• ২৩শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ৯ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার করোনা জয় : কর্মস্থলে যোগদান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত জুলাই ২২, ২০২০, ১১:৫১ পূর্বাহ্ণ
বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার করোনা জয় : কর্মস্থলে যোগদান

বানারীপাড়া প্রতিনিধি
বরিশালের বানারীপাড়ায় করোনা জয় করে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার এস.এম কবির হাসান কর্মস্থলে যোগদান করেছেন। তিনি দীর্ঘ দিন ধরে নিজ বাসায় আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন থাকার পর সোমবার সকাল ৮টায় বানারীপাড়া উপজেলা ৫০ শয্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদান করেণ।
এর পূর্বে তিনি করোনা প্রতিরোধে এ উপজেলার মাঠ পর্যায়ে এক জন সম্মূখ যোদ্ধা হিসেবে কাজ করতে গিয়ে করোনয় আক্রান্ত হন। করোনায় আক্রান্ত বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার এস.এম কবির হাসান জানান, করোনা প্রতিরোধে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশের পর তিনি এলাকার সকল মানুষকে সুস্থ রাখার জন্য তার অধিনস্থ স্বাস্থ্য কর্মীদের নিয়ে মাঠ পর্যায়ে জনসচেতনতা মূলক প্রচার প্রচারনা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন এলাকায় করোনার উপসর্গ থাকা রোগীদের বাড়িতে গিয়ে ও কর্মস্থলে বসে নমূনা সংগ্রহ করাসহ তাদের চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছিলেন। তার এ চিকিৎসা-সেবা দেয়ার সময় তিনি যে কোন ভাবে করোনায় আক্রান্ত হন। সে অনুযায়ী তিনি ১৩ জুন কর্মস্থলে থাকা অবস্থ্যায় করোনা সন্দেহে নিজের নমূনা সংগ্রহ করে টেস্ট রিপোর্টের জন্য বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। এ দিন তিনি উর্ধতন কর্তৃপক্ষ এবিষয়টি জানিয়ে নিজ বাসায় আইসোলেশনে চলে যান। সেখানে থাকা অবস্থায় প্রথমে তার শরীরে জ¦র আসার পাশাপাশি খাবারে অরুচি, মাথা ও গলা ব্যাথা, কাঁসি এবং বমি হতে থাকে। তার এ অবস্থা চলার তিন দিন পর এক মাত্র শিশু কন্যা জারিন হাসান (৫) জ¦রে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এর দু’দিন পর তার স্ত্রী লায়লা আনজুমান ও এক মাত্র ছেলে জাওয়াদ হাসান (৯) জ¦রে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ অবস্থায় তিনি নিজের ও স্ত্রী সন্তানদের চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছিলেন। তিনি অসুস্থ অবস্থায় তার সহকর্মী ডাক্তার ও আত্মীয় স্বজনদের মাধ্যমে ফার্মাসী থেকে ঔষধ কিনে এনে নিজের ও স্ত্রী সন্তানদের চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছিলেন। তিনি দীর্ঘ দিন ধরে স্বপরিবারে করোনায় আক্রান্ত হয়ে বরিশালের নিজ বাসায় আইসোলেশনে থাকার সময় তাকে অনেক কষ্ট ও অসহনীয় যন্ত্রণা শ^য্য করতে হয়েছিল। তিনি শারিরীক ভাবে সুস্থ হয়ে ওঠার পাশাপাশি তার ও স্ত্রী লায়লা আনজুমান এবং তার এক মাত্র শিশু কন্যা জারিন হাসান ও ছেলে জাওয়াদ হাসান (৯) এর দ্বিতীয় টেস্ট রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। সম্প্রতি বরিশাল শেবাচিম হাসপাতল থেকে তাদের ওই চার জনের দ্বিতীয় টেস্ট রিপোর্ট নেগেটিভ আসার পর তিনি নিজ বাসায় ১৪ দিন ধরে হোমকোয়ারেইন্টেনে ছিলেন। এর পর তিনি সোমবার সকাল সাড়ে ৮টায় কর্মস্থলে যোগদান করেণ বলে স্বপরিবারে করোনা জয় করে আসা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার এস.এম কবির হাসান জানান। তিনি আরও জানান, করোনা সন্দেহে এ উপজেলায় মোট ২০৬টি নমূনা সংগ্রহ করে টেস্ট রিপোর্টের জন্য বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে পাঠানো হয়। এর মধ্যে ৩৯ জনের টেস্ট রিপোর্ট পজিটিভ আসলেও তার মধ্যে এপর্যন্ত ২৪ জন সম্পূর্ন সুস্থ হয়েছেন। এছাড়া ১৫ জন নিজ বাসায় আইসোলেশনে রয়েছেন বলেও ডাক্তার কবির হাসান জানান।