বানারীপাড়া প্রতিনিধি
বানারীপাড়ায় এক বিধোবাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করার পাশাপাশি অন্তসত্তা হওয়ার তিন মাস পর গর্ভপাত ঘটানোর অভিযোগে ধর্ষক মটরসাইকেল মেকার মো.মজিবর মল্লিক ও স্বামীকে অনৈতিক কাজে সহায়তাকারী স্ত্রী জুলেখার বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টায় উপজেলার ভিকটিম (৩৫) বাদী হয়ে বাইশারী বাজারের মটরসাইকেল মেকার ও ধর্ষক মজিবর মল্লিক (৪৫) ও স্বামীকে অনৈতিক কাজে সহাতা করার পাশাপাশি বিধোবার গর্ভপাত ঘটানোর অভিযোগে তার স্ত্রী জুলেখা বেগমকে আসামী করে থানায় এ মামলা দায়ের করেণ।
থানার অফিসার ইনচার্জ মো.হেলাল উদ্দিন এ মামলাটি তদন্ত করে আসামীকে গ্রেফতার পূর্বক প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ইন্সেপেক্টর (তদন্ত) মো.জাফর আহম্মেদকে নির্দেশ দেন। সে অনুযায়ী মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ইন্সেপেক্টর (তদন্ত) মো.জাফর আহম্মেদ ওই রাত সাড়ে ৯টার দিকে ভিকটিমকে চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালের ওসিসিতে প্রেরণ করেণ এবং এর ১ ঘন্টার মধ্যে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার বাইশারী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ধর্ষক মজিবর মল্লিককে গ্রেফাতার করেণ।
পরদিন ভিকটিমকে বরিশাল ষেবাচিম হাসপাতালে ডাক্তারী পরীক্ষা সম্পন্ন করেণ এবং ধর্ষক মজিবর মল্লিককে কোর্ট হাজতে প্রেরণ করেণ। এছাড়া ওই মামলায় অভিযুক্ত মজিবর মল্লিকের স্ত্রী জুলেখা বেগম পালাতক রয়েছেন বলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জানান।
এব্যাপারে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ইন্সেপেক্টর (তদন্ত) মো.জাফর আহম্মেদ জানান, ২০২০ সালের ৪ ডিসেম্বর রাতে উপজেলার বাইশারী বাজারের মটরসাইকেল মেকার মো.মজিবর মল্লিক (৪৫) এক বিধোবাকে (৩৫)’র ঘরে প্রবেশ করে জোর পূর্বক ধর্ষণ করে।
পরে মজিবর মল্লিক ওই বিধোবার অন্তসত্যা হয়ে পড়ার তিন মাস পর জানতে পেরে তার স্ত্রী জুলেখা বেগমকে দিয়ে গর্ভপাত করার ষড়যন্ত্র করেণ। স্বামীর পরামর্শ অনুযায়ী স্ত্রী জুলেখা বেমগ ২ মার্চ (চলতি মাসের) ওই বিধোবার গর্ভপাত ঘটানোর জন্য উপজেলার বাইশারী বাজারের পল্লি চিকিৎসক মো. তোফাজ্জেল হোসেন ও পাশর্^বর্তী অপর একটি ফার্মাসী থেকে পৃথক ভাবে ঔষধ কিনে আনেন।
পরে তারা ওই বিধোবাকে বাড়িতে ডেকে এনে বাজার থেকে কিনে আনা সেই ঔষধ জোর করে খাইয়ে দেন। এর পর থেকে ওই বিধোবা তার বাড়িতে অসুস্থ হয়ে পড়লে মজিবর মল্লিক ও তার স্ত্রী তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তিনি ৪ দিন পরে বরিশাল শেবাচিম হাসপালে দু’দিন ধরে চিকিৎসাধীন ছিলেন। পরে ভিকটিম সেখান থেকে কিছুটা সুস্থ্য হয়ে বাড়ি ফিরে থানায় এসে ধর্ষক মজিবর মল্লিক ও তার স্ত্রী জুলেখা বেগমের বিরুদ্ধে একিটি মামলা দায়ের করেণ।