• ২১শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ৭ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইন্দুরকানীতে ধর্ষণচেষ্টা, সালিশে ৩৫ হাজার টাকায় মীমাংসা টাকা স্থানীয়ভাবে ভাগ করে নেওয়ার কথাও শোনা গেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত জুন ১৫, ২০২৫, ০৪:১২ পূর্বাহ্ণ

পিরোজপুর প্রতিনিধি, ঃ

পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে মানিকগঞ্জের এক তরুণীকে ধর্ষণের চেষ্টার ঘটনায় স্থানীয়ভাবে সালিশে মাত্র ৩৫ হাজার টাকায় মীমাংসা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত রুবেল মৃধাকে জরিমানা করে মুক্তি দিয়েছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য ও চন্ডিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক দুলাল ফকির

মঙ্গলবার (১০ জুন) রাতে ইন্দুরকানী উপজেলার চন্ডিপুর বাজারের একটি ভাড়া বাসায় এই ঘটনা ঘটে। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

স্থানীয়রা বলছে, এমন গুরুতর ঘটনায় সালিশ নয়, আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল।

স্থানীয়রা জানায়, মানিকগঞ্জ থেকে পাথরঘাটার উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়া ওই তরুণী রাত ১২টার দিকে পিরোজপুরে বাস থেকে নামেন। তখন অটোচালক রুবেল মৃধা নিজেকে সাহায্যকারী পরিচয় দিয়ে তরুণীকে তার বাসায় নিয়ে যান। সেখানে নিয়ে গিয়ে রাত ২টার দিকে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায় রুবেল। তরুণীর চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে।

পরদিন সকালে ইউপি সদস্য দুলাল ফকির সালিশ বসিয়ে রুবেলের কাছ থেকে ৩৫ হাজার টাকা আদায় করে বিষয়টি মীমাংসা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই টাকা স্থানীয়ভাবে ভাগ করে নেওয়ার কথাও শোনা গেছে। তবে সালিশের পর থেকে ওই তরুণীর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

ঘটনার একটি ভিডিওতে তরুণী জানান, রুবেল তাকে বাসায় নিয়ে গিয়ে আশ্বাস দেয় পরিবারের লোকজন আছে। কিন্তু বাসায় কাউকে না দেখে সে ভয় পায় এবং দরজার পাশে বসে থাকে। পরে রুবেল জোর করে অনৈতিক কাজের চেষ্টা করলে সে পালানোর চেষ্টা করে এবং চিৎকার করে।

ইউপি সদস্য দুলাল ফকির সাংবাদিকদের বলেন, “আমি ঘটনাটি জানার পর মীমাংসা করেছি। মেয়েটিকে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে যে ছেলের বাড়িতে যেতে চেয়েছিল সেখানে পৌঁছে দিয়েছি।”

তবে প্রতিবেদক তার সঙ্গে কথা বলতে চাইলে দুলাল ফকির নানা সময় নানা অজুহাতে এড়িয়ে যান এবং তরুণীর অবস্থান সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেন।

অভিযুক্ত রুবেলের বাবা ইউনুস মৃধাও সালিশে টাকার বিনিময়ে মীমাংসার কথা স্বীকার করেছেন।

চন্ডিপুর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল হাই জোমাদ্দার বলেন, “ঘটনা শুনেছি। প্রমাণ পেলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উপজেলা নেতাদের জানানো হবে।”

চন্ডিপুর ইউপি চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মঞ্জু বলেন, “ঘটনা সম্পর্কে লোকমুখে শুনেছি, তবে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি।”

ইন্দুরকানী থানার ওসি মো. মারুফ হোসেন বলেন, “এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে আপোষের সুযোগ নেই। লিখিত অভিযোগ পেলে অবশ্যই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপ ও তরুণীর নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানাচ্ছে এলাকাবাসী।