• ২১শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ৭ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকে মারধর, আটক-১

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত জুন ১০, ২০২৫, ১২:১৩ অপরাহ্ণ
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকে মারধর, আটক-১

স্টাফ রিপোর্টার, গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জে কোটালীপাড়া ১০০-শয্যাবিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক অনুপম বাড়ৈকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় সোহেল হাওলাদারকে আটক করেছে পুলিশ।

আজ মঙ্গলবার (১০ জুন) সকালে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে এ ঘটনা ঘটে।

কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ মৃদুল কুমার দাস জানান, ৩/৪ দিন আগে সোহেল হাওলাদার তার গর্ভবতী স্ত্রীকে কোটালীপাড়া ১০০-শয্যাবিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করে। এসময় তার স্ত্রীর গর্ভে তার সন্তান মারা গেছে এমন রিপোর্ট দেয়া হয়। স্ত্রীকে সঠিক চিকিৎসা না দেয়ায় তার সন্তান মারা গেছে এমন অভিযোগ এনে জরুরী বিভাগের দরজা বন্ধ করে চিকিৎসক অনুপম বাড়ৈকে রডের পাইপ দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে কর্মচারীরা দরজা ভেঙ্গে ওই চিকিৎসককে উদ্ধার করে ও অভিযুক্ত যুবক সোহেল হাওলাদারকে আটক করে পুলিশ দেয়। আহত চিকিৎসককে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় হাসপাতালের কর্মচারীরা দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবীতে চিকিৎসা সেবা বন্ধের ঘোষনা দিলে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ মৃদুল কুমার দাসের আশ্বাসের ভিত্তিতে কর্মচারীরা কাজে ফিরে যান।

প্রত্যক্ষদর্শী বদিউজ্জামান বলেন, দেখলাম সোহেল হাওলাদার রুমের মধ্যে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিলো। এরপর ভিতর থেকে চিৎকারে অওয়াজ আসলে কর্মচারীরা দরজা ভেঙ্গে ডাক্তারকে উদ্ধার করে।

তবে অভিযুক্ত সোহেল হাওলাদারের স্ত্রী বলেন, গত বৃহস্পতিবার (২৯ মে) আমি হাসপাতালে ভর্তি হয়। ওই দিও আমার বাচ্চা নড়াচরা করছে। হাসপাতালে আসার পর ডাক্তার খোঁজ করেও পাইনি। পরে নার্সদের বললে তারা বলে স্যাররা কিছু না করলে আম,রা কিছু করতে পারবো না। পরে আমার স্বামী ডাক্তারের হাত-পা জড়িয়ে ধরে কান্নাকাটি করলেও ডাক্তর আসেনি। পরে নার্সরা আমাকে ইনজেকশন দিলে সাথে সাথে জ্বর হয়। পরে ডাক্তার বলে ২/৩ দিন আগে আমার বাচ্চা মারা গেছে। সঠিক চিকিৎসা না দেয়ায় তার সন্তান মারা গেছে।

কোটালীপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে। তারা খোঁজ নিয়ে দেখেছেন ওই যুবকের স্ত্রী প্রসবের ৩/৪ দিন আগেই সন্তান পেটের মধ্যে মারা যায়।#