• ২১শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ৭ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

১৯ বছর বয়সি করোনা যোদ্ধা কোভিড প্রিন্স

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত অক্টোবর ৩০, ২০২০, ০০:৪৩ পূর্বাহ্ণ
১৯ বছর বয়সি করোনা যোদ্ধা কোভিড প্রিন্স

শেখ সুমন : এ বছরের মার্চের শেষ, পৃথিবিতে নেমে আসে মহামারী করোনা ভাইরাসের ব্যাপক বৃদ্ধি। পৃথিবীকে যেন একদম নিস্তব্ধ করে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে পৃথিবীর দরজায় এসে হাজির হয়েছে কোভিড – ১৯ নামক করোনা ভাইরাস। সমগ্র পৃথিবীর প্রতিটি দেশের সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশকে ও যেন তুলোধোনা করার পরিকল্পনায় ছিল করোনা ভাইরাস। এপ্রিলের শুরু থেকে এ দেশকে একদম শেষ করে দিতে চেয়েছিল করোনা।কিন্তু, করোনার লাগাম টেনে ধরেন কিছু অকুতোভয় বীর যোদ্ধাগন।

বরিশাল শের-এ বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনার শুরু লগ্নে হিমশিম খেতে হয় চিকিৎসকদের। একমাত্র নমুনা পরীক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন ল্যাব-টেকনিশিয়ান বিভুতী ভূষন। কিন্তু তিনিও যখন প্রতিদিন যুদ্ধ করে যাচ্ছেন, ঠিক তখন ই তাকে সহযোগীতা করতে শের-এ বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চলে যান ১৯ বছর বয়সী মোঃ প্রিন্স মুন্সি।

জমজম ইনষ্টিটিউট বরিশাল এর আইএইচটি অনুষদের ল্যাবরেটরি মেডিসিন শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী প্রিন্স। ঠিকানা বরিশাল সিটি কর্পোরেশনাধীন ০৫ নং ওয়ার্ডের মহম্মদপুরে। বাবা, মা আর এক ভাই তার। ছোট বেলা থেকেই মানুষের সেবা করতে চেয়েছিলেন প্রিন্স।আর তাই তো এস.এস.সি পরীক্ষা শেষ করে অনেক সুযোগ থাকার পরেও আইএইচটিতে পড়াশোনা করার স্বিদ্ধান্ত নেন।

গত মার্চে যখন দেশে প্রকট হারে বৃদ্ধি পেতে থাকে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা,শেবাচিমহা তে যখন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট বিভূতি ভুষন একা হিমশিম খাচ্ছে এত রোগী নিয়ে ঠিক তখন ই একদিন স্বেচ্ছায় নিজে মেডিকেলে চলে যান প্রিন্স মুন্সি। দেখা করেন ডা. আশিক দত্ত ও ডা. মলয় কৃষ্ণ বড়ালের সাথে। তাদের কাছে গিয়ে বলেন নিজের ইচ্ছার কথা। তারা যানতে চান, এই বয়সে কেন জীবনের ঝুঁকি নিবে? একটাই উত্তর – মানুষের সেবা করে মারা গেলে নিজেকে ধন্য মনে করবো।

অবশেষে শেবাচিমহা এর পরিচালক ডা. বাকির হোসেন এর অনুমতি মিলে। করোনার নমুনা সংগ্রাহক হিসেবে মিলে অস্থায়ী নিয়োগ। সেই থেকে পথচলা শুরু। করোনায় আক্রান্ত রোগীদের নমুনা সংগ্রহ থেকে শুরু করে করোনা সন্দেহে মৃত্য রোগীদের নমুনা সংগ্রহ করে প্রিন্স মুন্সী। দীর্ঘ ০৬ মাস যাবৎ ২৪ ঘন্টা করোনা আক্রান্ত ও সন্দেহ ভাজন রোগীদের সেবা নিশ্চিত করে আসছে প্রিন্স মুন্সী। শেবাচিমহা এর করোনা ইউনিটের ৫ম তলায় বানিয়ে ফেলেছেন নিজের ঘড়।থাকা খাওয়া সব ই এখন হাসপাতালে। ২৪ ঘন্টায় যখন তখন ডাক আসে প্রিন্সের। রাতে যখন ই একটু ক্লান্ত শরীর নেমে আশে বিছানায়, হয়তো তখন বেজে ওঠে ফোন। কোন এক রোগী মারা গিয়েছে এখন ই নমুনা নিতে হবে। ঘুম চলে যায়। তারপর ও শান্তি। এখন পর্যন্ত একাই প্রায় সাড়ে তিন হাজার নমুনা সংগ্রহ করেন। দীর্ঘ ২ মাস বিভূতি ভূষন আর প্রিন্স চালিয়ে গিয়েছে তাদের যুদ্ধ। তাদের সাথে জুন মাসে যুক্ত হন আরো ৪ জন করোনা যোদ্ধা। যারা সকলেই পরিচালকের অনুমতির মাধ্যমে অস্থায়ী নিয়োগে কাজ করে যাচ্ছেন।