স্টাফ রিপোর্টার :
ওসির দৃষ্টি আকর্ষন করে পটুয়াখালীর দশমিনায়
নাবিলা সুলতানা নামে এক তরুণী শিক্ষার্থী
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভিডিও
আপলোড করে আত্মহত্যার হুমকি দিয়েছেন।
ভালোবেসে পালিয়ে বিয়ে করায় বাবার করা মিথ্যা
অপহরন মামলা তুলে নিতে শুক্রবার বিকালে প্রেমিকের
ফেসবুক আইডি থেকে ৪৩ সেকেন্ডের একটি
আত্মহত্যার হুমকির ভিডিও আপলোড করেন ওই
তরুণী। একই সাথে নিজেকে নির্যাতনের একটি
ভিডিও আপলোড করেন তিনি। প্রেমিকের আইডি
থেকে আত্মহত্যার ভিডিও আপলোডের বিষয়টি
যুগান্তরের কাছে নিশ্চিত করেছেন নাবিলা।
আপলোড করা ভিডিওতে শিক্ষার্থী নাবিলা দশমিনা
থানার ওসির দৃষ্টি আকর্ষন করে বলেন, গত ২৭ তারিখ
সন্ধ্যায় তিনি বাসা থেকে নিজের স্ব-ইচ্ছায়
পালিয়ে যান। পরে তিনি প্রেমিক মিরাজুলকে বিয়ে
করেন। এটা তার মা-বা মানতে না পেরে স্বামী
মিরাজুল,শ^শুড়,শ^াশুড়ি ও ননদকে মিথ্যা অপহরন মামলা
দেয় এবং টর্চার করা হয়। তারা পুরাই নির্দোষ (শ^শুড়
বাড়ির লোকজন)। তাদের কোন দোষ নেই। সুতরাং ২৪
ঘন্টা সময় দিলাম। ২৪ ঘন্টার মধ্যে মামলা-মোকদ্দমা
উঠান নাইলে আমি আত্মহত্যা করবো। আমার মৃত্যুর
জন্য আমার মা-বাবা,আমার ফ্যামিলি এবং যারা এ
কেসের (মামলা) জড়িত তারা দায়ী।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওই তরুণীর বাড়ি দশমিনা
উপজেলা সদরের পুজাখোলা এলাকায়। তিনি ওই এলাকার
নজরুল ইসলামের কন্যা ও বেগম আরেফাতুন্নেছা
বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এসএসসি পরিক্ষার্থী।
ডিভিওটি ফেসবুকে আপলোড হওয়ার পর
যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে নাবিলা তার
প্রেমিক মিরাজুলের ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারের মাধ্যমে
অডিও,ভিডিও ও চ্যাটিংয়ের মাধ্যমে অভিযোগ করে
জানান, তার এলাকা পূজাখোলার জলিল সরদার বাড়ির
আব্দুর রব সরদারের ছেলে মিরাজুলের সাথে প্রায় ৩ বছর
আগে প্রেমের সম্পর্ক হয় তার। পরে গত ২৮ এপ্রিল
তারা পালিয়ে বিয়ে করেন। কিন্তু মিরাজুলের পরিবার
অস্বচ্ছল হওয়ায় তার মা-বাবা বিষয়টি সহজভাবে
মেনে না নিতে পেরে তার স্বামীসহ শ^শুর বাড়ির
লোকজনের নামে আপহরনের মামলা করেন এবং নাবিলা ও
তার স্বামী মিরাজুলকে নির্যাতন করা হয়। পুলিশ
মামলার পরে তার শ^াশুড়ি ও ননদকে থানায় ধরে নিয়ে
গিয়ে আবার ছেড়ে দেন। নাবিলা সুলতানার দাবি
তার বয়স ১৮ বছর ও তার প্রেমিক মিরাজুলের বয়স ২১
বছর।
নাবিলা সুলতানা ননদ মোসা. খাদিজা জানান,
শুনেছি নাবিলা ও মিরাজুল বিয়ে করেছে। নাবিলার
পরিবার থানায় অভিযোগ করেছে। পুলিশ আমাদের
বুধবার ধরে নিয়ে যায় ও বৃহস্পতিবার দুপুরে ছেড়ে
দেয়।
এ বিষয় নাবিলার বাবা নজরুল ইসলামের কাছে ফোন
করা হলে তিনি কোন সদোত্তর দেননি।
দশমিনা থানার ওসি মো. জসিম জানান, মেয়ের বয়স
১৮ এর কম,মেয়ের বাবা ছেলে (মিরাজুল) ও তার
ভগ্নিপতির বিরুদ্ধে অপহরন মামলা করেছে। মেয়ে
যদি এসে বলে আমি স্বেচ্ছায় গিয়েছি,আমাকে
অপহরন করে নেয়নি। সেক্ষেত্রে আমরা বিষয়টি
দেখবো।###