• ২১শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ৭ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বেতাগীতে মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করেন ভাতাবঞ্চিত প্রশিক্ষণার্থীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত জুন ৫, ২০২০, ১০:৩৩ পূর্বাহ্ণ
বেতাগীতে মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করেন ভাতাবঞ্চিত প্রশিক্ষণার্থীরা

সৈয়দ নূর-ই আলম, বেতাগী(বরগুনা)প্রতিনিধি:

বেতাগী উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা কর্তৃক সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘন করে বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণ নিতে আসা প্রশিক্ষণার্থীদের ভাতা প্রদানে নয়-ছয় করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ৫২ কর্মদিবস মেয়াদী প্রশিক্ষনের ভাতা নিজের ইচ্ছে মতো রেজিষ্টার তৈরী করে কর্তন করেছেন বলে একাধিক ভূক্তভোগী অভিযোগ করেন। ফলে প্রশিক্ষণে ভর্তি ইচ্ছুকদের আগ্রহ কমে যাচ্ছে ও অপরদিকে ভাতাবঞ্চিত হচ্ছেন প্রশিক্ষণ নিতে আসা সাধারণ মানুষ।
জানা গেছে, বরগুনার বেতাগী উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার অফিসে জানুয়ারী-মার্চ এর মধ্যে বিভিন্ন ট্রেডে ৫২ কর্মদিবস মেয়াদী কারিগরি প্রশিক্ষনের জন্য দর্জি ট্রেড ,ব্লক বাটিক ও বিউটিশিয়ান ট্রেডে মোট ৭৫ জনকে জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রশিক্ষনের ভাতা বাবদ ব্লক বাটিক ট্রেডে ৬০০০টাকা, দর্জি ট্রেডে ৬৩০০ টাকা, বিউটিশিয়ান ট্রেডে ৬০০০ টাকা দেয়ার কথা থাকলেও বিভিন্ন সময়ে অনপুস্থিত দেখিয়ে ভাতা কর্তন করেন শাহিনুর বেগম।
গত ৪জুন বৃহস্পতিবার এসব প্রশিক্ষণার্থীদের ভাতা প্রদানের কথা থাকলেও বেতাগী উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মোসাঃ শাহিনুর বেগম ভাতা প্রদানে নিজের ইচ্ছে মতো অনপুস্থিত দেখিয়ে ভাতার টাকা কর্তন শুরু করে। এসময়ে ভাতাবঞ্চিত একাধিক মহিলা তার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কক্ষে অবরুদ্ধ করেন। এমন পরিস্থিতিতে প্রশিক্ষন কর্মসূচি ও ভাতা প্রদান কমিটির সভাপতি বেতাগী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাদের সম্পূর্ণ ভাতা প্রদানের আশ্বাস দিলে শান্ত হন।
ব্লক বাটিক ট্রেডের প্রশিক্ষণার্থী সালমা,কবিতা দর্জি ট্রেডের প্রশিক্ষণার্থী ফারজানা ও বিউটিশিয়ান ট্রেডের প্রশিক্ষণার্থী নাসিমা আক্তার বলেন, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা প্রত্যেকটা প্রশিক্ষণের নাম দেয়া থেকে শুরু করে ভাতা প্রদানকালে উৎকোচ গ্রহন করে থাকে। এছাড়াও এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একাধিকবার দূর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে সংবাদ প্রকাশ হলেও তদন্ত আসলে টাকা দিয়ে ধামাচাপা দিচ্ছেন এই কর্মকর্তা।
উপজেলার বাসিন্দা মো. কামাল খান বলেন, এমন ঘুষ নেয়ার জন্যই তাকে এর আগে একবার এখান থেকে বদলি হতে হয়েছিল। কিন্তু পূণরায় একই কর্মস্থলে আসলো কিভাবে আমরা বুঝিনা।
এ বিষয় উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শাহিনুর বেগমের সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করতে চাইলে তিনি বার বার ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।
বেতাগী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাজিব আহসান বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পরে করনোার প্রভাবে স্থগিত করা ৮ কর্মদিবসের ভাতা রাখা ও পরবর্তিতে সেই প্রশিক্ষন নেয়ার জন্য বলা হয়েছে এবং বাকি কর্মদিবসের ভাতার সম্পূর্ণ অর্থ প্রদান করা হয়েছে।