বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) ৫৮ জন স্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারী গত সেপ্টেম্বর মাস থেকে বেতন পাচ্ছেন না। কী কারণে তাদের বেতন বন্ধ রাখা হয়েছে, এ-সংক্রান্ত কোনো চিঠিও দেওয়া হয়নি। বিসিসি সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটিতে স্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা ৩২৬ জন। গত ২৮ অক্টোবর ওই ৫৮ জন বাদে অন্যদের সেপ্টেম্বর মাসের বেতন দেওয়া হয়। এরপর থেকে নানা মাধ্যমে তারা জানতে পেরেছেন, তাদের আর বেতন দেওয়া হবে না। বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে বিসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাইল হোসেন কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।\হবেতনবঞ্চিতরা বিসিসির প্রথম নির্বাচিত মেয়র মজিবর রহমান সরোয়ারের (বর্তমানে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব) সময়ে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। ওয়ান ইলেভেন-পরবর্তী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় তারা চাকরিচ্যুত হলেও আইনি লড়াইয়ে ফের চাকরি ফিরে পান। হঠাৎ করে কেন তাদের বেতন বন্ধ করে দেওয়া হলো, সুনির্দিষ্টভাবে কেউ বলতে পারছেন না।\হবেতনবঞ্চিত এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমাদের বেতন দেওয়া হয়নি। কিন্তু আমরা অফিসে সঠিক সময়ে আসছি কিনা, কাজ করছি কিনা, তা অন্যদের চেয়ে বেশি নজরদারি করা হচ্ছে।’ তিনি ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, আমাদের অপরাধ কী। চাকরি আছে না নেই সেটাও চিঠি দিয়ে জানানো হচ্ছে না। সংশ্নিষ্টরা কেউ এ বিষয়ে মুখ খুলছে না।\হবেতনবঞ্চিত একাধিকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০০৩ সালে নির্বাচিত বিসিসির প্রথম মেয়র মজিবর রহমান সরোয়ার ১২১ জনকে অস্থায়ী নিয়োগ দেন। নিয়োগ প্রক্রিয়াটি বৈধ না হওয়ার অজুহাতে ওয়ান ইলেভেন-পরবর্তী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় সবাইকে চাকরিচ্যুত করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। ওই আদেশের বিরুদ্ধে তারা উচ্চ আদালতে মামলা করে জয়ী হন। ২০০৮ সালে নির্বাচিত দ্বিতীয় মেয়র আওয়ামী লীগের শওকত হোসেন হিরণ (প্রয়াত) উচ্চ আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করলে চাকরিচ্যুতরা আর যোগদান করতে পারেননি। ২০১৩ সালের তৃতীয় নির্বাচনে বিএনপির আহসান হাবিব কামাল জয়ী হয়ে মেয়রের দায়িত্ব নেওয়ার পর উচ্চ আদালতের আপিল প্রত্যাহার করে বিসিসি। এরপর ১২১ জনের মধ্যে ৭৯ জন বিসিসিতে যোগদান করেন।\হতারা আরও জানান, বিগত মেয়র কামাল ৭৮ জনের মধ্যে ৫৮ জনকে স্থায়ী নিয়োগ দিয়ে রাজস্ব খাতভুক্ত করেন। ওই সময় তাদের স্থায়ী নিয়োগের বৈধতা জানতে চেয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে বিসিসিতে শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। ৫৮ জন শোকজ নোটিশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে রিট করেন। আদালত ছয় মাস করে কয়েক দফায় এবং পরবর্তী সময়ে স্থায়ীভাবে শোকজ নোটিশের ওপর স্থগিতাদেশ দেন। এরপর তারা নির্বিঘ্নে আন্যদের মতো সুযোগ-সুবিধা নিয়ে চাকরি করছিলেন। বেতন বন্ধের বিষয়ে বিসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) স্বপন কুমার দাস বলেন, কারও বেতন বন্ধ হয়েছে কিনা জানি না। এ-সংক্রান্ত কোনো চিঠি পাইনি।
সূত্র : সমকাল