ইতালি প্রতিনিধিঃ
ইতালির রোমে বাংলাদেশ দূতাবাসের আয়োজনের বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুনন্নেছা ও বঙ্গবন্ধু পুত্র বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ কামালের জন্মদিনে বিশেষ প্রামাণ্য চিত্র ও আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভার শুরুতে তাদের প্রতিকৃতিতে পুষ্প অর্পন করেন বাংলাদেশ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত আব্দুস সোবহান সিকদার। দূতাবাসের প্রথম সচিব এম এ সায়েম এর পরিচালনায় রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর প্রদত্ত বানী পাঠ করেন দূতাবাসের কাউন্সিলর ইরফানুল হক,শেখ সালেহ আহমেদ। এ সময় বক্তব্য রাখেন ইতালি আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজী মোঃ ইদ্রিস ফরাজী,সাধারণ সম্পাদক হাসান ইকবাল।
ইতালিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের মান্যবর রাষ্ট্রদূত আবদুস সোবহান সিকদার তাঁর বক্তব্যের শুরুতে ১৫ আগস্টে বঙ্গবন্ধু এবং তাঁর পরিবারের সদস্যসহ যাঁরা শাহাদাত বরণ করেছেন, তাঁদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। রাষ্ট্রদূত জানান বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব- এর ৯০ তম জন্মবার্ষিকী ৮ আগস্ট এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ শেখ কামাল এর ৭১তম জন্মবার্ষিকী হচ্ছে ৫ আগস্ট। দুই জনের জন্মবার্ষিকী কাছাকাছি হওয়ায় দূতাবাস একসাথে পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। রাষ্ট্রদূত আবদুস সোবহান সিকদার বলেন, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব এর অবদান বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং বাঙালির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি শুধু জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহধর্মিণী ছিলেন না, বাঙালি মুক্তিসংগ্রামে তিনি ছিলেন অগ্রদূত। মান্যবর রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন, বঙ্গমাতা তাঁর অসাধারণ বুদ্ধিমত্তা, দূরদর্শিতা, সাহস ও মনোবল দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে এবং বিজয়ের পরে দেশ গঠনে বঙ্গবন্ধুর একজন যোগ্য ও বিশ্বস্ত সহচর হিসেবে অনন্য ভূমিকা পালন করেছিলেন। স্বাধীনতার পর তিনি নিজ উদ্যোগে নির্যাতিত নারীদের জন্য গড়ে তোলেন নারী পূণর্বাসন কেন্দ্র। রাষ্ট্রপতির সহধর্মিনীর হয়েও তিনি সহজ-সরল জীবন যাপন করতেন। সেজন্য গণভবনের পরিবর্তে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের নিজেদের বাড়িতে বসবাস করতেন।বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ শেখ কামাল সম্পর্কে মান্যবর রাষ্ট্রদূত বলেন, শেখ কামাল ছিলেন বঙ্গন্ধুর সুযোগ্য পুত্র। তিনি ছিলেন বহুগুণে গুনান্বীত। এ বীর মুক্তিযোদ্ধার যেমনি ছিল একজন সুযোগ্য নেতার সকল বৈশিষ্ট্য, তেমনি তিনি ছিলেন বাংলাদেশের আধুনিক ক্রীড়া ও সংস্কৃতি আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ। আলোচনা সভাব শেষে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব, শেখ কামাল ও বঙ্গবন্ধু পরিবারের প্রয়াত সকল সদস্যদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ, ইতালি প্রবাসী সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং কন্স্যুলার সেবা গ্রহণে আসা প্রবাসী বাংলাদেশী ব্যক্তিবর্গ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।