• ২১শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ৭ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নারী দিবস নিয়ে কিছু কথা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত মার্চ ১৫, ২০২১, ১৭:১৮ অপরাহ্ণ
নারী দিবস নিয়ে কিছু কথা

আমরা সবাই সমাজের মধ্যে, সর্বোপরি নারীদের সমাজের একঘরে করে রাখার জন্যই বেঁচে থাকতে হবে এমনি ধারনা আমাদের সমাজে সংসারের কিন্তু এই সমাজের অন্ধ ধারণা কে পাল্টে দিয়ে আজ নারীরা বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাড়াতে পারছে,আজ নারীরা শুধু ঘরে ই নয় বাইরে ও সমান তালে তাল মিলিয়ে চলছে, নারীর ক্ষমতায়ন শুধু রাজনৈতিক ভাবে সবার চোখে পরে যায়, আজ আমাদের বাংলাদেশ নিয়ন্ত্রণ করছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আজ নারীরা তাদের পরিবার থেকে বেরিয়ে।এসে এই সমাজ সংসারকে দেখিয়ে দিয়েছে যোগ্যতা কি নারীরাও পারে।নারীরা নিজের অবস্থান সিদ্ধান্ত সবটাই তুলে ধরতে পারছেন এখন, নারীর ক্ষমতায়নই হচ্ছে অর্থনৈতিক উন্নয়ন, রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তন এর চাবিকাঠি।
আমাদের এই বাংলায় নারীদের জাগরণ শুরু হয় বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের হাত ধরে ।
এরপর আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালি নারীদের ক্ষমতায়নের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন । ১৯৬৭ সালে মহিলা লীগ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নারীদের মূলধারার রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করার সুযোগ করে দিয়েছিলেন ।আজ নারীদের এগিয়ে নেওয়ার জন্য বিভিন্ন সেক্টর এ নারীদের পদচারণা হচ্ছে, অর্থনৈতিক ভাবে তৈরি পোশাক শিল্প সহ আরে অনেকে বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠানে এখন শ্রমিক হিসেবে ও মাধ্যম হিসেবে কাজ করছেন । নারীরা শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিক হচ্ছেন পরিচালিত হচ্ছে নারীদের ক্ষমতা দ্বারা আজকে নারীরা প্রশাসনিক ভাবে ও যে কতটা উর্ধে সেটা বিভিন্ন ক্যাডারে ক্যাডার হওয়া থেকে সম্পূর্ণ পরিষ্কার, ইউ এন ও, ডিসি, এডিসি, সচিব সব সেক্টরে নারীদের ক্ষমতায়ন আজ, যেটা এক সময়ে ছিল “ঘরবন্দী নারী তোমরা বাইরে কেনো যাও” আর আজ তো নারী এগিয়ে চলছে নিজের আপন মহিমায় । নারীদের আজকের এই অবস্থানে পৌঁছাতে অনেক আন্দোলন-সংগ্রাম করতে হয়েছে যার শুরু হয়েছিলো নারী শ্রমিকের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দে মজুরিবৈষম্য, কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট করা, কাজের অমানবিক পরিবেশের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের রাস্তায় নেমেছিলেন সুতা কারখানার নারী শ্রমিকেরা। সেই মিছিলে চলে সরকার লেঠেল বাহিনীর দমন-পীড়ন। ১৯০৯ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি নিউইয়র্কের সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট নারী সংগঠনের পক্ষ থেকে আয়োজিত নারী সমাবেশে জার্মান সমাজতান্ত্রিক নেত্রী ক্লারা জেটকিনের নেতৃত্বে সর্বপ্রথম আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলন হলো। ক্লারা ছিলেন জার্মান রাজনীতিবিদ; জার্মান কমিউনিস্ট পার্টির স্থপতিদের একজন। এরপর ১৯১০ খ্রিস্টাব্দে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলন। ১৭টি দেশ থেকে ১০০ জন নারী প্রতিনিধি এতে যোগ দিয়েছিলেন। এ সম্মেলনে ক্লারা প্রতি বৎসর ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালন করার প্রস্তাব দেন। সিদ্ধান্ত হয় ১৯১১ খ্রিস্টাব্দ থেকে নারীদের সম-অধিকার দিবস হিসেবে দিনটি পালিত হবে। দিবসটি পালনে এগিয়ে আসে বিভিন্ন দেশের সমাজতন্ত্রীরা। ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দ থেকে বেশ কয়েকটি দেশে ৮ মার্চ পালিত হতে লাগল। বাংলাদেশেও ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে স্বাধীনতার লাভের পূর্ব থেকেই এই দিবসটি পালিত হতে শুরু করে। অতঃপর ১৯৭৫ খ্রিস্টাব্দে ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রদান করা হয়। দিবসটি পালনের জন্য বিভিন্ন রাষ্ট্রকে আহ্বান জানায় জাতিসংঘ। এরপর থেকে সারা পৃথিবী জুড়েই পালিত হচ্ছে দিনটি নারীর সমঅধিকার আদায়ের প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করার অভীপ্সা নিয়ে। সারা বিশ্বের সকল দেশে যথাযথ মর্যাদায় পালিত হয় আন্তর্জাতিক নারী দিবস। তাই বিশ্বের সকলের সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের ইয়ুথ ফোরাম ফর সোশ্যাল জাস্টিস নারীদের উন্নয়ন, নারী পুরুষ সমান অধিকার আদায়, নারীদের বৈষম্য দূরীকরণ, বাল্যবিবাহ রোধ ইত্যাদি বিষয়ে কাজ করে যাচ্ছে । এরই প্রতিরূপ হিসেবে আমরা তুলে ধরছি বরিশাল সরকারি মহিলা কলেজের ২২ বছর বয়সি তানজিলা আহমেদ কে যিনি নারী অধিকার আদায়ের জন্য ইয়ুথ ফোরাম ফর সোশ্যাল জাস্টিস এর সাথে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে ২০১৮ সাল থেকে কাজ করছেন ।