য ও প্লাস্টিক দূষন চক্র প্রাকৃতিক পরিবেশে পরবর্তী সময়ে যে বন্যপ্রানী ও বন্যপ্রানীর আবাসস্থল এমন কি মানব জাতির উপরও বিরুপ প্রভাব সৃষ্টি করে চলছে, মানুষের নিয়মিত প্লাস্টিক পন্যের ব্যবহার পরিবেশ দূষনের মাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছে, পলিথিন ব্যাগ, কসমেটিক প্লাস্টিক,গৃহস্থালির প্লাস্টিক, বানিজ্যিক কাজে ব্যবহিত প্লাস্টিক বেশিরভাগেই পুনঃচক্রায়ন হয়না।এগুলো পরিবেশ থেকে বর্জ্যের আকারে নেওয়া মানুষের অসচেতনতাই প্লাস্টিক দুষনের একমাত্র কারন বলে তিনি মনে করেন।

কিশোরী শিক্ষা কেন্দ্রের পেয়ার লিডার আশপ্রিয়া বেগম বলেন,
মুদি দোকান থেকে কেনা পন্য বহন করার জন্য যে সব প্লাস্টিকের ব্যাগ আমরা ব্যবহার করি সেগুলো প্রকৃতিতে মিশে যেতে ২০ বছর সময় লাগে, চা কপি জুস কিংবা কোমল পানীয়ের জন্য যে সকল প্লাস্টিকের কাপ আমরা ব্যবহার করি তা ৫০ বছর পর্যন্ত টিকে থাকে, প্লাস্টিকের বোতল টিকে থাকে ৪৫০ বছর, যা আমাদের পরিবেশের জন্য হুমকি সরুপ।তাই আজকের পরিবেশ দিবসে সরকারের কাছে আমাদের দাবি স্থানীয় বাজার এবং দোকান পাট থেকে প্লাস্টিক এবং পলিথিন ব্যবহার নিষিদ্ধ করতে হবে। এবং এর জন্য আইন তৈরি করতে হবে।
কিশোরী কেন্দ্রের পেয়ার লিডার সোহাগি বলেন, যেখানে সেখানে
ইটভাটা তৈরি করা হয়,এই ইট ভাটা থেকে অতিরিক্ত তাপ নির্গত হয়, যা স্থানীয় জলবায়ুকে উত্তপ্ত করে তোলে তাই সরকারের কাছে আজকের এই মানববন্ধনের মাধ্যমে আমরা আহ্বান জানাতে চাই, ইটভাটা গুলো যেন, আবাসিক ও কৃষিজমি থেকে দুরে এবং পরিবেশ বান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহার করে বায়ুদূষণ কমিয়ে ইটভাটা গুলো যেনো স্থাপন করা হয়।

মোঃ উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ন আহবায়ক আবুল বাসার বলেন,

প্লাস্টিকের ব্যবহার ও যেখানে সেখানে ইটভাটা স্থাপনের কারনে পরিবেশ তো দূষণ হয়ে থাকেই, এবং প্লাস্টিকের অবাধ ব্যবহার ও ইটবাটার বিষাক্ত ধোয়ার কারনে পরিবেশ নিয়মিত আজ দূষিত হচ্ছে এবং পরিবেশের ভারসাম্য নস্ট হচ্ছে, তাই খুব শীগ্রই যদি এগুলোর প্রতি সরকার গুরুত্ব প্রদান না করে তাহলে বিশেষ করে আমাদের উপকূলীয় অঞ্চল বসবাস অযোগ্য হয়ে পরবে। তাই আজকের এই মানববন্ধনে আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই বিশেষ করে পরিবেশ অধিদপ্তর ইটভাটা গুলো স্থাপনের জন্য বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করে থাকেন,আর উপজেলা প্রশাসন যেনো বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলে পলিথিন ও প্লাস্টিকের ব্যবহার যেন একেবারেই নিষিদ্ধ করা হয়।
উপজেলা যুবদলের যুগ্ন আহবায়ক আলামিন মোল্লা বলেন,
পরিবেশ দূষণের অন্যতম কারন হলো ইটভাটা
অবৈধ ইটভাটাগুলো পরিবেশগত ছারপত্র ছাড়াই বছরের পর বছর চলছে,আমাদের দশমিনা উপজেলায় প্রায় ৭/৮ টি ইট ভাটা রয়েছে এই ইটভাটা গুলো মারাত্মক ভাবে বায়ুদুষন করছে,জ্বালানি কাঠ হিসাবে স্থানীয় বনগুলো ধ্বংস করেছে।তাই আমি উপজেলা প্রশাসনের কাছে আজকের এই মানববন্ধনের মাধ্যমে এই অবৈধ ইটভাটা গুলো যেনো পরিবেশ অধিদপ্তরের মাধ্যমে তদারকি করা হয় এবং উন্নত মানের কয়লা যেনাে জ্বালানি হিসাবে ব্যবহার করা হয়।
কিশোরী শিক্ষাকেন্দ্রের শিক্ষক মারিয়া বেগম বলেন,
পরিবেশ দূষন থেকে যদি আমরা আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে একটি সুন্দর বসবাস যোগ্য পৃথিবী উপহার দিতে চাই,তাহলে অবশ্যই পলিথিন ও প্লাস্টিকের ব্যবহার নিষিদ্ধ করতে হবে কেননা,এই প্লাস্টিক সামুদ্রিক জীব বৈচিত্র্যকে তো ধ্বংস করেই,সঙ্গে মানবদেহেও অনেক বিরুপ প্রভাব ফেলে,নদীর মাধ্যমে এই প্লাস্টিক বর্জ্য গুলো সমূদ্রে গিয়ে মিশে, সময়ের সাথে সাথে এগুলো মাইক্রো প্লাস্টিকে পরিনত হয়,এসব মাইক্রো প্লাস্টিক সামুদ্রিক জীব বৈচিত্র্য কে ধ্বংস তো করেই সঙ্গে সঙ্গে মানব দেহেও বিরুপ প্রভাব ফেলে এসব মাইক্রো প্লাস্টিক বিভিন্ন মাধ্যমে মাছের পেটে যায়, এসব মাছ তখন মানুষ খাবার হিসাবে গ্রহন করে তখন মানব দেহে ক্যানসারসহ বিভিন্ন রোগ সৃস্টি করে,সম্প্রতি এক গবেষনায় মায়ের বুকের দুধ এমনকি ভ্রনের মধ্যে ও প্রাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া যায়। তাই তিনি বলেন সময় এখন মারাত্মক দূষন ঠেকানোর জন্য সোচ্চার হওয়ার, পরিবেশ দূষন হ্রাস করার জন্য আমাদের উৎপাদন ব্যবস্থা,ভোগ বন্টন, ভোক্তা আচারন ও রাজনৈতিক চিন্তাভাবনার ব্যাপক পরিবর্তন আনতে হবে,
অবশেষে কোস্ট জলবায়ু সক্ষমতা অর্জন প্রকল্পের কিশোরী কেন্দ্রে কিশোরীরা আজকের এই মানববন্ধনের মাধ্যমে তারা উক্ত দাবি গুলো তুলে ধরেন।
১। সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিকের বেআইনি উৎপাদন,বাজারজাত এবং ব্যবহার রোধে বিদ্যমান আইনের কঠোর প্রয়োগ,প্রয়োজনে বিদ্যমান আইন সংস্কার করে শাস্তি