হোসাইন আমির কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি।।
ঈদের ছুটি মানেই আনন্দ, আর প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটানোর অপার সুযোগ। আর সেই আনন্দ যদি মিশে যায় সাগরের ঢেউ, সূর্যোদয় আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সাথে—তাহলে তো তা হয়ে ওঠে এক স্বপ্নময় অভিজ্ঞতা। ঠিক এমনই এক স্বপ্নঘেরা আনন্দময় চিত্র দেখা গেছে পর্যটন নগরী সাগরকন্যা কুয়াকাটায়।
ঈদের টানা ১০ দিনের বিরল অবকাশে কুয়াকাটা সৈকত পরিণত হয়েছে লাখো পর্যটকের এক উৎসবের রঙিন মেলায়। ঈদের চতুর্থ দিন (১০জুন) সকালে থেকেই হাজারো মানুষের ঢল নামে সাগরপাড়ে। পরিবারের সঙ্গে, বন্ধুদের নিয়ে কিংবা প্রিয়জনের হাত ধরে মানুষ ছুটে এসেছে প্রকৃতির পরম ছায়ায় শান্তি খুঁজতে। আর দর্শনার্থীদের প্রাণচাঞ্চল্যে মুখরিত হয়েছে সৈকতের একএকটি প্রান্ত।
লেম্বুর বন, শুঁটকি পল্লি, ঝাউবাগান, গঙ্গামতি কিংবা বৌদ্ধ বিহার—প্রতিটি স্পটেই পর্যটকদের পদচারণায় মুখর। কেউ সাঁতার কাটছেন, কেউ ঢেউয়ের গর্জনে মুগ্ধ, কেউ আবার সূর্যাস্তের রক্তিম আভায় হারিয়ে যাচ্ছেন অন্য জগতে। ছোটরা ঘোড়ার গাড়িতে মেতে উঠেছে আনন্দে, বড়রা ইজিবাইক কিংবা মোটরবাইকে দিচ্ছেন সৈকতভ্রমণ।
পর্যটক পারভেজ (২৩) রাজশাহী থেকে তিনি বলেন “সকালে বন্ধুদের নিয়ে এসেছি কুয়াকাটায়। সাগরের ঢেউয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছি, হাসি-আনন্দে সময়টা যেন স্বপ্নের মতোই কেটেছে।”
মাদারীপুর থেকে দম্পতি জুলহাস আফসানা মিম বলেন, “আমরা প্রায়ই আসি কুয়াকাটায়। সমুদ্রের ধারে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় কিংবা সূর্যাস্ত দেখা—এটা আমাদের কাছে কখনো পুরনো হয় না। এখানকার পরিবেশ মানসিক প্রশান্তি এনে দেয়।”
কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ইব্রাহিম ওয়াহিদ বলেন, “ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে পর্যটকদের সংখ্যা চোখে পড়ার মতো বেড়েছে। আগামী শনিবার পর্যন্ত টানা পর্যটক আমাদের এই কুয়াকাটা থাকবে এমন সম্ভাবনা রয়েছে।
এমন ভিড় আর উৎসবমুখর পরিবেশে নিরাপত্তাও যেন হয় শতভাগ নিশ্চিত।
কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান বলেন, “সৈকতের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ট্যুরিস্ট পুলিশের পাশাপাশি থানা, নৌ ও ডিবি পুলিশও দায়িত্ব পালন করছে। পর্যটকরা নিশ্চিন্তে ও নিরাপদে আনন্দ উপভোগ করতে পারবেন।”