নলছিটি উপজেলার দপদপিয়ায় মেহেদি সিকদার নামে এক জেলেকে দা দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত করেছে যুবলীগ নেতা বিল্লাল মীর ও তার বাহিনীর সহযোগী সন্ত্রাসীরা।
গত বুধবার রাত ৯ টায় কুমারখালী নরোত্তমপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আহত মেহেদী ওই এলাকার জেলে মকবুল শিকদারের ছেলে।
বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
হামলায় আহতের মাথার উপর দায়ের কোপে মারাত্মক আঘাত হয়। তাছাড়া এলোপাতাড়ি হামলায় তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম রয়েছে।
তবে অবস্থার অবনতি হওয়ায় গতকাল বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগ থেকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।
অভিযুক্ত বিল্লাল দপদপিয়া ইউনিয়ন ৪ নং ওয়ার্ডের যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং ৩ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা রুস্তম মীরের ছেলে।।
আহতের স্বজন ইমরান সিকদার জানান, কিছুদিন পূর্বে জেলে কার্ড করিয়ে দেওয়ার নামে মেহেদী শিকদারের কাছ থেকে আট হাজার টাকা উৎকোচ নেয় বিল্লাল মীর।
দীর্ঘ দিন অতিবাহিত হলে মেহেদি জেলে কার্ড চায় বিল্লাল এর কাছে।
কিন্তু বিল্লাল কার্ড না দিয়ে তালবাহানা শুরু করে দেয়।
কার্ড না দিয়ে উল্টো মেহেদিকে অনৈতিক কাজের প্রস্তাব দেয় বিল্লাল।
অভিযোগ রয়েছে বিল্লাল একজন মাদক ব্যবসায়ীর গডফাদার। যুবলীগের অন্তরালে বিভিন্ন লোক দিয়ে মাদক কেনাবেচা করেন।
মেহেদী বিষয়টি বুঝতে পারে তা প্রত্যাখ্যান করে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানালে বিল্লাল বাহিনী আরো ক্ষিপ্ত হয়ে যায়।
মেহেদির স্বজনরা আরো জানান, বিল্লাল মীর একজন নব্য আওয়ামী লীগ। এবং বর্তমান চেয়ারম্যানের অনুসারী হওয়ায় ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে দপদপিয়া এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছে। অনেকের কাছ থেকে জেলে কার্ডের মত অনেক কিছু করিয়ে দেওয়ার নামে চাঁদাবাজি বাণিজ্য করে বিল্লাল।
ঘটনার দিন রাত ৯ টায় জেলে কার্ড নিয়ে মেহেদির সাথে বেল্লাল মীরের দ্বন্দ্ব হয়।
এরই জের ধরে একপর্যায়ে বিল্লাল মীর, তার ছোট ভাই জেলাল মীর সহ ৭-৮ জন সন্ত্রাসী পরিকল্পিতভাবে দা দিয়ে কুপিয়ে মেহেদী কে রক্তাক্ত করে,
তাকে বাঁচাতে-স্বজন ইমরান সিকদার আসলে তার ওপরও হামলা চালায় বেল্লাল সহ অন্যান্য সন্ত্রাসীরা।
স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে তাৎক্ষণিক মেহেদী হাসানকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
সেখানে মেহেদির পরীক্ষা-নিরীক্ষার সিটি স্ক্যান রিপোর্ট মারাত্মক সমস্যা দেখায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
এ ব্যাপারে নলছিটি থানার অফিসার ইনচার্জ সাখাওয়াত হোসেন জানান অভিযোগ পেয়েছি তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।